26/02/2026
শুভ জন্মদিন জয়পুরহাট।
তৎকালে একটি অনগ্রসর ভিলেজ, বগুড়ার পশ্চিম অংশের প্রত্যন্ত একটি পল্লী ছিল জয়পুরহাট ।
১৬০০ থেকে ১৭০০ শতাব্দী পর্যন্ত জয়পুরহাটের ইতিহাস তেমন জানা যায় না কারন এ সময় ভারতবর্ষের ইতিহাসে জয়পুরহাটের কোন ভৌগলিক অবস্থান ছিল না। বহু বছর ধরে এ অঞ্চল গৌড়ের পাল এবং সেন রাজাদের রাজ্য ভুক্ত ছিল আর সে সময়ও জয়পুরহাট নামে কোন স্থানের নাম পাওয়া যায় নি এমন কি সে সময় জয়পুরহাটের পূর্ব অবস্থান বগুড়ারও কোন ভৌগলিক অবস্থান ছিল না। জয়পুরহাট অঞ্চল তখন ছিল পাঁচবিবি থানার অন্তর্গত । পূর্বে এই এলাকাটি চাতড়া ঘোড়াঘাট এবং পরে দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান জয়পুরহাট সদর এবং পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে এক সময় লালবাজার থানা গঠিত হয়। যমুনা নদীর তীরে এ লালবাজারেই তখন পোষ্ট অফিস স্থাপিত হয়। লালবাজারই তখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক কেন্দ্র বিন্দু ছিল। মোঘল যুগে জেলাকে বলা হত সরকার ও থানাকে বলা হত পরগনা । ১৮২১ সালে সরকার ঘোড়াঘাট, সরকার কারবালাবাদ ও সরকার বাজুহাট -এর অংশ কিছু নিয়ে সৃস্টি হয় নতুন জেলা বগুড়া এরপর লাল বাজার থানা, জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি থানা বিভক্ত হয়ে বগুড়া জেলার অন্তর্গত হয়। ১৯৭১ সালের জানুয়ারীতে বগুড়া জেলার একটি মহাকুমা হিসাবে জয়পুরহাটের অত্নপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে জয়পুরহাট জেলার মর্যাদা লাভ করে । (সাজেদুর রহমান সুমন এর লেখা থেকে)
ইংরেজ অবসানের পর গোটা ষাটেক মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বসবাস , তৎকালীন ক্ষেতলাল থানা আজকের কালাই উপজেলার সমশিরা চৌধুরী বংশের মরহুম আকবর চৌধুরী বাহু প্রশস্ত করে প্রথম মুসলিম পরিবার হিসেবে জয়পুরহাটে বসবাস শুরু করেছিলেন। এরপরে ছিলেন সরদার নাসির উদ্দিন সাহেবের পরিবার।
ব্রিটিশ আমলের মানচিত্রে জয়পুরহাটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া না গেলেও পাকিস্তান এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জয়পুরহাট শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে জয়পুরহাট নামটি বহুলব্যবহার হয় আসছে।
জয়পুরহাট জেলার আজ ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৷ ১৯৮৪ সালে আজকের এইদিনে বগুড়ার মহকুমা থেকে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জয়পুরহাট। ৯৬৫.৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে জয়পুরহাট জেলা গঠিত। জেলার উত্তরে গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলা এবং ভারত। দক্ষিণে বগুড়া ও নওগাঁ জেলা। পূর্বে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলা। পশ্চিমে নওগাঁ জেলা ও ভারত। তবে তৎকালে জয়পুরহাট ইউনিয়ন বোর্ডের সীমানা ছিল দক্ষিণে দেবীপুর, উত্তর-পূর্ব কাশিয়াবাড়ী এবং মাদারগঞ্জ , পূর্বে হারাইল, পশ্চিমে খঞ্জনপুর পর্যন্ত।
হিন্দু-বৌদ্ধ -মুসলিম -খ্রিস্টান, আদিবাসী গোষ্ঠী
সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, মহালী, মহন্ত, রবিদাস, রাজবংশী, সিং, তুরী প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এই জেলার বসবাস করেন।
জেলা শহরের পূর্ব ও পশ্চিমে বয়ে গেছে নদী। ছোট যমুনা- জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলায়, তুলসী গঙ্গা- জয়পুরহাট সদর, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা
চিরি নদী-জয়পুরহাট সদর উপজেলা ( চকবরকত ইউপি)
হারাবতি নদী - পাঁচবিবি ও ক্ষেতলাল উপজেলার কোল ঘেঁষে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে।
জেলার ভূপ্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ এই জেলার মানুষের মানসিক গঠনপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ফলে এই জেলার মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল এবং নরম প্রকৃতির।
প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পরও এখনও এই জেলাটি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। জেলা শহর এখনো পরিকল্পিত নয়, মানসিক বিকাশ প্রক্রিয়া থেকে এখনো অনেকে পিছিয়ে আছে। সৃজনশীল কাজের উপস্থিতি একেবারেই কম। প্রগতিশীল রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রবহমান ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে এখানে।
৪২বছরে জেলাবাসীর একটিই চাওয়া, গুণগত উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রেখে প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে একটি সুন্দর জেলা গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে।
জয়পুরহাটবাসী কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
-লালন হোসেন