04/11/2025
২/৩ বছর আগে একদিন সকালে ফার্মগেট থেকে প্রেসক্লাব যাওয়ার জন্য বাসে উঠলাম। শিকড় নামক এই যানে উঠতেই বুঝে গেলাম, এটা বাস না মানুষের “কমপ্রেসড প্যাকেট” ডেলিভারি সিস্টেম। দাঁড়াবার জায়গা তো নেইই, শ্বাস নেয়ারও জায়গা নেই। কনডাক্টর চিৎকার করে বলছে, “ভিতরে যান, আরও জায়গা আছে!” আমি মনে মনে বললাম, জায়গা আছে ঠিকই… কিন্তু সেটা বাতাসের জন্য!
যাই হোক, ফোন বের করে যাত্রা শুরুর টাইমটা দেখে নেব বলে পকেটে হাত দিলাম। ফোন বের করে দেখি ফিংগার দিয়ে লক খুলছে না। মোবাইলটা ঝাকি দিলাম কয়েকবার। এবার দেখি ওয়ালপেপারে এক পঞ্চাশ বছর বয়সী আংকেলের ছবি। কি রে আমার ফোনে আংকেলের ছবি কেন?
সামনে আঙ্কেল ঘুরে এমনভাবে তাকিয়ে আছেন যেন আমি তার পারিবারিক ব্যাংক লকার খুলে ফেলেছি! ভিড় এত বেশি যে হাতটা নিজের পকেটে না গিয়ে সামনে দাঁড়ানো এক আঙ্কেলের পকেটেই ঢুকে গিয়েছিল। আমি টেরই পাইনি। কিন্তু সমস্যা হলো ওই ফোনটা আমার ফোন না। আঙ্কেল রেগে গর্জে উঠলেন,“এইটা আমার ফোন!”
ভিড়ের মধ্যে সবাই ঘুরে তাকাল। কেউ কেউ এমন ভাব করল যেন লাইভ ড্রামা চলছে। নিজেকে পকেটমার মনে হল। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়িনি।
আমি ঠান্ডা মাথায় বললাম, “স্যরি আঙ্কেল, জামার রং মিলছে বলে ভুল হয়ে গেছে। এই ভিড়ে তো পকেটের লোকেশনও জানা যায় না!”
কনডাক্টর পাশ থেকে বলে উঠল, “চাচা, এটাই নরমাল ঘটনা। পকেট সাবধানে রাখবেন!”
আঙ্কেল মাথা নেড়ে ফোনটা পকেটে রাখলেন আর বললেন, “আগামীবার নিজের পকেটের GPS অন করে রাখবা!”
সে যাত্রায় উদুম পিটুনির থেকে বেচে গেলাম। এরপর আর কখনো কারও পকেটে হাত দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা আর কখনো কাজেই লাগেনি।