02/05/2026
থাইল্যান্ডে হার্বাল মেডিসিনের ভয়াবহ স্ক্যাম থেকে সাবধান!
পৃথিবীর জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর মতো থাইল্যান্ডেও রয়েছে স্ক্যাম। বিশেষত ব্যাংকক, পাতায়া এবং ফুকেটের পথগুলোতে ঘুরে বেড়া স্ক্যামাররা। এখন কথা বলবো হার্বাল মেডিসিনের স্ক্যাম নিয়ে।
ব্যাংককের সুকুমভিত, প্রাতুনাম, ফুকেট এবং পাতায়ার বীচ রোডে হাঁটার সময় কিছু অপরিচিত মুখ দেখবেন সালাম দিবে। এদের প্রায় ৯৫ ভাগই পাকিস্তানি। বেশ গুড লুক নিয়ে থাকবে। সালামের পর আপনি কথা বলার জন্য দাড়ালেই ফেঁসে যাবেন।
আপনার মাথায় চুল কম থাকলে বা ভুড়ি থাকলে এরা আঙুল দিয়ে দেখাবে। এরপর বলবে তারও এমন ছিল। ধরেন মাথায় চুল কম। বলবে, আমারও চুল কম ছিল। এরপর তার সঙ্গে যেয়ে বিশেষ তেল বা ওষুধ কেনার অফার দিবে।
এই বিশেষ মিশ্রনটা আবার বানাতে হয়। আপনাকে নিয়ে আশপাশের 7/11 থেকে একটা নারিকেলে তেল কিনবে। এমনভাবে আচরন করবে যেন আপনার আপন ভাইও আপনার প্রতি এমন যত্ন কোনদিন করেনি! এরপর বলবে তুমি কোন চিন্তা করবা না আমি সব টেক কেয়ার করবো।
অনেক ভিক্টিম আমাকে বলেছে, তারা বুঝতে পারছিল একটা ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে সে। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছিল না। ওই ব্যক্তিকে হুবহু অনুসরন করছিল।
কোন ধরনের পারফিউম বা গ্যাস হয়তো এরা ব্যবহার করে যা মানুষের নিয়ন্ত্রন কেড়ে নেয়।
এরপর সেই তেল নিয়ে এই ধরনের কোন একটা দোকানে যাবে। সেখানে অন্য কোন ওষুধের সঙ্গে এটা মিশিয়ে ব্যবহার করতে বলবে। নিজেই ব্যবহার করিয়ে দিবে।
এরপর বলবে এক ফাইলের দাম ৩০-৪০ হাজার বাথ। যা বাংলা টাকায় ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা
অনেকেই এই দাম দিয়ে কিনে নিয়ে আসে। হোটেলে ফেরার পর বুঝতে পারে কি ভুল করেছেন! কিন্তু তখন সেই দোকানে গেলে বলে, আগে ব্যবহার করেন। পরে কাজ না হলে টাকা ফেরত পাবেন। আসলে সেখানে তখন বিদেশি হিসেবে কিছুই করার থাকে না।
আবার যদি কিছু দামাদারি করে তাহলে ১০ হাজার বাথের ধরা খায়। দোকানদার আবার বলে, এখনতো ওষুধ মিশিয়ে ফেলেছি। নিতেই হবে। একসময় ওরা ভয়ভীতি দেখানো শুরু করবে। না নিয়ে তখন উপায় নেই।
কোথায়:
সুকুমভিত ৩, সুকুমভিত ৭/১, সুকুমভিত ১৩ সহ বেশ কয়েকটি গলিতেই রয়েছে এসব দোকান। ছবির এই দোকানটি সুকুমভিত ৩ এ। এছাড়া প্রাতুনাম এলাকাতেও রয়েছে।
করনীয়: ধরা খাওয়ার চেয়ে সচেতনতা জরুরী। অপরিচিত কেউ সালাম দিয়ে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যাবেন। সালামের উত্তরও দেয়ার দরকার নেই। চোখে চোখ পড়লে যদি বলে, ভাই মুসলিম? সেটারও জবাব না দিয়ে সোজা হাঁটবেন।
এরপরও বিরক্ত করলে ধমক দিবেন। এরা ধমক দিলে আর কাছে আসবে না।
যদি ধরা পড়ে যাচ্ছেন বুঝতে পারেন। চিৎকার করে সরে যেতে বলবেন। নিজের নিয়ন্ত্রন ধরে রাখবেন।
প্রতারিত হলে করনীয়:
শুধু ব্যাংকক না। পাতায়াতেও এ ধরনের হার্বাল ওষুধের স্ক্যাম রয়েছে। সুকুমভিতে ধরা পড়ে বুঝতে পারলে নিকটস্থ লুমপিনি থানায় চলে যাবেন। সেখানে পুলিশ রিপোর্ট করলে পুলিশ আপনাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসে টাকা উদ্ধা করে দিবে।
তবে সবসময় এই সময় বা পুলিশের সময় পাওয়া যায় না। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের মতো কাজ।