23/04/2026
হাম (Measles) থেকে শিশুদের সুরক্ষা পেতে এবং আক্রান্ত অবস্থায় দ্রুত সেরে উঠতে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা অপরিসীম। হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়ানোই হলো প্রধান লক্ষ্য।
বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাবারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার:-
হামের জটিলতা কমাতে ভিটামিন-এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি চোখের সুরক্ষা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* শাকসবজি: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক এবং লাল শাক।
* ফল: পাকা পেঁপে, আম ও কাঁঠাল।
* প্রাণিজ উৎস: কলিজা, ডিমের কুসুম এবং দুধ।
২. ভিটামিন-সি যুক্ত ফল:-
ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবং জ্বর পরবর্তী দুর্বলতা কাটাতে ভিটামিন-সি খুব কার্যকর।
* লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা এবং আমলকী।
* এগুলো শরীরের ক্ষত শুকাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. পর্যাপ্ত তরল খাবার:-
হাম হলে শরীরে অনেক জ্বর থাকে, যার ফলে পানি শূন্যতা (Dehydration) হতে পারে।
* বুকের দুধ: বাচ্চা যদি ছোট হয় (৬ মাসের কম), তবে তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
* অন্যান্য: ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, পাতলা খিচুড়ি এবং স্যুপ।
৪. প্রোটিন জাতীয় খাবার:-
শরীরের কোষ পুনর্গঠন এবং শক্তি ফিরে পেতে প্রোটিন দরকার।
* মাছ, মুরগির মাংস, এবং ডাল।
* যদি বাচ্চা শক্ত খাবার খেতে না চায়, তবে চাল-ডাল ও সবজি দিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া ভালো।
৫. জিংক সমৃদ্ধ খাবার:-
জিংক শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
* বাদাম, শিমের বিচি এবং দানা জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
কিছু জরুরি পরামর্শ:-
* সহজপাচ্য খাবার: হামের সময় বাচ্চার হজম শক্তি কমে যায়, তাই তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে নরম ও সহজপাচ্য খাবার দিন।
* পরিচ্ছন্নতা: বাচ্চার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিত কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন।
* টিকাদান: হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে MR টিকা দেওয়া।
সতর্কতা: যদি বাচ্চার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়, চোখ লাল হয়ে যায় বা কান দিয়ে পুঁজ পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডাঃ হানিফ তাহসীন
বিইউএমএস, এমপিএইচ ( পুষ্টি )
পরামর্শঃ ০১৮২৭৪৪২২৪৪