UttaraCare

UttaraCare Uttara DayCare and Training Centre

Bangladesh slips 2 steps in corruption index, second-worst in South Asia Tribune Report Bangladesh better than only Afgh...
02/06/2021

Bangladesh slips 2 steps in corruption index, second-worst in South Asia
Tribune Report


Bangladesh better than only Afghanistan in the region

Bangladesh has slipped two places in the Global Corruption Perception Index 2020 released by the Transparency International (TI) and is ahead only of Afghanistan in tackling graft among its South Asian neighbours.

The index by the Berlin-based organization for last year was released by its Bangladesh chapter, Transparency International Bangladesh (TIB), on Thursday.

Bangladesh is positioned at 146 among 180 countries in the latest rankings.

The CPI uses a scale of 0 to 100, which means 100 is very clean and 0 is most corrupt. Bangladesh’s score in the latest index is 26.

“The performance is disappointing — no improvement in score or ranking from the top and significantly lower than 2019 in terms of ranking from the bottom,” TIB Executive Director Dr Iftekharuzzaman said about Bangladesh while revealing the Corruption Perception Index (CPI).

“Of the eight South Asian countries, Bangladesh remains second lowest both in score and rank — better than only Afghanistan, which has ranked 165th from the top and scored 19, three points higher than last year,” Iftekharuzzaman noted.

According to the CPI, Bangladesh’s ranking is the 4th lowest among 31 countries in the Asia-Pacific included in the index — only better than Cambodia, Afghanistan and North Korea.

No country was able to obtain the full score of 100 in the index.

Denmark and New Zealand jointly secured the first place as the least corrupt nations by scoring 88.

Also read - TIB study: 14% to 76% corruption found in climate change projects

Meanwhile, South Sudan and Somalia emerged as the most corrupt countries with the score of 12.

Besides, France and the US became notable low performers with scores below 70.

Factors behind Bangladesh’s ‘disappointing’ rank

TIB Executive Director Iftekharuzzaman said the government had declared a zero-tolerance policy against corruption, but its ex*****on is hardly satisfactory.

He pointed out several key factors behind Bangladesh’s “disappointing” rank including the “failure of high-profile anti-corruption pledge to be transformed into reality”, the “erosion of political integrity”, “dysfunctionality of key institutions”, “sustained impunity”, and the detachment of policies from public interest.

Corruptions in the health sector amid the Covid-19 crisis, ineffectiveness of the ACC in holding the “big fish” accountable and restrictions on freedom of speech are some of the other reasons, added Dr Iftekharuzzaman.

Ranking over the years

Bangladesh ranked first as the most corrupt country for four successive years — 2001, 2002, 2003 and 2004.

In 2006, 2007, 2008, 2009 and 2010 it ranked 3rd, 7th, 10th, 13th and 12th, respectively.

Bangladesh became the 13th most corrupt country in 2011 and 2012. It ranked 16th in 2013, 14th in 2014, 13th in 2015, 15th in 2016, 17th in 2017, 13th in 2018 and 14th in 2019.

13/05/2021
অন্তঃসত্ত্বা নারীর করোনা হলেবিগত এক বছরে করোনা মহামারি আমাদের ছেড়ে যায়নি, বরং নতুনরূপে নতুন ধরনে আরও মারাত্মক আকারে দেশ...
29/04/2021

অন্তঃসত্ত্বা নারীর করোনা হলে

বিগত এক বছরে করোনা মহামারি আমাদের ছেড়ে যায়নি, বরং নতুনরূপে নতুন ধরনে আরও মারাত্মক আকারে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে দ্বিতীয় ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তাতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্ক তরুণ–যুবারাও অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন আর কেউ কেউ জটিলতায়ও পড়ছেন। এবার দেখা যাচ্ছে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বেশিসংখ্যক হারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই কম বয়স্ক নারীদের মধ্যে এমন অনেকেই পড়ে যেতে পারেন, যাঁরা গর্ভধারণ করেছেন বা করবেন। করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে এই নারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এখন বাচ্চা নেবেন?
অনেকেই হয়তো এই সময় সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁদের প্রতি আমাদের উপদেশ, অতিমারি নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখাই ভালো। করোনার সংক্রমণ গর্ভবতী নারী বা তাঁর অনাগত সন্তানের বাড়তি কোনো ক্ষতি করে বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হওয়া, অক্সিজেন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য ঝুঁকি যে কারও মতোই রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি সমস্যায় আগে থেকেই ভুগছিলেন। তার ওপর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রচণ্ড চাপ, পরিবহনসংকট, বাইরে বের হলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই সময়টা গর্ভধারণের জন্য খুব একটা ভালো সময় নয়। তাই সুযোগ থাকলে আর কিছুদিন সময় নিন।

