11/06/2022
৩০শে মে SUB Pharmacy Adventure Club যাত্রা শুরু। শুরুতেই সবার মধ্যে ছিলো বিশেষ এক আনন্দ। অনেকেই বলতে ছিলো ক্লাবটির হয়ে কবে ট্যুরের আয়োজন হবে। যেহেতু ফার্মেসি ডিপার্টমেন্টেরই একটা ক্লাব সেহেতু ক্লাস,ল্যাব,সিটি, প্রেজেন্টেশন দিতে দিতে সবার মধ্যে একধরনের ক্লান্তির ছাপ ছিলো। তো সবার কথা চিন্তা করেই বাজেট ফ্রেন্ডলি একটি ট্যুরের প্লানিং করা৷ যেহেতু সবারই ক্লাস,সিটি,প্রেজেন্টেশন চলতে ছিলো তাই দূরের কোনো জায়গার প্লানিং না করে ঢাকার আশেপাশে কোনো একটা জায়গাতেই ক্লাবের প্রথম ট্যুরের কথা ভাবতে হয়। এডমিন সবার মতামতের ভিত্তিতে "ইলিশের রাজ্য মাওয়ার" কথা চলে আসে। পরবর্তীতে গ্রুপেও পোস্ট দিয়ে সবাইকে জানানো হয়। সবার আগ্রহ দেখে আমরা আরও সাহস পাই। সবার মতামতের ভিত্তিতে ৯ই জুন রাতে মাওয়া যাওয়ার প্লানিং করা হয়। বাজেট রাখা হয় মাত্র ৭০০ টাকা। ট্যুরের প্লানিং হলো আর কোনো বাধা আসবে না তা কি হয়...!! ৯ই জুন বাধা হয়ে আসলো বৃষ্টি। এডমিন সবার মধ্যেই চিন্তার ভাজ আজকে ট্যুর দেয়া সম্ভব হবে কিনা..!! বাধা আসলে সেই বাধা জয়ও করতে হয়। প্রথমে বাসে যাওয়ার প্লানিং করলেও রাতের মাওয়া যাত্রা এবং বৃষ্টির কথা চিন্তা করে একটা হাইস গাড়ি ভাড়া করার প্লানিং করা হলো। বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি পর একটা হাইস গাড়ি ভাড়া করা হলো। যেহেতু আমরা ১৬ জন মানুষ ছিলাম সেহেতু একটা হাইস গাড়ি হয়ে যাবার কথা । সব ঠিক করার পর রাত ১১ঃ৩০ টার দিকে আমাদের ক্যাম্পাসের সামনে থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু। আমাদের গাড়ি চলতে থাকে আর সিনিয়র জুনিয়র মেলবন্ধনে হাসিঠাট্টা, খুনসুটি চলতে থাকে। রাতের মাওয়া যাওয়ার দৃশ্য আসোলেই অসাধারণ। হাইওয়ে গুলোর আলোকসজ্জা সবাইকেই মুগ্ধ করবে। রাত ১২ঃ৪০ এ আমরা মাওয়া পৌছাই। দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার তাই মাওয়াতে ঘুরতে আসা মানুষদের ভীড়ও ছিলো অনেক৷ গাড়ি থেকে নেমেই এডমিন সুমিতের ক্ষুধার আর্তনাদ। তাই নাস্তা হিসেবে সবাই মিলে পরোটা, ডিমভাজি খাওয়া হলো। নাস্তা শেষে পদ্মার পাড়ে পদ্মার ঢেউ গুলোর তালে তাল মিলিয়ে শুরু হলো তানভীর,টিটু,মামুন,ফাহমিদের গানের আসর। ওদের গানের সাথে তাল মিলিয়ে গান গায় বাকি সবাই। আমাদের সবার জন্য পদ্মা নদীর পক্ষ থেকে ছিলো ফ্রি ঠান্ডা বাতাস। এভাবেই চলতে চলতে আমাদের রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়। তো যেটার জন্য মাওয়া আসা সেই রুপালি ইলিশের সন্ধানে আমাদের ইলিশ তল্লাশি শুরু হয়। এতো ইলিশের মাঝে ভালো টাটকা ইলিশ খোঁজাই ছিলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তো প্রায় ৩০ মিনিট খোঁজাখুজির পর "বিসমিল্লাহ হোটেলে" আমরা টাটকা ২টি ইলিশ পাই। ইলিশ খাবো কিন্তু সরিষার তেল নিয়ে ইলিশ ভাজা হবে হবে তা কি হয়..? তাই কাটাকুটির পর সরিষার তেল দিয়ে ইলিশ ভাজা হলো। সাথে ছিলো ইলিশের লেজ ভর্তা,ডিম ভর্তা,বেগুনভাজা,ডাল,
সালাদ,কোল্ড ড্রিংকস। অহহহ হ্যা সাথে আরো ছিলো টিটুর জন্য পাঙ্গাস মাছ ফ্রাই। কারণ সে নাকি ইলিশ খায় না। খাবার রেডি হয়ে যাবার পর ক্ষুধার্ত সবার পেট পূজো শুরু হয়। যেখানে সবার মুরব্বি সাঈদ (বুড়ো) একাই ৫ প্লেট ভাত খেয়ে ফেলে। যাক পেট পুজোর পর সবাই আমার পদ্মার পাড়ে আড্ডা দেয়ার উদ্দেশ্যে হাটতে থাকি। পদ্মার পাড়ে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেই চলতে থাকে আমাদের আড্ডা,খুনসুটি। এরই মাঝে ভোর হয়ে যায়। আমাদেরও ঢাকার উদেশ্যে যাত্রার সময় হয়ে যায়। যাত্রার আগে সবাইকে নিয়ে পদ্মার পড়ে গরম গরম চা খেয়ে আমরা ঢাকার উদেশ্যে রওনা দেই। সারারাত নির্ঘুম থাকার পর ক্লান্ত সবাই গাড়িতে আর নিজেদের সজাগ রাখতে পারলো না। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে আরেক এডমিন আসিফ। সবার ঘুমন্ত ছবি সে ক্যামেরা বন্দী করে। ভোর ৬ঃ১৫ মিনিটে আমরা ঢাকাতে চলে আসি। এভাবেই আমাদের ক্লাবের প্রথম ট্যুরের যাত্রা সুন্দরভাবে সমাপ্তি ঘটে।
মাওয়া ট্যুর ছিলো এসইউবি ফার্মেসি এডভেঞ্চার ক্লাবের আয়োজনে প্রথম ট্যুর। প্রথম ট্যুরে ১৬ জন ভ্রমণ প্রিয় মানুষ নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সুন্দর একটি ট্যুরের আয়োজন হয়েছে৷ এই ক্লাবের উদ্দেশ্য যেটা তা হলো এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের জন্য আমাদের ডিপার্টমেন্টে একটা প্লাটফর্ম করা এবং এডভেঞ্চার এর মাধ্যমে সিনিয়র জুনিয়র মেলবন্ধনের মাধ্যেমে সম্পর্ক গুলোকে আরো শক্তিশালী করা। সেই হিসেবে এসইউবি ফার্মেসি এডভেঞ্চার ক্লাব প্রথম ট্যুরে সফলই হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সামনে আরো সুন্দর কিছু ট্যুরের মাধ্যেমে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।