Probashi Kamla International

Probashi Kamla International Travel and Explore World (TEW) with Nasir

08/06/2026

Altona Beach, Melbourn, Australia
নীল আকাশ এসে মেশে সাগরের সাথে .....দিনের শেষ আলো বিদায়ের সুর বাজে.....সৈকতে অস্তগামী সূর্য ও কৃত্রিম আলোর মেলবন্ধনে ......বালিয়াড়ির নরম পরশ আলোকিত করে!শুভ সন্ধ্যার শুভেচ্ছা

**আমার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ভ্রমণের গল্প USA 🇺🇸❄️**আমি **নাসির উদ্দিন**, এতদিনে প্রায় **৬০টি দেশ** ঘুরেছি পৃথিবীর নানা প...
11/10/2025

**আমার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ভ্রমণের গল্প USA 🇺🇸❄️**
আমি **নাসির উদ্দিন**, এতদিনে প্রায় **৬০টি দেশ** ঘুরেছি পৃথিবীর নানা প্রান্তে। প্রতিটি দেশ, প্রতিটি যাত্রাই যেন নতুন রঙ, নতুন অনুভূতি। কিন্তু আজ যে ভ্রমণের কথা বলছি, তা আমার জীবনের অন্যতম মুগ্ধকর অভিজ্ঞতা — **আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ভ্রমণ (Grand Canyon, USA)**।
📅 সালটা ছিল **২০২১**, এক শীতল ডিসেম্বরের সকাল।
আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম **Phoenix, Arizona** থেকে—যেখানে তখন গরম, রোদে ঝলমল করা মরুভূমির আবহ। সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করা পাহাড় আর হালকা বাতাসে মরুভূমির গন্ধ—সবকিছুই যেন গ্রীষ্মের ছোঁয়া দিচ্ছিল।
🚗 কিন্তু যতই আমরা উত্তরের দিকে এগোতে লাগলাম, প্রকৃতি যেন রঙ বদলাতে শুরু করল। ধীরে ধীরে মরুভূমির গরম মিলিয়ে গেল, আর তার জায়গায় ঠান্ডা হাওয়া আর তুষারের ছোঁয়া। রাস্তার ধারে পাইন গাছগুলোতে জমে থাকা বরফ, দূরের পাহাড়ের চূড়া তুষারে ঢেকে আছে—একেবারে রূপকথার মতো দৃশ্য!
🌨️ অবশেষে পৌঁছে গেলাম **গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন**—এ যেন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়! যত দূর চোখ যায়, তত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত খাদের সারি, পাথরের রঙের খেলায় সজ্জিত প্রকৃতি, আর তার ওপরে সাদা তুষারের আস্তরণ। ঠান্ডা বাতাস মুখে লাগছিল, আকাশ ছিল নির্মল নীল, আর সূর্যের আলো পড়ে তুষার এমনভাবে ঝলমল করছিল যে মনে হচ্ছিল পুরো দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে আছে রূপালি জাদু।
🌄 গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ধারে দাঁড়িয়ে নিচের খাদ আর বরফে ঢাকা শিলার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল—প্রকৃতির সামনে মানুষ কত ক্ষুদ্র! এই অসীম দিগন্ত, এই অনন্ত শান্তি, এই বিশালতার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যেন এক নতুন অনুভূতি।
সূর্যাস্তের সময় পুরো আকাশ রঙ বদলে ফেলল—কমলা, গোলাপি, বেগুনি রঙের মিশ্রণে আকাশ যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। তুষারের ওপর সেই আলোর প্রতিফলন দেখে মনে হচ্ছিল আমি যেন কোনো স্বপ্নের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি।
📸 সেই দিনের কিছু ছবি আজও আমার কাছে জীবনের সেরা স্মৃতি।
প্রকৃতি যে এত শান্ত, এত বিশাল আর এত অনিন্দ্যসুন্দর হতে পারে, তা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে গিয়েই সত্যি উপলব্ধি করেছিলাম।
🌿 **প্রকৃতির বিস্তৃতি, দিগন্তের প্রশান্তি আর তুষারে ঢাকা সৌন্দর্য—এই ভ্রমণ আমার হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।**
---
** **
Please Subscribe my Youtube channel and enjoy my travel experience here-

Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

**আমি নাসির**, ঘুরেছি পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের **৬০টিরও বেশি দেশ**। আজ বলবো আসুনসিওন থেকে ফোজ দো ইগুয়াসু— Argentina, B...
09/10/2025

