26/02/2026
শরীর ফিরছে, মন রয়ে যাচ্ছে
মক্কা ও মদিনা থেকে কেউ কি সত্যিই “ফিরে” আসে?
উমরাহ শেষ। সফর শেষ। টিকিট কাটা, ব্যাগ গুছানো, সময়মতো এয়ারপোর্টে পৌঁছানো সব নিয়ম ঠিকঠাক। বাইরে থেকে সবকিছু খুব শৃঙ্খলিত, খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু ভেতরে?
ভেতরে যেন কিছুই স্বাভাবিক না।
যে মানুষটা যুক্তিতে কথা বলেন, আবেগে ভাসেন না সেই মানুষটাকেও দেখা যায় শেষ কয়েকদিনে অদ্ভুত হয়ে যেতে। হিসাব-নিকাশ ভুলে গিয়ে বলেন,
“আর কোনো উপায় নাই? দুই-চারদিন বাড়ানো যায় না?”
এটা যুক্তির কথা না।
এটা মনের কথা।
একজন চেনা আলেম। সাধারণ, সাদামাটা জীবন। দায়িত্বশীল। উমরাহ সফরে এসেছেন, অন্য একটি কাফেলার সঙ্গে। সফরে ইলমি বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, মাসআলা বুঝিয়েছেন, ইবাদতে গাইড করেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন শান্তভাবে, পরিমিতভাবে।
কিন্তু নিজের উমরাহ শেষ করে যখন মদিনা থেকে ফেরার সময় আসে তখন তিনিও আর কেবল একজন আলেম নন। তিনি তখন কেবল এক আকুল বান্দা।
ফোন করেন। কথা বলেন প্লেন, সময়, টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে। কথাগুলো খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু স্বাভাবিকের ভেতরে লুকানো থাকে অস্বাভাবিক নীরবতা। কণ্ঠের আড়ালে একটা অদৃশ্য ভার।
মনে হয়, শরীরটা শুধু প্লেনে উঠছে।
হয়তো এখনও কাবার দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে আছে।
হয়তো এখনও দাঁড়িয়ে আছে মসজিদে নববী–র সবুজ গম্বুজের নিচে।
হয়তো দোয়া শেষ হয়নি এখনও।
হয়তো তিনি বলতে চেয়েছিলেন,
“তাওহীদ সাহেব… আরেকটু থাকা যায় না?”
কিন্তু বলেননি।
কারণ তিনি জানেন, সফর শেষ হলে ফিরতেই হয়। দায়িত্ব আছে। মানুষ অপেক্ষা করছে। এই দুনিয়ায় স্থায়ী থাকার জায়গা তো ওটা নয়।
তবু কেন এমন হয়?
মক্কা-মদিনায় মানুষ নিজের একটা অন্য রূপ খুঁজে পায়। যে রূপটা কম ব্যস্ত, কম ক্লান্ত, কম হিসাবি। সেখানে কান্না সহজ হয়। দোয়া সহজ হয়। নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করাও সহজ হয়।
ফিরে আসার মুহূর্তে তাই মানুষটা একটু শিশুর মতো হয়ে যায়। কঠিন মানুষটাও নরম হয়ে যায়। যে মানুষটা সারাজীবন অন্যদেরকে ধৈর্যের কথা শিখিয়েছেন, তিনিও তখন নিজের ভেতরে একটুখানি অস্থিরতা লুকান।
এটাই তো মক্কা-মদিনার রহস্য।
এরা কাউকে শুধু সফর দেয় না এরা মন নিয়ে নেয়।
শরীর ফিরে আসে বাংলাদেশে। দায়িত্বে, ক্লাসে, মসজিদে, সংসারে।
কিন্তু মনটা?
মনটা হয়তো এখনও তাওয়াফের ভিড়ে দাঁড়িয়ে বলে,
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”