যদি গর্ভকালে করোনা হয়
গর্ভধারণের শুরুর দিকে বা মাঝামাঝি কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হন, তবে তাঁর চিকিৎসাব্যবস্থা আর দশজন করোনা রোগীর মতোই হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মেডিসিন ও সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকেরা রোগের তীব্রতা অনুযায়ী নির্দেশিকা অনুসরণ করে চিকিৎসা দেবেন। অবশ্যই নিজে নিজে বা কারও পরামর্শে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখে কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। গর্ভকালে করোনা হলে প্রয়োজন বোধ করলে বিশেষ শিল্ড ব্যবহার করে বুকের এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করতেও কোনো বাধা নেই।

গাইডলাইনে নির্দেশিত চিকিৎসা, যেমন স্টেরয়েড বা ডেক্সামেথাসোন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ ইনোক্সাপাইরিন, দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে। অক্সিজেনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অক্সিজেনও। মৃদু মাত্রার রোগীরা বাড়িতে থেকেই সেবা–শুশ্রূষার মাধ্যমে সেরে উঠবেন। তবে অক্সিজেন কমে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। করোনা সংক্রমণ হলেও গর্ভধারণ চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই। বেশির ভাগই সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারবেন যদি নিজে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আর যদি গর্ভধারণের একেবারে শেষ দিকে এসে কেউ করোনায় আক্রান্ত হন, তবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। প্রসব বা সিজারের সময় দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব, যাতে এর মধ্যে তিনি সেরে ওঠেন। আর যদি প্রসবব্যথা শুরু হয়ে যায় বা পানি ভেঙে যায় বা জরুরি পরিস্থিতি হয়, তবে আর দশজন মায়ের মতো স্বাভাবিক প্রসব বা সিজারিয়ান করা যেতে পারে, তবে সব সতর্কতা অবলম্বন করে। করোনা হলেই সিজারিয়ান লাগবে তা নয়, স্বাভাবিক প্রসবও সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটার বা লেবার রুমে সংক্রমণ প্রতিরোধের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো পন্থা
তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের এই সময়টাতে বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে খুবই সাবধানে রাখা উচিত। মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি পালন করা, ভিড় এড়িয়ে চলা ইত্যাদি সযত্নে মানুন। এ সময় অকারণে বা বাজারসদাই করতে বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারও বাড়িতে যাবেন না, বাইরের কাউকে আসতেও বলবেন না।

বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে নিজেকে তার থেকে আইসোলেশন করে ফেলুন এবং মাস্ক পরে থাকুন। গর্ভকালীন অবস্থায় যে ৮ বার প্রসব–পূর্ববর্তী চেকআপ প্রচলিত আছে, করোনাকালে তার ৪টা অনলাইনে বা ভার্চ্যুয়ালি করার পক্ষে মত দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। কর্মজীবী হলে হোম অফিসের সুবিধা নিন বা কাজে গেলে সব সময় মাস্ক পরে থাকুন। বারবার হাত ধোয়ার মতো সতর্কতা পালন করুন।

শারীরিক যেকোনো সমস্যায় আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনে বা অনলাইনে পরামর্শ করুন। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, স্বাদহীনতা, দুর্বলতা ইত্যাদি যেকোনো উপসর্গে দ্রুততম সময়ে করোনার টেস্ট করিয়ে রাখুন। আর সন্তান প্রসবের সময় এগিয়ে এলে তার আগে আগেও একবার করোনা টেস্ট করতে হবে। বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার খান, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করে ফিট থাকুন। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নেবেন না। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। সম্ভব হলে রোদে কিছুক্ষণ বসুন। ইমিউনিটি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো পালন করুন।

রমজান মাসে অন্তঃসত্ত্বা মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবেরমজান মাসে অন্তঃসত্ত্বা মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবেএক...
22/04/2021

রমজান মাসে অন্তঃসত্ত্বা মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবেরমজান মাসে অন্তঃসত্ত্বা মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে
একজন শিশুর স্বাস্থ্য, মেধা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা জন্মরোগ, এগুলো অনেকাংশেই নির্ভর করে তার মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার ওপর। একজন অন্তঃসত্ত্বা মা যদি সঠিক পুষ্টি না পান, তবে শিশুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালরির প্রয়োজন হয়, তাই স্বাভাবিক সময়ের থেকে তাকে বেশি পরিমাণে খেতে হয়।

পবিত্র রমজান মাসে যেহেতু দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, তাই এ সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা রোজা রাখা না রাখা নিয়ে বেশ দ্বিধায় থাকেন। একদিকে রোজা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ, অপরদিকে সারা দিন অভুক্ত থাকলে শিশু সঠিক পুষ্টি পাবে কি না, সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা! যদিও ইসলামি নিয়মানুসারে গর্ভবতী মায়ের রোজা রাখার ওপর শিথিলতার কথা উল্লেখ আছে। হবু মায়ের রোজা রাখা অনেকাংশেই নির্ভর করে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর। গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশু উভয়ই যদি সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, তবে মায়ের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই।

