04/09/2024
সব পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বাস্তবায়ন করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সুযোগে আমার একটা প্রস্তাব পেশ করি:
'বিটিভি'-তে আগুন দেয়া হয়েছিল বোধকরি তখনকার ক্ষমতাসীন সরকারের দালালি করার অপরাধে। আশা করেছিলাম, এখন থেকে 'বিটিভি'কে অন্য রুপে দেখতে পাব। কিন্তু সেই 'লাউ আর কদু'! এমনকী দেশের সবগুলো টিভি চ্যানেলই যেনও হঠাৎ 'বিটিভি' হয়ে গেল! যেহেতু চ্যানেলগুলো বিগত সরকারের মদদপুষ্ট ছিল তাই, ভয় থেকেই হয় তো তাঁরা 'সেলফ সেন্সরশিপ' চালিয়ে যাচ্ছে।
মিডিয়া হাউসগুলো ব্যক্তি মালিকানায় চলে এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। তারা যদি ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন না করে, তবে খুব বেশি অর্থ উপার্জন করতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে না। অথচ সাংবাদিকদের মূলকাজ হচ্ছে জনগনের হয়ে সরকারকে প্রশ্ন করা, যা সরকারকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করে।
সংবাদ মাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ (Fourth Estate)। আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পরেই এর স্থান। রাষ্ট্র তথা প্রজাতন্ত্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদ মাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে । রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সর্বোপরি সুশাসন যেমন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসবে, ঠিক তেমনি সংবাদ মাধ্যম সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে রাষ্ট্রকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করবে; এমনটাই হওয়ার কথা কিন্তু হচ্ছে না।
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সাংবাদিকরা কমবেশি ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রভাবশালী মহলের চাপ, হামলা-মামলা, রাজনৈতিক হুমকির কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে অনেক ক্ষেত্রেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
কিন্তু একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম যাতে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সাংবাদিকরা যেন বিনা বাধায় এবং নিরাপদ পরিবেশে যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের সংবিধানেও চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক্-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা’ শিরোনামে সংবিধানের ৩৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হইল।
বর্তমান সময়টাতে নিয়ন্ত্রণহীন ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এসব গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধ করে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্যও মুক্ত গণমাধ্যম জরুরি।
বর্তমান সরকার যেহেতু 'সংস্কার'-এর বার্তা নিয়ে এসেছে, তাই এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। অনেকেই দাবি-দাওয়া নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করছে, শাহবাগে দাঁড়াচ্ছে। এই সুযোগে আমিও 'গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ'টাকে ধ্বংস না করার জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
একই সাথে আশা করছি, এবার আমরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার পাব।