**আমি নাসির**, ঘুরেছি পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের **৬০টিরও বেশি দেশ**। আজ বলবো আসুনসিওন থেকে ফোজ দো ইগুয়াসু— Argentina, Brazil and Paraguay তিন দেশের মিলনবিন্দুতে এক জীবনের যাত্রা:
২০১৮ সালের সেই রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আমি দক্ষিণ আমেরিকার হৃদয়ে, প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওন (Asunción) থেকে রওনা দিয়েছিলাম এক অবিশ্বাস্য যাত্রায়—গন্তব্য ছিল পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফোজ দো ইগুয়াসু জলপ্রপাত (Foz do Iguaçu Falls), যা তিন দেশ—প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা—এর মিলনস্থলে অবস্থিত। আমার সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং প্যারাগুয়ের বাংলাদেশি প্রবাসী বন্ধুরা; সবাই মিলে আমরা একটি প্রাইভেট গাড়িতে চেপে পাড়ি দিয়েছিলাম দীর্ঘ পথ, যেখানে প্রতিটি মাইল জুড়ে ছিল নতুন দৃশ্য, নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন বিস্ময়। আসুনসিওনের শান্ত রাস্তা ছাড়িয়ে গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছিল সিউদাদ দেল এস্তে (Ciudad del Este)-এর দিকে—পথের দুই পাশে ছিল সবুজ চাষের মাঠ, ছোট ছোট গ্রাম, মাঝে মাঝে পাহাড়ি ঢেউ, আর দিগন্তজোড়া নীল আকাশ। কয়েক ঘণ্টার যাত্রা শেষে আমরা পৌঁছালাম পারানা নদীর তীরে, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে বিখ্যাত Puente de la Amistad—বাংলায় যাকে বলে “বন্ধুত্বের সেতু”—যা সংযুক্ত করেছে প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলকে।
সেই সেতু পার হয়ে আমরা প্রবেশ করলাম ব্রাজিলের কাতারাতাস দো ইগুয়াসু (Cataratas do Iguaçu) এলাকায়, যেখানে প্রকৃতি যেন নিজেই এক মহাকাব্য রচনা করেছে। যখন সামনে উন্মোচিত হলো বিশাল জলপ্রপাতের দৃশ্য, মনে হলো—প্রকৃতি যেন নিজের সমস্ত শক্তি, সৌন্দর্য, আর আবেগ ঢেলে দিয়েছে এই এক জায়গায়। প্রায় ২৭৫টি জলপ্রপাত মিলে গঠিত এই ইগুয়াসু ফলস পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ব্যবস্থা, যার জলরাশি প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বেগে নিচে পতিত হয়, সৃষ্টি করে এক অবিশ্বাস্য গর্জন ও কুয়াশাচ্ছন্ন বায়ুপ্রবাহ। সূর্যের আলো জলের কণায় প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করছিল রঙধনু, আর সেই রঙিন কুয়াশার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি অনুভব করছিলাম জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রশান্তি।
🌈 এক পাশে ছিল আর্জেন্টিনা, অন্য পাশে প্যারাগুয়ে, আর আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম ব্রাজিলের দিকের ভিউ পয়েন্টে, যেখানে তিন দেশের পতাকা একসাথে বাতাসে উড়ছিল—এক অনন্য দৃশ্য, যা ভাষায় বোঝানো যায় না। আমরা সবাই বসেছিলাম ফলসের ধারে, রাষ্ট্রদূত মহোদয়সহ প্রবাসী ভাইয়েরা একসঙ্গে কফি হাতে সেই গর্জনমুখর জলপ্রপাতের সামনে সময় কাটাচ্ছিলাম। জলরাশির শব্দ, রঙধনুর আলো, আর বাতাসে ভেসে আসা পানির সুবাসে মুহূর্তটি যেন থেমে গিয়েছিল সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে। সেদিন আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলাম—প্রকৃতি কখনো সীমান্ত মানে না, নদী-জল-আকাশ সবারই যৌথ সম্পদ। ফেরার পথে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল পারানা নদীর ওপারে, আর তার সোনালি আলোয় ঝলমল করছিল বন্ধুত্বের সেতুটি—Puente de la Amistad—যেন বিদায় জানাচ্ছে আরেক অভিযাত্রীকে। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, পৃথিবীকে ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো ভ্রমণ নেই। এই সফর আমার জীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায়, যেখানে আমি দেখেছি তিন দেশ, তিন সংস্কৃতি, আর এক অনন্ত প্রকৃতি—যে প্রকৃতি মানুষকে একসাথে বেঁধে রাখে। 🌍❤️
গাড়ি চলছিল আসুনসিওনের পথে, কিন্তু আমার মন পড়ে ছিল সেই জলপ্রপাতের গর্জনের মধ্যে—যেন পৃথিবী বলছে,
“চলো নাসির, সামনে আরও অনেক পথ বাকি…”
এই ভ্রমণ শুধু মানচিত্রের নয়—
এটা আমার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়, যেখানে আমি দেখেছি তিন দেশ, তিন সংস্কৃতি, আর এক অবিচ্ছেদ্য প্রকৃতি।
একই আকাশের নিচে মানুষ, নদী আর পর্বত—সবাই আসলে এক পরিবারের সদস্য। 🌏✨
ভ্রমণ আমাকে শিখিয়েছে:
🌿 প্রকৃতি কখনো বিভাজন মানে না।
🤝 বন্ধুত্বই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সেতু।
💭 জীবন ছোট, কিন্তু অভিজ্ঞতাই একে করে তোলে অনন্ত।
#ভ্রমণগল্প #পৃথিবীভ্রমণ

Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

🌎✨ **আমি নাসির** গত কয়েক বছরে আমি ঘুরে ফেলেছি **বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ**। আমার বিশ্বভ্রমণ: রেইনবো ব্রিজ থেকে পৃথিবীর শেষ...
09/10/2025

🌎✨ **আমি নাসির** গত কয়েক বছরে আমি ঘুরে ফেলেছি **বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ**। আমার বিশ্বভ্রমণ: রেইনবো ব্রিজ থেকে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এক অনন্য যাত্রা ✈️**

। জীবনের অর্থ আমি খুঁজে পেয়েছি ভ্রমণে। বইয়ের পাতা যতই পড়ি না কেন, পৃথিবীটা নিজের চোখে দেখা, নিজের পায়ে হাঁটা, আর নিজের হৃদয়ে অনুভব করাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। 🌍💫প্রতিটি দেশ, প্রতিটি শহর, প্রতিটি পথ যেন একেকটা গল্প—ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন অনুভব।

কিন্তু **২০২১ সাল** আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
সেই বছর আমি এমন এক যাত্রা শুরু করি যা আমার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয় — আমি **কানাডার রেইনবো ব্রিজ (Rainbow Bridge, Niagara)** থেকে **যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা পর্যন্ত পায়ে হেঁটে প্রবেশ করি**। 🏞️👣

সীমান্তের সেই মুহূর্ত—যেখানে এক পা কানাডায়, আরেক পা আমেরিকায়—ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্তগুলোর একটি। বাতাসে ভেসে থাকা নায়াগ্রার জলকণায় আমি অনুভব করেছিলাম স্বাধীনতার গন্ধ, নতুন অভিযানের ডাক। 🌈🌊

🇨🇦 **কানাডা অধ্যায়**
আমার কানাডা সফর যেন এক স্বপ্ন।
আমি ঘুরেছি **টরন্টোর** আধুনিক শহুরে জীবন, **অন্টারিও লেকের** নীল জলরাশি আর তার নিঃশব্দ শান্তি, **নায়াগ্রা ফলসের** গর্জনমুখর সৌন্দর্য, আর **অশওয়া (Oshawa)** শহরের স্নিগ্ধ প্রকৃতি ও নিস্তব্ধ সকাল। প্রতিটি জায়গায় লুকিয়ে আছে ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন জীবনযাপন। 🇨🇦💙

🇺🇸 **আমেরিকা অধ্যায়**
কানাডা পেরিয়ে আমি পা রাখি **যুক্তরাষ্ট্রে**—
🌴 **ফ্লোরিডার সূর্যস্নাত সৈকত**,
🌵 **অ্যারিজোনার মরুভূমি আর ফিনিক্স শহরের উত্তাপ**,
⛰️ **গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের অপূর্ব প্রাকৃতিক বিস্ময়**,
আর অবশেষে আমি পৌঁছাই **পৃথিবীর শেষ প্রান্তে—সান ফ্রান্সিসকো**, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউ যেন বলে যায়, "এখনও অনেক পথ বাকি, যাত্রী!" 🌅❤️

এই পুরো যাত্রায় আমি শিখেছি —
🌏 পৃথিবী যত বিশালই হোক, মানুষের মন ততই উষ্ণ।
🤝 ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, তবু হাসি আর মানবতা একটাই ভাষা।
💭 জীবন ছোট, কিন্তু স্মৃতি আর অভিজ্ঞতাই একে করে তোলে অসীম।

এই ভ্রমণ কেবল মানচিত্রে নয় —
এটি আমার আত্মার যাত্রা, আমার জীবনের এক চলমান কবিতা। ✨

**জীবন একটাই — তাই ঘুরে দেখো, শিখো, অনুভব করো।**
কারণ পৃথিবী এত সুন্দর, একে না দেখে চলে যাওয়া সত্যিই অন্যায় হবে। 🌎❤️
Here is my you tube channel, where you get my travel blog for 60 countries.

Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

🌍🌊🇸🇪🇫🇮✨**আমি নাসির**, ঘুরেছি পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের **৬০টিরও বেশি দেশ**। প্রতিটি যাত্রাই আমার কাছে একেকটি গল্প, একেকট...
09/10/2025

🌍🌊🇸🇪🇫🇮✨
**আমি নাসির**, ঘুরেছি পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের **৬০টিরও বেশি দেশ**। প্রতিটি যাত্রাই আমার কাছে একেকটি গল্প, একেকটি অনুভূতি, একেকটি জীবন্ত ইতিহাস।
আজ বলবো সেই ভ্রমণের কথা, যা আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর অধ্যায় —
**সুইডেনের স্টকহোম থেকে ফিনল্যান্ডের টুর্কু পর্যন্ত বাল্টিক সাগর পাড়ি দেওয়া এক অনন্য ক্রুজ জার্নি**, বিশাল **Galaxy Cruise Ship**-এ, 2022 সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (**UNEP Stockholm+50 Conference**) পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের পর। 🇧🇩🌐

এই কনফারেন্স ছিল বৈশ্বিক পরিবেশ নীতি, টেকসই উন্নয়ন, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের এক ঐতিহাসিক আয়োজন — যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া আমার জন্য ছিল এক বিশাল গর্ব ও দায়িত্বের প্রতীক।

কনফারেন্স শেষে, শুরু হলো সেই অবিস্মরণীয় ক্রুজ ভ্রমণ।
স্টকহোম — “**Venice of the North**” নামে পরিচিত এই শহর যেন প্রকৃতি আর সভ্যতার এক সিম্ফনি। শত শত দ্বীপ, নীল লেক, রাজপ্রাসাদ, ঐতিহাসিক গির্জা, আর আধুনিক স্থাপত্যের মিশ্রণে স্টকহোম যেন ইউরোপের হৃদয়ের স্পন্দন। দিনভর হাঁটলে মনে হয় ইতিহাসের পাতা জীবন্ত হয়ে উঠেছে, আর সন্ধ্যার আলোয় শহরটি যেন গলে যায় বাল্টিক সাগরের কোলে।

সন্ধ্যায় যখন বিশাল **Galaxy Cruise Ship** ধীরে ধীরে বন্দর ছাড়ল, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন সময়ের স্রোতে ভেসে যাচ্ছি।
শিপের ভিতরে একদম অন্য জগৎ — **শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল, বার, ড্যান্স ক্লাব, ক্যাসিনো, স্পা** — সবকিছুই ছিল। 🎰💃🍷✨
জাহাজের প্রতিটি ডেকে আলাদা আনন্দ, কোথাও সংগীতের তালে মানুষ নাচছে, কোথাও প্রেমিক যুগল বসে আছে সাগরের দিকে তাকিয়ে।
আমার কেবিন ছিল **রিভার ভিউ**, জানালার বাইরে শুধু নীল সমুদ্র আর দূরের দ্বীপের আলো।

রাতের খাবারে ইউরোপিয়ান বুফে — স্যালমন, পাস্তা, স্যুপ, আর সাথে সাগরের হাওয়া — সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অনন্ত স্বপ্ন। বাইরে দাঁড়িয়ে যখন সাগরের গর্জন আর সংগীতের তালে রাত এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল,
*"স্বর্গ কোথাও নয়, স্বর্গ তো এখানেই — সাগরের বুকে, মানুষের হাসি আর নাচের মাঝেই।"*

ভোরের দিকে, যখন সাগরের বুকে সূর্যের প্রথম আলো পড়ল, তখন আকাশ, পানি আর আলো যেন একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। চারপাশে ছোট ছোট দ্বীপ, গাছপালা আর পাখির কলরব — সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, প্রকৃতি নিজের সৌন্দর্য দিয়ে যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। 🌅

দূরে দেখা মিলল **ফিনল্যান্ডের টুর্কু শহরের** — পুরনো গির্জা, সবুজ পাহাড়, শান্ত নদী আর ঐতিহাসিক স্থাপত্যে ভরা এই শহর যেন ইউরোপের অতীত আর বর্তমানের এক মিলনস্থল। সেখানে নেমে মনে হয়েছিল, আমি যেন কোনো রূপকথার রাজ্যে এসে পৌঁছেছি।

এই ভ্রমণ শুধু এক ক্রুজ ট্রিপ ছিল না, এটি ছিল জীবনের এক অধ্যায় —
🌊 প্রকৃতির সৌন্দর্য,
🌐 আন্তর্জাতিক ঐক্য,
🇧🇩 নিজের দেশের প্রতিনিধিত্বের গর্ব,
💫 আর পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

আজও চোখ বন্ধ করলে শুনতে পাই সেই ঢেউয়ের শব্দ, দেখি সেই সূর্যোদয়, আর অনুভব করি সেই মুহূর্তের জাদু —
যেখানে সাগর, আকাশ আর মানুষ এক হয়ে গিয়েছিল জীবনের উদযাপনে। 🌌💙
** **

🌍✨ আমি নাসির ঘুরেছি 60 টি দেশ ও সব মহাদেশ ۔ আজ থাকবে জার্মানি থেকে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের গল্প 2022 সালে **জার্মানির ডার্...
09/10/2025

🌍✨ আমি নাসির ঘুরেছি 60 টি দেশ ও সব মহাদেশ ۔ আজ থাকবে জার্মানি থেকে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের গল্প 2022 সালে **জার্মানির ডার্মস্টাড থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা — এক স্বপ্নযাত্রা, জাতিসংঘের কনফারেন্সে যাওয়ার পথ ধরে** 🇩🇪🇨🇭

