27/08/2026
নবিজির শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। এই কিছুক্ষণ আগেই যখন আলী রা. দেখে গেলেন, তখনও বেশ সজীব ছিলেন। কথাবার্তা বললেন।
◑ দুপুরের পর থেকেই দ্রুত অবনতি। কয়েকবার সংজ্ঞা হারালেন। শেষ মুহূর্তের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। বার বার বলছেন : “নামায... নামায... আর দাসদাসী..(এগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিও তোমরা)। কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসছে।
◑ চোখ মেললেন বহুকষ্টে। তাজা মিসওয়াক দেখে চেয়ে রইলেন। আম্মাজান আয়েশা বুঝতে পেরে মিসওয়াক নিয়ে চিবিয়ে নরম করে পবিত্র হাতে তুলে দিলেন। ভালো করে মিসওয়াক করলেন। ফিরিয়ে দিতে গিয়ে হাত কেঁপে পড়ে গেল।
◑ প্রতি মুহূর্তে বেড়ে যাচ্ছে কষ্ট। পাশেই রাখা পানির পাত্র। বার বার হাত ভিজিয়ে চেহারায় নিচ্ছেন। বললেন : “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ... নিঃসন্দেহে মৃত্যুর কষ্ট সত্য। মৃত্যুর এই কষ্টে আমাকে সাহায্য করুন, আল্লাহ!”
◑ বাবার এই কষ্ট দেখে ফাতিমা রা. ফুঁপিয়ে উঠলেন : “হায় আমার আব্বাজানের কতো কষ্ট!” ক্ষীণস্বরে হাবীব বললেন : “মা গো! আজকের পর থেকে তোর বাবার আর কোনো কষ্ট নেই।” আরো কয়েকবার জ্ঞান হারালেন।
◑ ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি। উপরে হাত বাড়িয়ে বিড়বিড় করে বললেন : “আল্লাহুম্মা রফীকিল আ‘লা... ফী রফীকিল আ‘লা... ফী রফীকিল আ‘লা (পরম বন্ধুর পানে)।” হাত পড়ে গেল জমিনে।
◑ উমর ইবনুল খাত্তাব খাপ থেকে তরবারি বাগিয়ে চিৎকার করে উঠলেন :
“নবিজি তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেছেন। যেমন মুসা আ. গিয়েছিলেন তুর পাহাড়ে। আল্লাহর কসম তিনি জীবিত। যে মুনাফিক বলবে, তিনি মারা গেছেন, হাত-পা কেটে নেবো তার।”
◑ আবু বকর রা. যোহরের পর নবিজি থেকে অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে, মদিনার বাইরে। খবর শুনে ফিরে এলেন। ঢুকলেন হুজরায়। চাদর সরিয়ে হাবীবের কপালে চুমু খেলেন। টপ টপ করে পানি পড়ে পোশাক ভিজে যাচ্ছে। সাহাবিদের প্রিয় কথাটুকু উচ্চারণ করলেন শেষবার :
“ফিদাকা আবী ওয়া উম্মী। আমার বাবা-মা আপনার ওপর কুরবান হোক। আপনি জীবিত অবস্থায় যেমন সর্বোত্তম ছিলেন, মৃত্যুতেও সর্বোত্তম।”
◑ একদিন পর -
ফজরের আজান ভেসে এলো মসজিদ থেকে -
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” পর্যন্ত এসে বিলাল রা. আর সামনে এগোতে পারলেন না।
নেই, তিনি নেই। ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন।
“হাইয়া আলাস সালাহ” ডেকে গেল কান্নার আড়ালে। সবাই নিজের পরাণখানি মাটিচাপা দিয়ে এসেছে। বুক ফাঁকা। শূন্য দৃষ্টি। ফাতিমা রা. কাঁদছেন আর বলছেন :
“আনাস! তোমার পক্ষে কী করে সম্ভব হলো, তুমি তোমার রাসূলকে মাটিচাপা দিয়ে রেখে এলে?”
Shamsul Arefin Shakti ভাইয়ের পরানবন্দী বই থেকে।
হে উম্মতি মুহাম্মাদ , কাকে হারালাম আমরা! কাকে হারালাম আমরা!
আমরা তার রেখে যাওয়া আমানতের কদর করলাম তো!
কি জবাব দিবো তার কাছে! তার শাফায়াত কপালে জুটবে তো! তিনি আমাদের ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দিবেন না তো!
আল্লাহুম্মা সল্লী আ'লা মুহাম্মাদ, ওয়ালা আ'লি মুহাম্মাদ।
©️©️