21/08/2024
ঘোষক কে,জাতির পিতা কাকে বলে:
মো: কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ
সম্পাদক ও প্রকাশক
আজকের দৈনিক....
"""""""""""""""""""""""""''''''''''''""""""""""""""""""""""""""
বিষয়টি কি এরকম নয়-
প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া চলছে। তো এমতাবস্থায় পরিবারের এক সদস্য বললেন,"তোমাদেরকে দেখে নেবো,আমরা তোমাদের থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে ওয়াল দিয়ে দেবো"।
একথা বলার কিছুদিন পরই পরিবারের ওই সদস্য প্রতিবেশী ওই শত্রুপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে অন্তরালে চলে গেলেন। পরিবারের বাকী সদস্যদের মধ্যে চলছে দুশ্চিন্তা ও ভীতি।গোটা পরিবার দিকভ্রান্ত ও বিভ্রান্ত। এমতাবস্থায় পরিবারের আরেক সদস্য জানবাজি রেখে ঘোষণা দিয়ে সবাই মিলে লড়াই করে নিজেদের অনেক ত্যাগ ও ক্ষয়ক্ষতির পর সীমানা উদ্ধার করে একসময় ঠিকই দেয়াল দিয়ে দিলেন।
এখানে কার বেশী কৃতিত্ব রইলো?
৭ মার্চে শেখ মুজিব বক্তব্যে বললেন," এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
এতেই স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে গেলো? যখন এটাই মুজিবের শেষ কথা হবে তখন ৭ মার্চ থেকে ২৫ শে মার্চ পযর্ন্ত এই ১৮ দিন দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে নিজের একক স্বার্থের দেনদরবার কেন চলতে থাকলো পাকিস্তানী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে? কেন ব্রিফকেস নিয়ে ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের আগেই রাত ১০ টা বাজতে না বাজতেই আত্মসমর্পণের জন্যে রেডি হয়ে থাকলেন? কেন তাজ উদ্দিন যখন বললেন," ভাই,আপনি চলে গেলে দেশের কি হবে,অন্তত ঘোষণাটা দিয়ে যান"-তখন মুজিব কেন বললেন," যে যেদিকে পারো চলে যাও,অমনিতেই ৭ মার্চের ভাষণে কি বলতে কি বলে ফেলেছি,বুঝলামনা;আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতেও পারে"।
কেন মুজিবের পরিবার (বেগম মুজিব, হাসিনা, রেহানা সহ) যুদ্ধের প্রতিমাসে পাকিস্তানী টাকায় ১৬০০ রুপিয়া পাবে এবং কেন তাদের দেখভাল,চিকিৎসা,ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী?
আওয়ামীলীগ আত্মসমর্পণ স্বীকার করতে চায়না।তারা বলে মুজিব গ্রেফতার হন,গ্রেফতার হলে কি এতো সুযোগ সুবিধা দেয়া সম্ভব? কেউ দেবে এমন?১৭ জুলাই যুদ্ধকালেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম এবং তা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর তত্বাবধানেই। সন্তানসম্ভবা শেখ হাসিনাকে একদিকে ডাক্তার দেখাচ্ছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী,অপরদিকে একই সময়ে বাংলাদেশীদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে এবং বাংলাদেশীদেরকে মারছেপাকিস্তানী সেনাবাহিনী! কী বৌপরিত্ব্য,না!শর্তে এবং চুক্তিপত্রে যদি মুজিব আত্মসমর্পণ না করেন, তবে কেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এতো গরজ দেখাবে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেখভালে?
শেখ মুজিবকে খুন করা হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট।
অনেকদিন অতিবাহিত হবার পর জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট হলেন, প্রেসিডেন্ট হয়েই আওয়ামীলীগের আমু,তোফায়েল,রাজ্জাকদের দিয়ে হাসিনাকে বাংলাদেশে আনলেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুবাদে হাসিনাকে রাজনীতি করতে দিলেন এবং হাসিনার যাবতীয় সুবিধা দিলেন এবং সভা সমাবেশ করার অধিকার দিলেন। দেশে এসেই হাসিনা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে যখন পা ছুঁয়ে সালাম করতে যাচ্ছিলেন তখন খালেদা জিয়া জড়িয়ে ধরে বললেন,পায়ে নয়,আমার বুকেই তোমার স্থান।
হাসিনা তখন বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করতে থাকলো। কোনো ভাষণেই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি কথা ও কখনো বলেননি তখন।
হাসিনাকে দেশে আনার মাত্র ১৩ দিন পর জিয়াউর রহমান শহীদ হন।অনেকেই বলেন এই হত্যা ভারত করিয়েছে যাতে হাসিনা ও জড়িত। যুক্তি হিসেবে বলেন তারা জিয়াউর রহমান খুন হবার কিছুক্ষণ পরেই কেন বোরকা পড়ে ভারত সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে ধরা পড়বেন শেখ হাসিনা?
যাক, অনেক পানি গড়ালো গঙ্গা যমুনায়। অনেককাল পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলো। ব্যাস, শুরু হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে কুৎসা রটনা।
"জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নয়, জিয়া যুদ্ধ ও করেনি,জিয়া বরং পাকিস্তানের চর"-আরো কত কি।
অনেকেই বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনে একটা বড় ভুল আছে এবং সেটা হলো রাজনৈতিক ভুল। আর ওই ভুলটা হলো শেখ হাসিনার মতো প্রতিহিংসার ঘৃণিত নারীটিকে বাংলাদেশে আনা এবং রাজনীতি করার অধিকার দেয়াটা।
শেখ মুজিবের যৎসামান্য নামদাম যা ছিলো সেটাকে জাতির হৃদয় থেকে মুছে দিয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনা।
হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর বডিগার্ড মুজিবকে জাতির পিতা বানাতে গিয়ে হাসিনা মুছতে চেয়েছে সরওয়ার্দী,মাওলানা ভাসানী,তাজ উদ্দিন,জিয়াউর রহমানের সহ সব বাংলার বাঘদেরকে। কারো জন্ম মৃত্যুতে হাসিনা ও তার আওয়ামীলীগ কখনো একটি বিবৃতি দেয়নি বরং অপমানজনক কথা বলেছেন তাদের নিয়ে।
একারণেই আজ মুজিবের নাম নিশানাও দেখতে চাচ্ছেনা এই জাতি।
ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক মানে সবাই। পাকিস্তানে কায়েদ এ আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির জনক মানে সব দলের মানুষ। একমাত্র বাংলাদেশে মুজিবকে আওয়ামীলীগ ছাড়া কেউ জনক মানেনা। কেননা জাতির জনক হতে কায়েদ এ আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মহাত্মা গান্ধীর মতো ত্যাগী ও মহৎপ্রাণ মানুষ হতে হয়। মুজিব কি তাই ছিলো? তবুও মানুষ মুজিবকে মোটামুটি এদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একজন মনে করতো। কিন্তু বিগত ১৬ বছর ধরে অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি মুজিব প্রচার এবং মুজিবকে নবী পযর্ন্ত বানিয়ে ফেলার হাসিনা ও আওয়ামীদের অপকৌশলকে জাতির শিশুটিও ধিক্কার জানাবার ঘৃণা জন্মে।
২০ আগস্ট।
মঙ্গলবার।