ভ্রমণ মানেই আমার কাছে কেবল দূরত্ব অতিক্রম নয় — বরং প্রতিটি পথের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। সেনজেন কার্ড থাকাতে ইউরোপের ও ভ্রমণগুলো সহজ করে দিয়েছে আমার যাত্রা ۔এমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় আমার জীবনের — **জার্মানির ডার্মস্টাড (Darmstadt) থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা (Geneva)** পর্যন্ত যাত্রা, যেখানে গন্তব্য ছিল **জাতিসংঘ (UN) সদর দপ্তরে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগদান**।

ডার্মস্টাডের সেই সকালটা ছিল হালকা কুয়াশায় মোড়া, শহর জেগে উঠছিল ধীরে ধীরে। রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন শুধু ট্রেনে উঠতে যাচ্ছি না, বরং এক নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলতে যাচ্ছি। ব্যাগের মধ্যে কনফারেন্সের পেপার, আমন্ত্রণপত্র, আর মনে হাজার রকম উত্তেজনা।

ট্রেন যখন রওনা দিল, জানালার বাইরে শুরু হলো জার্মানির প্রকৃত রূপ — সবুজ মাঠ, আঙুরের বাগান, গরু চরানো মাঠ আর দূরে দূরে পাহাড়ের রেখা। রাইন নদীর ধারে ধারে শহরগুলো যেন ইতিহাসের বই থেকে উঠে এসেছে — প্রতিটি স্টেশন, প্রতিটি পুরোনো স্থাপনা যেন বলছে জার্মান সংস্কৃতির গল্প।

ধীরে ধীরে ট্রেন ঢুকে পড়ল **Black Forest** অঞ্চলের ভেতর — এক অপূর্ব দৃশ্য, যেখানে ঘন বন, পাহাড়ের চূড়ায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী, আর নিচে ছোট ছোট কুটির। জানালার বাইরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো পুরোনো ইউরোপিয়ান চলচ্চিত্রের দৃশ্যের অংশ।

> পারস্য কবি রুমির কথায় —
> “যে পথে তুমি সত্যের সন্ধান করো,
> সেই পথই তোমাকে বদলে দেয়।”

সত্যিই, এই পথ যেন আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিচ্ছিল — প্রকৃতির নীরবতা, ইউরোপের শৃঙ্খলা, আর এক আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের অনুভূতি একসাথে মিশে যাচ্ছিল।

সুইস সীমান্তে ঢোকার পর দৃশ্য বদলে গেল হঠাৎ। পাহাড়গুলো হয়ে উঠল আরও মহিমান্বিত, তুষারে ঢাকা চূড়াগুলো সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করছিল। লেক, উপত্যকা আর সাদা ছাদের ঘরগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, আমি পৃথিবীর কোনো ছবির বইয়ে ঢুকে গেছি। ট্রেন যখন লেক জেনেভার ধারে এসে পৌঁছাল, নীলচে জলরাশির ওপরে ভেসে থাকা আলোর প্রতিফলনে পুরো আকাশ যেন রূপালি হয়ে উঠল।

জেনেভায় নামতেই প্রথম অনুভব করলাম এক গভীর শান্তি — শহরটি যেন একদিকে আধুনিকতার প্রতীক, অন্যদিকে মানবতার এক পবিত্র কেন্দ্র। জাতিসংঘের সদর দপ্তর **(UN Office at Geneva)**-এর সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো, ছোট শহরের আমি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলোচনার মঞ্চে পৌঁছে গেছি। বিভিন্ন দেশের পতাকা বাতাসে উড়ছে, আর প্রতিটি পতাকাই যেন শান্তির আহ্বান জানাচ্ছে।

কনফারেন্স হলে যখন ঢুকলাম, চারপাশে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, গবেষক, ও নীতিনির্ধারকদের মুখ — এক অবিশ্বাস্য পরিবেশ। আমি ভাবছিলাম, এই শহর, এই মানুষগুলো, এই আলোচনা — সবকিছুই যেন এক বিশ্বসংলাপ, যেখানে সীমান্ত মুছে গিয়ে মানবতা এক হয়ে দাঁড়ায়।

সন্ধ্যায় লেক জেনেভার পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে দূরে দেখছিলাম **Jet d’Eau** — সেই বিখ্যাত ফোয়ারা, যার জলরাশি আকাশ ছুঁয়ে যায়। সূর্যাস্তের সোনালি আলোয় পাহাড়, লেক আর শহর যেন একত্রে মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অপার্থিব দৃশ্য।

> আবার মনে পড়ল পারস্য কবি হাফিজের কবিতা —
> “দূর দেশে খুঁজো না স্বর্গ,
> যদি হৃদয়ে শান্তি থাকে,
> তবে সেই হৃদয়ই জেনেভার লেক।”

