31/01/2014
আমরা আর কোন সাইক্লিস্টকে হারাতে চাই না, দেখতে চাই না আর কোন পরিবারের হাহাকার। হারাতে চাই না লিমন, শিশির বা অন্তরের মত আর কোন প্রানচঞ্চল কোন তরুণ বা কিশোরকে..
আপনি চাইলে অনেকখানি নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে পারেন, আপনি আমি সবাই জানি কিভাবে নিরাপদ থাকবো, দরকার শুধু আমাদের স্বদিচ্ছা আর সাবধানতা অবলম্বন করা.
দুইটা মিনিট সময় 'অপচয়' করবেন? আপনার, আমার, সবার ভালোর জন্য?
------
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিম্নলিখিত নির্দেশ গুলো মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হল-
১. ঢাকা শহর সাইকেল-চালকদের জন্য নিরাপদ নয়, এটা ভেবেই সবসময় চালাবেন। ব্যাপারটা অনেকটা সেইসব ভিডিও গেইমগুলোর মতন, যেখানে সবাই আপনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে আর আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে বেচেঁ থাকতে হচ্ছে। এটা সত্যি কাজ করে।
২- আপনার লাইট, হেলমেট আর গ্লাভস জোড়া কে আপনার জামা, জুতোর মতই একটি জিনিশ মনে করবেন। জামা ছাড়া যেমনি আপনি সাইকেল নিয়ে বের হবেন না তেমনি এগুলো ছাড়াও কখনো বের হবেন না। হয়ত ভাবলেন যে "যাচ্ছি তো বাজারে, কি আর হবে" , প্লীজ এটা করবেন না। মরহুম আজীজ ভাই অফিসে যাওয়ার পথে হরতালের দিনে মারা যান। তিনি জানতেন না সেইদিন তিনি অফিসে আর কখনই পৌছাঁতে পারবেন না। তেমনি আপনি, আমি আমরা কেউই জানি না কবে কখন অ্যাক্সিডেন্ট হবে। এটা সত্যি যে মৃত্যুকে আমরা ঠেকাতে পারি না, কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি আমাদের সাধ্যমতন। অ্যাক্সিডেন্ট একদিন-ই হবে, আর সেটা কখনই বলে কয়ে আমাদের প্রিপারেশান অনুযায়ী হবে না। কাজেই "Its better to be safe than to be sorry........or dead" এটা ভেবেই সাইকেল টা নিয়ে বের হবেন।
৩- বড় রাস্তা গুলোতে ( মিরপুর রোড, এয়ারপোর্ট রোড ) এ সবচে বামের লেন এ থাকবেন।
৪- কখনই, কখনই, KOKHONOI (হ্যা, তিনবার) পিছে না তাকিয়ে লেন চেঞ্জ করবেন না। এটা আপনার জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সীমারেখা। সাইকেল অত্যন্ত হাল্কা একটি বাহন, আপনার হ্যান্ডলে সামান্য একটি ধাক্কা লাগা মাত্রই আপনি পড়ে যাবেন, মাটিতে পা দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারবেন না।
৫- দুইটি বড় গাড়ির মধ্যে দিয়ে চালাবেন না বা ওভারটেক করবেন না ( গাড়ির গতি খুব কম থাকলে করতে পারেন )।
৬- বামদিক দিয়ে কোন গাড়িকে অতিক্রম করবেন না। এটাতে ড্রাইভাররা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। এছাড়া-ও লোকাল বাসগুলো যখন থামে, তখন তার বামদিক দিয়ে যাবেন না। কারন আরোহীরা পিছে না তাকিয়েই বাস থেকে নামে। আপনার গতি বেশি থাকলে মারাত্মক অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে।
৭- কখনই, কখনই, KOKHONOI (হ্যা, আবার তিনবার) চালানো অবস্থায় ফোন ধরবেন না, বা একহাত দিয়ে ফোন ধরে চালাবেন না, বা হেডফোন ব্যবহার করে গান শুনবেন না। এটাও সেই ব্যাপারটার মতন "ধুর, কি আর হবে" কিন্তু হলে একদিন-ই হবে আর সেইদিন আপনি অনুতাপ করতে পারেন ( বেচেঁ থাকলে), কিন্তু অনুতাপ করে কোন লাভ হবে না। হয় ব্লু-টুথ ব্যবহার করুন অথবা থেমে ফোন ধরুন, অথবা ধরবেন না। একটা গাড়ি আপনাকে হর্ন দিয়ে সাইড চাইল, আপনি কানে হেডফোন থাকার জন্য তা শুনলেন না, এরপর যদি গাড়িটার সাথে আপনার পাশ থেকে ধাক্কা লাগে, আপনি না-ও বাচঁতে পারেন।
৮- বেল, মুখ, হাত ব্যবহার করে অন্যান্য যানবাহন কে সংকেত দিন সবসময়।
৯- রাস্তায় অন্য কোন সাইকেল, মোটর-সাইকেল এর সাথে পাল্লা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেউ যদি পাল্লা দিতে আসে, FEEL SORRY FOR HIM AND LET HIM GO .
১০- মনে রাখবেন, আজকে আপনি বেচে আছেন, কিন্তু কালকে না-ও থাকতে পারেন। কালকে আপনি হয়ত বেচে থাকবেন, কিন্তু আপনার একটা হাত/পা/চোখ ছাড়া । মরে গেলেন ত মরেই গেলেন, কিন্তু পঙ্গু হয়ে বাকী জীবনটা কাটাতে কেমন লাগবে আপনার ? আপনার পরিবার আছে, স্ত্রী, সন্তান আছে। নিজে অথর্ব হয়ে পড়ে আছেন নিজের পরিবারের সামনে, দৃশ্যটা চিন্তা করে দেখেন।
১১- ট্রাফিক আইন গুলো মেনে চলবেন সবসময়। হ্যা, আপনি একটা জ্যাম এ আটকে আছেন, আপনি সাইড দিয়ে দিয়ে সবচে সামনে চলে যান। কিন্তু সিগন্যাল ছাড়েনি, আপনি হঠাত টান দিলেন, অন্যপাশ থেকেও তো একটা গাড়ি টান দিতে পারে।
পরিশেষ - আমরা ৩২ হাজারের ক্রমবর্ধমান একটি পরিবার। আপনারা সাইকেল চালান, আমাদের খুব ভালো লাগে। সাইকেল এর হাজার হাজার গুণগান চাপা পড়ে যায় একটিমাত্র মৃত্যুসংবাদ এ। মনটা বিষণ্ণ হয়ে যায়, সকালে উঠে সাইকেল টা খোলার আগে একবার মনে হয় " আর কত ?" আমি নিজে অনেকগুলো অ্যাক্সিডেন্ট করেছি, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন, সবসময় না-ও করতে পারেন।
"Death is always around us, lets put our best effort to avoid it due to our own mistakes. And offcourse, fate is fate"
মূল লেখাঃ Meherdad Yousuf Ahmed | BDCyclists