10/03/2026
ইরানি পাইলটরা জানত, এটা একটা আত্মঘাতী মিশন। তারা জানত, বেঁচে ফেরার চান্স প্রায় জিরো পারসেন্ট।
২ মার্চ সোমবার সকালে, দুইটা Su-24 মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটারজেট নিয়ে আকাশে উড়ে দুইজন ইরানি পাইলট। তাদের গন্তব্য কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস। যেখানে ১০ হাজার মার্কিন সেনার বাসস্থান। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রাডার ব্যবস্থা ও মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের মজুদ।
এই বেসকে উড়িয়ে দেওয়া মানে মার্কিনীদের একদম কলিজায় আঘাত করা। মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে এই বেসকে একদম নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ফাইটারজেট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরানি এয়ারফোর্স।
রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য ইরানি পাইলটরা মাত্র ৮০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। খুবই দক্ষ পাইলট ছাড়া, এত নিচু দিয়ে ফ্লাই করা বেশ কষ্টসাধ্য। CNN-কে এক সোর্স বলেছে যে, Su-24 ফাইটারজেটগুলো খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল, ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল ফাইটারজেটের বোমা ও মিসাইল।
ইরানি পাইলটরা জানত, তাদের সামনে অপেক্ষা করছে প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম। কাতারি এয়ারফোর্সে থাকা অত্যাধুনিক আমেরিকান F-15 ফাইটার জেট। ১৯৭০-এর দশকের Su-24 দিয়ে এগুলোকে মোকাবেলা করা ও ফাঁকি দিয়ে মিশন সফল করা প্রায় অসম্ভব।
একটা সময় কাতারি রাডারে ধরা পড়ে ফাইটারজেট গুলো। কাতারি F-15 ফাইটার জেট থেকে ওয়ার্নিং ও দেওয়া হয় ইরানি পাইলটদের। কিন্তু তারা কোনো রেসপন্স করেনি। আল উদেইদ বেস থেকে মাত্র ২ মিনিট দূরে ছিল ইরানি পাইলটরা। আর ঠিক সেই সময়েই Su-24 দুইটাকে শুটডাউন করে কাতারি এয়ারফোর্স।
এত পুরনো ফাইটারজেট নিয়ে মিশনের এত কাছে চলে আসাটাই প্রমাণ করে পাইলটরা কতটা দক্ষ ছিল। তাদের হাতে চায়নিজ J-10C থাকলে সিনারিও ভিন্ন হতে পারত।
ইরানি পাইলটরা শাহাদাত বরণ করেছে, না ইজেক্ট করতে পেরেছিল, এ নিয়ে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি পাইলটরা প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের জন্য শাহাদাত বরণ করতে তারা কতটা ব্যাকুল হয়ে ছিল।