এই যাত্রা আমাকে শুধু এক কনফারেন্সে নিয়ে যায়নি, বরং এক চিন্তার গভীরে নামিয়ে দিয়েছিল — শান্তি, সহযোগিতা, আর বৈশ্বিক ঐক্যের অর্থ কী, তা চোখের সামনে দেখেছিলাম।

ডার্মস্টাড থেকে জেনেভা পর্যন্ত এই ভ্রমণ আমার জীবনের এক একাডেমিক দায়িত্বের চেয়েও বড় কিছু — এটি ছিল আত্মার এক সফর। যেখানে প্রতিটি স্টেশন, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি মানুষের হাসি আমাকে শিখিয়েছে — জ্ঞান কেবল বইয়ে নয়, পথের ধুলোতেও লুকিয়ে থাকে।

🌄🕊️

🌍✨ **আমি নাসির ঘুরেছি বিশ্বের সাত মহাদেশের 60 টি দেশ ۔ আজ বলবো ইউরোপের তিনটি দেশের বাস জার্নি ۔পর্তুগালের লিসবন থেকে স্প...
08/10/2025

🌍✨ **আমি নাসির ঘুরেছি বিশ্বের সাত মহাদেশের 60 টি দেশ ۔ আজ বলবো ইউরোপের তিনটি দেশের বাস জার্নি ۔পর্তুগালের লিসবন থেকে স্পেন হয়ে ফ্রান্সের প্যারিস বাস জার্নি 2022 সালে— দুই দিনের রোমাঞ্চ, পাহাড়ের কোলে স্বর্গের ছোঁয়া** 🇵🇹🇪🇸🇫🇷

জীবনের কিছু ভ্রমণ থাকে, যা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নয় — বরং নিজের ভেতরের এক নতুন জগত আবিষ্কারের যাত্রা। আমার জন্য তেমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় ছিল **পর্তুগালের লিসবন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস পর্যন্ত টানা দুই দিনের বাস ভ্রমণ**, স্পেন হয়ে ইউরোপের তিন দেশের পাহাড়, নদী আর ইতিহাসের বুক চিরে।

2022 সালে পর্তুগাল ছিলাম Nova IMS এর ফেলো হিসেবে UNSDG এর প্রজেক্টে কয়েক মাসের জন্য ۔ দেশে ফিরার সময় মনে হলো ফ্রান্স দিয়ে যাই বাসে ۔লিসবনের সকালে যখন বাসটা ছাড়ল, তখন শহরটা ঘুমঘুম, কিন্তু আমার মনে উত্তেজনা আর কৌতূহল। ধীরে ধীরে শহরের সীমান্ত পেরিয়ে বাস উঠতে লাগল পর্তুগালের পাহাড়ি পথে। জানালার বাইরে ভেসে উঠছিল ছোট ছোট গ্রাম, পাথরের ঘর, চাষের মাঠ, আর দূরে নীলচে পাহাড়ের চূড়া। রাস্তা যেন আঁকাবাঁকা নদীর মতো, কখনো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে, কখনো সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে।

স্পেনের সীমান্তে ঢোকার পর প্রকৃতি যেন আরও রঙিন হয়ে উঠল। পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন গ্রামগুলো দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো পুরোনো চিত্রকরের তুলি থেকে জীবন্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের আত্মা। গির্জার ঘণ্টাধ্বনি, অলস দুপুরে ক্যাফেতে বসা মানুষ, আর বাতাসে ভেসে আসা লেবু ফুলের ঘ্রাণ — যেন স্বপ্নের ভেতর এক বাস্তব।

সেই সময় মনে পড়ল এক পারস্য কবির অমর পংক্তি —

> “যদি স্বর্গ কোথাও থাকে, তবে সে এখানেই,
> পাহাড়ের এই কোলে, নীল আকাশের নিচে।”
> (— হাফিজ শিরাজী)

সত্যিই, স্পেনের পাহাড়ি গ্রামের দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল — স্বর্গ বলতে যদি কিছু থাকে, তবে সেটি এই নিস্তব্ধ পাহাড়, এই সবুজ উপত্যকা, আর আকাশ ছোঁয়া মেঘের মাঝে লুকিয়ে আছে।

রাত নামলে বাসের জানালায় প্রতিফলিত হচ্ছিল চাঁদের আলো, আর পেছনে ভেসে আসছিল স্পেনের কোনো দূর গ্রামের ঘণ্টাধ্বনি। ক্লান্ত চোখের ভেতর তখনও ভাসছিল দিনের দেখা দৃশ্যগুলো — যেন এক চলন্ত কবিতা।

দ্বিতীয় দিনের সকাল শুরু হলো ফ্রান্সের সীমান্তে প্রবেশের উত্তেজনায়। বাতাসে ছিল শীতলতা, কিন্তু মনে ছিল উষ্ণতা — নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন রাস্তা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর অবশেষে যখন প্যারিসে পৌঁছালাম, সন্ধ্যার আলোয় ঝলমল করছিল সেই বহু প্রতীক্ষিত দৃশ্য — **আইফেল টাওয়ার**। দূর থেকে তার আলোকিত ছায়া দেখে মনে হলো, এই দুই দিনের দীর্ঘ যাত্রা শুধু এক দর্শন নয়, বরং এক জীবনের শিক্ষা — ধৈর্য, রোমাঞ্চ, আর স্বপ্নের শক্তি।

প্যারিসের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল — আমি যেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে গেছি, আর পেছনে ফেলে এসেছি হাজার পাহাড়, নদী আর গল্প।

এই টানা দুই দিনের বাস যাত্রা শুধু লিসবন থেকে প্যারিসে পৌঁছানোর নয় — এটা ছিল এক আত্মিক ভ্রমণ, যেখানে প্রতিটি মোড়, প্রতিটি পাহাড়, প্রতিটি সূর্যাস্ত যেন একেকটা জীবনের কবিতা হয়ে আমার মনে গেঁথে গেছে।

🚌💫

> “পথই আসল সৌন্দর্য, গন্তব্য নয়।” — পারস্য প্রবাদ

🌙 আমি নাসির ঘুরেছি 60 টি দেশ ও সাত মহাদেশ ۔ আজ বলবো ইউরোপের বলকান দেশ বসনিয়া ভ্রমণ : অটোমান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার আর ১...
08/10/2025

🌙 আমি নাসির ঘুরেছি 60 টি দেশ ও সাত মহাদেশ ۔ আজ বলবো ইউরোপের বলকান দেশ বসনিয়া ভ্রমণ : অটোমান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার আর ১৯৯০-এর যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নে মোস্তার শহর** 🇧🇦

আরব্য উপন্যাসে যেমন রাতের শহরগুলোর বর্ণনায় আলোর ঝলক, নদীর কল্লোল আর ইতিহাসের গন্ধ মিশে থাকে, তেমনি বসনিয়ার **Mostar** শহর যেন বাস্তবের সেই রূপকথা। আমি ২০২৩ সালে এই শহরে চার মাস কাটিয়েছিলাম **UNMO University**-তে এক্সচেঞ্জ প্রফেসর হিসেবে। চারদিকের পাহাড় আর নীলা নদীর কোলে গড়ে ওঠা এই শহরটি শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং ইতিহাস আর সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল।

মোস্তারের রাস্তায় হাঁটলে মনে হয় সময় থেমে আছে — এখানে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ৫০০ বছরের পুরোনো অটোমান আমলের মসজিদগুলো, যেগুলোয় আমি নামাজ পড়েছি, ইফতার করেছি স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে। অটোমান সাম্রাজ্যের সময় (১৫শ শতাব্দী থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত) বসনিয়া ছিল ইসলামিক সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল কেন্দ্র। সেই সময়েই নির্মিত হয় মোস্তারের প্রতীক — বিখ্যাত **Stari Most (Old Bridge)**, যা শুধু একটি সেতু নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক সংযোগের প্রতীক।

কিন্তু এই শান্ত শহরও একসময় ছিল আগুনের মধ্যে। ১৯৯০-এর দশকে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে পড়ার সময় শুরু হয় ভয়াবহ **Bosnian War (1992–1995)**। সার্ব, ক্রোয়াট এবং বসনিয়ান মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে মোস্তারও রক্তে রঞ্জিত হয়। সেই যুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়, শহরের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যায়, এমনকি ঐতিহাসিক **Old Bridge** পর্যন্ত ধ্বংস হয় ১৯৯৩ সালে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ২০০৪ সালে এই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হয় — আজ এটি শান্তির প্রতীক এবং UNESCO World Heritage Site।

ঈদের দিন, যাকে স্থানীয়রা বলে **“বৈরম”**, মোস্তারের সেই পুরোনো ব্রিজে আমি দেখেছি মানুষ কেমন করে ইতিহাসের ক্ষত ভুলে একসাথে উৎসব পালন করে। শিশুদের মুখে হাসি, হাতে মিষ্টি, নদীর ধারে সাদা পোশাকের ভিড় — মনে হয়, যুদ্ধ আর কষ্টকে পেছনে ফেলে জীবন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।

আজ মোস্তার শুধু বসনিয়ার নয়, পুরো ইউরোপের কাছে এক প্রতীক — যেখানে অটোমান ঐতিহ্য, ইসলামিক সৌন্দর্য, এবং ৯০-এর দশকের যুদ্ধের স্মৃতি একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। এই শহর শেখায়, সভ্যতা ধ্বংস হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস, শান্তি আর ভালোবাসা কখনো মরে না।

