12/08/2025
ফেরীর মাষ্টার সাইফুল ভাই না থাকলে কি ফেরী চলবে না?
২৪ এপ্রিল আমি একটা ল্যাপটপ কিনার জন্য চট্টগ্রাম যায়। নদীর অবস্থা তেমন একটা ভালো ছিল না, খুব ভোর বেলায় ঘাটে যায়, আমাকে দিনে দিনে আবার সন্দ্বীপ ফিরে আসতে হবে। ঘাটে যখন পৌঁছাই তখন ঘড়ির কাটায় সাতটা ত্রিশ। নদী সব সময় ভোরে একটু শান্ত থাকে আমরা সবাই জানি। তারপরও সে দিন দু’একটা স্পিড বোট চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও তাতে ঝুঁকি বেশি ছিল।
আটটা বারো মিনিটে ফেরী ছেড়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। আমি মাস্টার কেভিনের বাম পাশে দাড়িয়ে কতদূরে গেলেও আধাঘন্টা পর ফেরী কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করি। সেখানে আমার সাথে সাইফুল ভাই ও তার সহযোগি সহ অন্যান্যদের সাথে সালাম বিনিময় হয়।কয়েকজন সিনিয়র রাজনীতি ব্যক্তিবর্গ সহ আমি পেছনে বসে নদী পাড় হচ্ছিলাম।
কিছু দূর যেতেই হঠাৎ নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে গেলো, শুরু হয়ে গেলো ফেরী মাস্টার সাইফুল ভাই ও তার সহযোগির তৎপরতা। আমি যে জায়গায় বসে আছি সেখানে বসে থাকাটাই দায় হয়ে গেছে। আমি কন্ট্রোল রুম থেকে বাহিরে দেখতে গিয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। ফেরীতে থাকা সামনের গাড়ী, কাভার্ড ভ্যান গুলো নড়াচড়া দেখে আমার মাথা ঘুরাচ্ছিল অতিরিক্ত। আমি এতো কিছুর ভিতরেও লক্ষ্য করলাম সাইফুল ভাই এই ঢেউ কাটানো এবং ফেরী কন্ট্রোলের যে আপ্রাণ চেষ্টা। কিন্তু তার সহযোগি মেজাজ হারিয়ে আবোল তাবোল শব্দ উচ্চারণ করতে শুরু করলো। এ রকম প্রায় বাঁশ বাড়িয়া ঘাট পর্যন্ত ঢেউয়ের তীব্রতা চলতে থাকলো।
শেষ পর্যন্ত ঘাটে অনেক কষ্টে ভিড়লো ফেরী। আমার অতিরিক্ত মাথা ঘুরার কারণে আমি মাস্টার কন্ট্রোল রুম থেকে বের হয়ে সাইডে বাতাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামার দৃশ্য দেখছিলাম। আমার পাশে সাইফুল ভাই এসে দাঁড়িয়ে আছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে একজন কর্তব্যরত লোক এসে সাইফুল ভাইয়ের সাথে তর্কে জড়ালেন। এক এক করে কয়েকজন জড়ো হয়ে তার সাথে তর্কে জড়ালেন। (দেখে মনে হচ্ছিল তারা এই রকম রুটে কখনোই ফেরী চালানোর অভ্যাস নেই।) একজন বলছেন আপনি এ মুহুর্তে চিঠি পাঠান এই রুটে ফেরী চলবে না! একজন বলছেন আমাদের ফেরী উদ্বোধনের কথা বলে এখানে এনেছেন, এক মাস চলবে, এখন আমরা কি জান দিবো নাকি? আমার পরিবার আছে, জেনেশুনে মরবো নাকি? একজন বলছেন আপনার মতো সাগরে থাকার অভ্যাস আমাদের আছে নাকি! এই রকম রুট আমরা কখনোই দেখি নাই। (তারা বুঝাতে চাইলো ফেরী আগে যে রুটে ছিল সে রুটে নদীর অবস্থা এমন ছিল না।) একজন বলছেন আপনি একা চালান ফেরী আমরা আজই নেমে যাবো ফেরী থেকে। সাইফুল ভাই তাদের শান্তনা দিলো নাকি পরিস্থিতি শান্ত করতে বলতে দেখলাম আমি তো চিঠি অনেক আগেই দিয়ে রাখছি। বাকীটা অফিসের নির্দেশনায় আমার করার কিছু নেই। পরক্ষণে আমি নেমে গেলেও ওনাদের তর্কাতর্কি চলছিল.....
সাইফুল ভাই ছাড়াও ফেরী চলবে, তিনি না থাকলেও কিছু আসবে না যাবেও না, বাংলাদেশে শুধু মাস্টার সাইফুল ইসলাম না আরো শত শত মাস্টার রয়েছে। ফেরী চলবে নতুন কারো মাধ্যমে। কিন্তু সন্দ্বীপে যে তার জন্মস্থান হিসেবে নদীর সাথে তার সাহস আর অভ্যাস আছে সেটি নতুন কারো থাকবে কি-না? অন্য জেলার নদীর সাথে আমাদের নদীর রুটে মিল থাকবে কি-না? থাকলেও নিয়মিত বা একটু খারাপ ওয়েদারেও ফেরী চলবে কি-না সেটি দেখার বিষয়।
নাকি আমরা আবারও লিখতে হবে, মালের বোট, লাল বোট, স্পীড বোট এবং সার্ভিস বোট সবই চলছে কিন্তু ফেরী বন্ধ কেনো? লিখে ফেইসবুক তোলপাড় করতে হবে?
লিখেছেন
আলি হোসেন
দপ্তর সম্পাদক
সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব।