04/08/2026
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা কনটেইনারের বুকিং ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো। এতে রপ্তানিকারক ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আমদানিকারক, বায়িং হাউস, শিপিং এজেন্ট ও রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে বুকিং নেওয়া হলেও লিড টাইম (ক্রয়াদেশ থেকে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত সময়) তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি ফ্রেইট রেটও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহনে এক মাস আগে যেখানে প্রতি কনটেইনারের ফ্রেইট রেট ছিল ৪ হাজার ৫০০ ডলার, তা এখন ১১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, মেইনলাইন অপারেটর (এমএলও) হিসেবে পরিচিত শিপিং কোম্পানিগুলো ফ্রেইট রেট বাড়ানোর জন্য কনটেইনারের জায়গার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
এক মাসে ফ্রেইট খরচ দ্বিগুণ
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়িং হাউস লিয়াং ফ্যাশনের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিস যুক্তরাষ্ট্রগামী পোশাপণ্যবাহী ১০টি কনটেইনারের বুকিং নিশ্চিত করতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করছে। তারা হ্যাপাগ-লয়েড ও এমএসসিসহ বেশ কয়েকটি এমএলওর সঙ্গে যোগাযোগ করেও বুক দিতে পারেনি।
গত সপ্তাহে এমএসসি ইমেইলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে জানায়, 'দুঃখিত, বর্তমানে আমরা আপনার বুকিং গ্রহণ করতে পারছি না। আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য আমাদের জাহাজগুলো পুরোপুরি বুক হয়ে গেছে।'
লিয়াং ফ্যাশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এমএলওগুলোতে বুকিং দিতে না পারায় তাদের প্রায় ১০টি কনটেইনার জমে যায়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি রেটে বুকিং দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'এক মাস আগেও নিউইয়র্কগামী একটি কনটেইনারের জন্য দিতে হতো ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলার, এখন দিতে হচ্ছে ১১ হাজার ৪০০ ডলার। আমাদের কনটেইনারগুলো ক্রেতাদের কাছ পৌঁছাতে প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি দেরি হবে। এই ঘটনা আমাদের পরবর্তী অর্ডার পাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি আমাদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।'
লিয়াং ফ্যাশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী বেশিরভাগ কনটেইনারের ক্ষেত্রেই বুকিং পেতে দেরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ফ্রেইট রেট গুনতে হচ্ছে।
রপ্তানিমুখী কনটেইনার বুকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান কনভেয়র লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির আহমেদ জানান, এক মাস আগেও জার্মানির হামবুর্গে যে কনটেইনার বুকিংয়ে ২ হাজার ৫০০ ডলারে দিতে হতো, এখন দিতে হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন সতর্ক করে বলেন, এই ব্যাঘাত দেশের রপ্তানি খাতকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের রপ্তানি এমনিতেই চাপে আছে। নতুন এই সংকট দেশের রপ্তানিমুখী কনটেইনারের ট্রানজিট টাইম আরো বাড়িয়ে দেবে। ফলে রপ্তানিতে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।'
তবে কতজন রপ্তানিকারক বা কতগুলো কনটেইনার এই সমস্যায় পড়েছে, অথবা এতে কী পরিমাণ অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো শিল্প সংগঠনই সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
Collected......