08/03/2026
চাকরির জন্য যারা বিদেশে যেতে চাচ্ছেন তারা হয়ত প্রথমেই টার্গেট রাখেন ইউরোপ, যেখানে গেলেই লক্ষ টাকার বেতন, আর বিদেশ থাকার এক মনোরম পরিবেশের শান্তি।
কথাটা সত্য যদি সেটা নতুন কোন ইউরোপের দেশ হয়ে থাকে যেখানে এখনও বাঙ্গালির খুব বেশি পদার্পণ পরেনি তাহলে।
বরাবরই সৌখিন জাতি হিসেবে আমাদের প্রথম উদ্দেশ্যই থাকে কোন প্রকার যোগ্যতা ছাড়াই বড় বেতনের আরামের চাকরি। অথবা ঘরে বসেই আরাম করা চাকরি যার বেতন একা একাই ঘরে হেঁটে হেঁটে ঢুকে যাবে। তবে ভাই বাস্তবতা অনেক ভিন্ন, এমনকি ভাত ছিটানোর পরে কাঁ কাঁ না করলে দেখবেন কাঁকও আসে না।
যাইহোক আসল কথায় আসি, ইউরোপ যেতে সময় লাগে ১/১.৫ বছর কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে, যদি হিসাব চান তবে সে হিসাবও মিলিয়ে দেয়া যাবে, এরপরেও কথা হলো ভিসা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তার উপরে হতে হবে আপনাকে রীতিমতোই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক, যে কাজে যাচ্ছেন তার উপরে। তবে এতগুলো সমস্যা পেরিয়ে যার ইউরোপ যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে তারা আগে পছন্দ করতে পারেন মিডেল ইষ্ট, যা হতে পারে আপনার ইউরোপ যাওয়ার প্রথম ধাপ।
কারণগুলো হলো:
১. অভিজ্ঞতা ছাড়া যেয়ে কিছু বছর বিদেশের মাটিতে পা রাখলেন মিডেল ইষ্টে,
২. বিদেশে টিকে গিয়েছেন সারভাইব করে সেটার প্রমাণও হয়ে গেলো,
৩. একটা নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা পেলেন যা আপনার সিভিটাকে ভারি করে দিবে,
৪. খরচ তুলনামূলকভাবেও কম, এছাড়া এ্যাম্বাসি আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি ও এ্যাটাচটেশন ওখাণ থেকেই সম্ভব,
৫. বিদেশি লোকজনের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন, এমনকি ইংরেজি ও আরব ভাষা জানা যা আপনার সিভিকে আরও উন্নত করে তোলে,
৬. মিডেল ইষ্ট থেকে ইউরোপে ঢোকা সহজ হয়ে যায় অনেকাংশেই,
৭. দেশের অরাজকতা শেষ হয়ে যাবে, আবার ইউরোপের কাজ হবে ভালো, এ আশায় আশায় সময় নষ্ট না করা,
৮. জীবননের যৌবন বসে/ অপেক্ষায় না কিটিয়ে, কাজে ব্যবহার করা,
৯. কম খরচ এবং ইনকামের পথ থাকার জন্য নিজের খরচে নিজেই ইউরোপ যেতে পারা, অর্থাৎ, কৈ মাছের তেঁলে কৈ মাছ ভাজার উদাহরণ,
১০. কাজে বিদেশ থাকাকালীন সময়ে বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে উত্তর বার বার না দেওয়া যে, বিদেশে যাওয়ার গতি কতটুকু,
আর যদি ভালো কাজে উঠে যেতে পারেন তাহলে যে বেতন পাবেন তাতে আপনার টাকা থাকবে বেশি কারণ মিডেল ইষ্টে খরচ কম, তখণ দেখবেন ঐ দেশই ভালো লাগবে, কারণ আর যাইহোক অন্তত প্রতিদিন আযানতো শুনতে পারবেন। ইউরোপ যেতে না করছি না, তবে আপনাকে বাস্তব চিত্র দেখাচ্ছি। কারণ স্বপ্ন যতই বড় হোক, দিন শেষে টাকাই সব নাটের গুরু।
আর ইউরোপের যে দেশেই যাবেন, যাওয়ার আগে ভালো করে দেখেশুনে যাবেন, কারণ যাওয়ার ২ বছর পরে যদি জানতে পারেন যে ১৫/২০ বছর পর আপনার সিটিজেনশিপ হবে, আর আপনার বয়স যদি এখণ হয় ৪০/৪২ বছর তাহলে পুরো প্রজেক্টটাই লস। তাই যে দেশ আপনার ভবিষ্যৎ ভালো নিশ্চিন্ত করবে ঐ দেশে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের পরিচয় হবে। অর্থাৎ, নিজেকে আর দেশটাকে একসাথে প্যারালালভাবে গবেষণা করে তারপর আগাবেন।
আশা করি কথাগুলো মাথায় থাকবে/ ঢুকবে, যারা বুঝবেন তারা। তবে আমি বরাবরই আপনাদের
কথাগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া/ জানা, যারা আমার গ্রামের ভাই-বোনেরা আছেন কিংবা যাদের আত্মীয়রা থাকেন তাদেরকে বোঝানোর জন্যই এতগুলো কথা বলা।
ধন্যবাদ,
আসফিক ইসলাম
ডিরেক্টর, অলিভ ওভারসিজ প্রাঃ লিঃ
আর. এল. নং: ১৬৯২