24/12/2019
ঘুরে এলাম পৃথিবীর এক সপ্তাশ্চর্য। দ্য গ্রেট ওয়াল অব চায়না বা চীনের মহাপ্রাচীর।
সমগ্র পৃথিবীতে গ্রেট ওয়াল নামে পরিচিত। এটিই মানুষের হাতে তৈরি সবচেয়ে বড় স্থাপত্য। উচ্চতায় প্রায় ৫ থেকে ৮ মিটার উঁচু এই প্রাচীরটি। আর লম্বায় প্রায় ৬৫৩২ কি.মি.! আক্রমণকারীদের দূরে রাখা এবং সামরিক অনুপ্রবেশ ঠেকানোই ছিল এ বিশাল প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্য। এই দেয়াল নির্মাণ করার প্রকল্পটি পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল এক প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামরিক অবকাঠামোও এটি।
এখন এটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। গত ১১ জুন বেইজিং হয়ে ঘুরে এলাম চীনের মহাপ্রাচীর। রবিবার চীনে সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় দিনটিকে বেছে নেওয়া।
বেইজিং থেকে বিভিন্ন কার বা বাস রয়েছে, যারা আপনাকে গ্রেট ওয়াল ঘুরিয়ে আনার সমস্ত আয়োজন করতে সক্ষম। বাসের ক্ষেত্রে খরচের আইডিয়া এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। প্রাইভেট কারে গ্রেট ওয়াল পর্যন্ত যাওয়া-আসা, ক্যাবল কারসহ গ্রেট ওয়ালে প্রবেশ ফি মিলিয়ে কোথায় কত কি সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে রাখছি।
চীনে ড্রাইভারেদের বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সেখানে যুক্ত হয়ে আপনি প্রয়োজন মতো গাড়ি বুকিং দিতে পারবেন। যদি বেইজিং থেকে গ্রেট ওয়ালের বাডালিং পয়েন্ট ঘুরে আসতে চান, দুজনের খরচ ১ হাজার ইয়েন বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ হাজার টাকা প্রায়। ৮ ঘণ্টার জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া ৬০০ ইয়েন, ক্যাবল কার এবং প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০০ ইয়েন।
ভূপৃষ্ঠ থেকে গ্রেট ওয়ালের সর্বোচ্চ চূড়া প্রায় ৮৮৮ মিটার। এর মধ্যে কিছু পথ ওঠা যায় ক্যাবল কারে। অবশ্য আপনি চাইলে পুরোটা পথ হেঁটেই উঠতে পারেন।
আমরা ক্যাবল কারেই উঠেছিলাম। বাকি পথ হেঁটে। সিঁড়িগুলো এমনভাবে নির্মিত, খুব একটা কঠিন মনে হয় না।
একদম চূড়ায় উঠে যাওয়ার পর আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। শীতল হাওয়া এসে শরীর মন ছুঁয়ে দেয়। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সঙ্গে হাল্কা বাতাস। সবমিলিয়ে অন্যরকম পরিবেশ। এবারের চীন সফরে ভিন্নমাত্রা গ্রেট ওয়াল ঘুরে দেখা। বিস্ময়কর এক নির্মাণের স্বাক্ষী হয়ে এলাম।