🕌💧

আমি নাসির উদ্দিন , ঘুরেছি বিশ্বের 60 টি দেশ ۔ কোন মহাদেশ আমার বাকি নেই ভ্রমণ লিস্টে ۔ সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় আজকে থাকবে ব...
07/10/2025

আমি নাসির উদ্দিন , ঘুরেছি বিশ্বের 60 টি দেশ ۔ কোন মহাদেশ আমার বাকি নেই ভ্রমণ লিস্টে ۔ সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় আজকে থাকবে বলকানের এক দেশ থেকে অন্য দেশে বাই রোডে ভ্রমণের তিক্ত অভিগ্যতা : 🌍🚌🇧🇦 **Bosnia to Croatia – A Long Road, Endless Beauty & A Lesson of Patience** 🇭🇷🌊

২০২৩ সালের সেই ভ্রমণের দিনটা আজও মনে আছে যেন কালকের ঘটনা। বসনিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়ার পথে রওনা দিয়েছিলাম বাসে করে। সকালটা ছিল ঠান্ডা, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, আর বাতাসে ছিল ইউরোপের নরম শীতের ছোঁয়া। 🏞️

বাসটা ধীরে ধীরে চলছিল পাহাড়ের কোল ঘেঁষে — এক পাশে সবুজে মোড়া উঁচু-নিচু পর্বত, অন্য পাশে গভীর খাদ আর সেই নিচে নীলাভ সাগর— Adriatic Sea-এর ঝলমলে জলরাশি রোদে চিকচিক করছে। 🌄🌊 রাস্তার বাঁকে বাঁকে যখন বাসটা ঘুরছিল, মনে হচ্ছিল আমি কোনো সিনেমার দৃশ্যের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।
প্রকৃতি এমনভাবে ছড়িয়ে ছিল যে চোখ সরানোই মুশকিল।

কিন্তু সেই মনোমুগ্ধকর যাত্রার মাঝেই এলো এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত! 😓
ক্রোয়েশিয়ার বর্ডারে পৌঁছাতেই ইমিগ্রেশন অফিসাররা আমার **বাংলাদেশি পাসপোর্ট** দেখে থেমে গেলেন। সঙ্গে ছিল **Schengen কার্ড** এবং **৬০ টিরও বেশি দেশের ভিসা**, তবুও তাঁদের মুখে এক ধরনের সন্দেহের ছাপ। যেন বলতে চায় — “এই পাসপোর্ট নিয়ে এতদূর কেমন করে?”

তারপর শুরু হলো জেরা, যাচাই, প্রশ্ন, আর অপেক্ষা। পুরো বাসভর্তি যাত্রীসহ আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম প্রায় **দুই ঘণ্টা** ধরে। আমি শান্তভাবে উত্তর দিচ্ছিলাম, মনে মনে ভাবছিলাম — এটা হয়তো আমাদের পাসপোর্টের “fade up experience”! 😔
বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করা মানেই যেন বারবার নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়, প্রতিটি সীমানা পেরোতে হয় ধৈর্যের পরীক্ষায়।

অনেকে বিরক্ত হচ্ছিলেন, কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছিলেন, কিন্তু আমি জানতাম — প্রতিটি জার্নি, প্রতিটি বিড়ম্বনার মধ্যেই শেখার কিছু থাকে।

অবশেষে, দীর্ঘ যাচাইয়ের পর তারা সব কিছু মিলিয়ে দেখে **সম্মান প্রদর্শন করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেন**। হাসিমুখে এক অফিসার বললেন, “Welcome to Croatia!” 🇭🇷
সেই মুহূর্তে বুকটা হালকা লাগছিল, যেন একটা ছোট যুদ্ধ জিতে ফেলেছি।

এরপর বাসটা আবার ছুটে চলল পাহাড় ঘেঁষে আঁকাবাঁকা পথে, সমুদ্রের পাশ দিয়ে। সূর্যের আলো ধীরে ধীরে লালচে হয়ে যাচ্ছিল, আর Adriatic উপকূলের ঢেউগুলো যেন সেই দিনের ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছিল। 🌅
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পৌঁছালাম **Dubrovnik** — শহরটা যেন একটা জীবন্ত চিত্রকর্ম। পুরনো শহরের পাথরের দেয়াল, লালচে ছাদের ঘর, আর সমুদ্রের নীল জল মিলে এক অবর্ণনীয় সৌন্দর্য।

সেই মুহূর্তে মনে হলো — ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্য নয়, এর প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি অনিশ্চয়তাই আসলে আমাদের অভিজ্ঞতার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। 💫

🇧🇩 হ্যাঁ, আমরা হয়তো Bangladesh passport নিয়ে ভ্রমণ করি, তাই পথে পথে একটু বেশি প্রশ্ন, একটু বেশি দেরি — কিন্তু সেই ধৈর্যই আমাদের গল্পকে করে তোলে আরও মূল্যবান। 💪🌍

Address

Esplanade
Altona, VIC
3018

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Probashi Kamla International posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share