26/02/2026
বিদেশে যেতে চান? ভিসা হচ্ছে না, বারবার reject হচ্ছে?
স্বপ্ন দেখেছিলেন বিদেশে যাবেন।
ভালো চাকরি হবে। ভালো বেতন। পরিবারকে ভালো রাখবেন।
কিন্তু-
ভিসার জন্য apply করলেন। Reject.
আবার apply করলেন। আবার reject.
একবার, দুইবার, তিনবার...
লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। দালাল ধরেছেন। টাকা নিয়ে গায়েব। ইন্টারভিউতে গিয়েছেন। কিছু হয়নি।
আপনি হয়তো ভেবেছেন-"হয়তো আমার ভাগ্যে বিদেশ নেই... হয়তো কখনো যেতে পারব না... হয়তো সারাজীবন এই দেশেই আটকা থাকব।"
কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনি জানেন-এভাবে চলতে থাকলে স্বপ্ন মরে যাবে, টাকা শেষ হয়ে যাবে, বয়স বেড়ে যাবে, সুযোগ হাতছাড়া হবে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন-"যে আল্লাহর উপর ভরসা করে সফর করে, আল্লাহ তার পথ সহজ করে দেন।"
মানে, বিদেশ যাওয়া শুধু কাগজপত্র আর টাকার ব্যাপার না। আল্লাহর ইচ্ছাও লাগে। আর তাঁর কাছে চাইতে হবে।
সফরের জন্য কুরআনের সূরা
কুরআনে একটা সূরা আছে যা সফরকারীদের জন্য বিশেষ-সূরা কাহফ
এই সূরায় আছে মুসা (আ.) এর সফরের গল্প। তিনি খিজির (আ.) এর সাথে সফর করেছিলেন। দীর্ঘ পথ। কঠিন পথ। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করেছেন।
এই সূরায় আছে জুলকারনাইনের সফরের গল্প। তিনি পূর্ব- পশ্চিম সব জায়গায় সফর করেছেন। আল্লাহ তাঁর পথ খুলে দিয়েছেন।
নবীজি (সা.) বলেছেন-"যে জুমার দিন সূরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মাঝে নূর হবে।"
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৮০৯
মানে এই সূরা পড়লে আল্লাহ পথ আলো করে দেন। সফর সহজ হয়। ভিসার পথ খুলে যায়।
সফরের জন্য দোয়া
নবীজি (সা.) যখন সফরে বের হতেন, তখন একটা দোয়া পড়তেন-
اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফার, ওয়াল খলিফাতু ফিল আহল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি সফরে আমার সাথী এবং পরিবারে আমার প্রতিনিধি।
- – সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৪২
ভিসা interview বা embassy-তে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়বেন। আল্লাহ আপনার সাথে থাকবেন।
কিভাবে আমল করবেন?
শুধু apply করলেই হবে না। আল্লাহর কাছেও চাইতে হবে। সূরা কাহফ পড়তে হবে।
১. প্রতি জুমায় সূরা কাহফ পড়ুন
জুমার দিন-সকালে অথবা জুমার নামাজের পর শান্তভাবে বসে পুরো সূরা কাহফ পড়ুন।
যদি পুরোটা পড়তে না পারেন, তাহলে অন্তত প্রথম ১০ আয়াত এবং শেষ ১০ আয়াত পড়ুন।
নবীজি (সা.) বলেছেন-"যে সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।"
– সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৮০৯ -
এটা ৭ জুমা টানা করুন। মানে ৭ সপ্তাহ।
২. ভিসা interview-এর আগে দোয়া পড়ুন
Embassy বা interview-এ যাওয়ার আগে ৩ বার পড়ুন:
"বিসমিল্লাহ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ"
(আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর উপর ভরসা করলাম)
তারপর বলুন-"হে আল্লাহ, আপনি আমার পথ সহজ করে দিন। ভিসা পেতে সাহায্য করুন।"
৩. তাহাজ্জুদে কান্না করে চান
রাতে ২-৩টার দিকে উঠে ২ রাকাত নামাজ পড়ুন। সিজদায় গিয়ে নিজের ভাষায় কান্না করে বলুন-
"হে আল্লাহ, আমি বিদেশ যেতে চাই। পরিবারকে ভালো রাখতে চাই। কিন্তু ভিসা হচ্ছে না। আপনি আমার পথ খুলে দিন।"
৪. সদকা করুন
যতটুকু পারেন, প্রতিদিন একটু একটু সদকা করুন। গরিব- মিসকিনকে খাবার দিন। এতিমদের সাহায্য করুন।
নবীজি (সা.) বলেছেন-"সদকা বিপদ দূর করে।"
– সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৮৮ -
সদকা করলে আল্লাহ আপনার ভিসার পথ খুলে দেবেন।
৫. ইস্তিখারা করুন
বিদেশ যাওয়ার আগে ইস্তিখারা করুন। কারণ হয়তো বিদেশ আপনার জন্য ভালো না। অথবা এখন সময় না।
ইস্তিখারা করলে আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন। যদি বিদেশ ভালো হয়, পথ খুলে যাবে। যদি খারাপ হয়, আটকে যাবে।
৬. ধৈর্য ধরুন
ভিসা একবারে না হলেও ধৈর্য ধরুন। হতাশ হবেন না।
দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার চেষ্টা করুন। আর প্রতিবার আল্লাহর কাছে চান।
মনে রাখবেন
মুসা (আ.) যখন মাদিয়ানে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি দোয়া করেছিলেন—
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
- সূরা কাসাস: আয়াত ২৪
এই দোয়া করার পর আল্লাহ তাঁর জন্য কাজ, বিয়ে, নিরাপত্তা- সব ব্যবস্থা করে দিলেন।
ইউনুস (আ.) মাছের পেটে দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে মুক্ত করলেন। ইউসুফ (আ.) জেলে বন্দী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে মিসরের মন্ত্রী বানালেন।
মানে, আল্লাহ চাইলে অসম্ভবও সম্ভব। আপনার ভিসাও হবে, ইনশাআল্লাহ।
- সংগৃহিত