গর্ভকালীন সময়কে যদি তিন ভাগে ভাগ করা হয়, তবে প্রথম তিন মাস বেশ জটিল। এ সময়ে মাতৃগর্ভে শিশুর প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়। তাই মায়ের শরীরে সঠিক মাত্রায় পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পানির সরবরাহ জরুরি। তা ছাড়া এ সময়ে বমি, খাদ্যে অরুচি, মাথাব্যথা, ওজন কমে যাওয়াসহ কিছু জটিলতাও দেখা দেয়। তাই প্রথম তিন মাসে রোজা না রাখাই ভালো।

মধ্যবর্তী তিন মাসে গর্ভের শিশুর গঠন তৈরি হয়ে যায়। গর্ভবতী মা এ সময় অপেক্ষাকৃত ভালো বোধ করেন। মা ও শিশুর যদি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকে এবং মায়ের ওজন ঠিক থাকে, তাহলে এ তিন মাসে তার রোজা রাখায় কোনো বাধা নেই। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রথম তিন মাসের মতো শেষ তিন মাসও গর্ভবতী মাকে অধিক সতর্ক থাকতে হয়। এ সময়ে গর্ভের শিশুটি দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাই এ সময়ে মা ও শিশুর খাওয়াদাওয়ার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। রমজান মাসে যেসব অন্তঃসত্ত্বা নারী রোজা রাখতে চান, তাঁদের অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রোজা রাখলে করণীয়
গর্ভবতী নারী যদি রোজা পালন করেন, তবে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।

রোজার ক্লান্তি কমাতে বিশ্রামের মাত্রা বাড়িয়ে দিন।

দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন।

বেশি হাঁটবেন না এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না।

ভারী কিছু বহন করবেন না।

সাহ্‌রি, ইফতার ও রাতের খাবারের প্রতি মনোযোগী হোন।

রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

যেহেতু কোভিড-১৯ এখনো চলমান, তাই বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
দীর্ঘ এক মাসের রোজার যেকোনো সময়ে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে নিচের সমস্যাগুলোর যেকোনোটিতে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

গর্ভের সন্তান নড়াচড়া না করলে।

তলপেটে ব্যথা অনুভব করলে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম করার পরও যদি ঘুম ঘুম ভাব হয় বা দুর্বলতা অনুভব হয়।

বমি ও মাথাব্যথা হলে।

জ্বরজ্বর ভাব হলে।

গর্ভের শিশুর ওজন যদি না বাড়ে।

ঘনঘন প্রস্রাব¯হলে এবং গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হলে।

মনে রাখতে হবে, একজন অন্তঃসত্ত্বা মা তাঁর নিজের শরীরে অন্য একটি জীবনকে ধারণ করছেন। তাই সেই জীবনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব মায়ের ওপর বর্তায়। যেখানে আল্লাহ অন্তঃসত্ত্বা মায়ের জন্য রোজা শিথিল করে দিয়েছেন, তাই তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য গর্ভের শিশুর সামান্যতম ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। আপনি যদি যথেষ্ট শক্ত-সমর্থ ও সুস্থ হয়ে থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অনায়াসেই রোজা রাখতে পারেন।

ওহ! জনন, যাও এখান থেকে পড়তে বসো, আমাকে বিবক্ত কোরো না; আহান, তুমি কিন্তু সারা দিন বিরক্ত করছ—এ–ই হয়তো চলছে ঘরে ঘরে। মা–ব...
20/04/2021

ওহ! জনন, যাও এখান থেকে পড়তে বসো, আমাকে বিবক্ত কোরো না; আহান, তুমি কিন্তু সারা দিন বিরক্ত করছ—এ–ই হয়তো চলছে ঘরে ঘরে। মা–বাবারা ইতিমধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছেন ছোট্ট জনন, আহান, নামিরা বা জাহানদের নিয়ে। মাঝেমধ্যে শিশুদের ঘিরে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যও তুঙ্গে। কিন্তু এ অনিশ্চয়তার কালে সত্যি কি আমাদের অসহিষ্ণু হওয়া উচিত।

কী করবে এই শিশুরা। নেই খেলার মাঠ, নেই স্কুল। মা–বাবা ছাড়া ওদের এই মুহূর্তে আর কেউই নেই। বলতে গেলে তারা বিশাল সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। সেখানে খড়কুটো আসলে মা–বাবাই। তাই এমন সময় অধৈর্য বা বিরক্তি নয়। বরং শিশুর প্রতি প্রকৃত অর্থে হতে হবে যত্নশীল। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় অতীব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একটি শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্য, দ্বিতীয়টি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য এবং তৃতীয়টি শিশুর সামাজিক যোগাযোগ।

শিশুকে নিয়ে কী করা, কী করলে একটু কোয়ালিটি সময় অতিবাহিত করবে, এমন অন্ধকারেও পাবে আলোর দিশা। স্কুল, খেলার মাঠ, প্রাইভেট, আর্ট বা গানের শিক্ষক, ঘুরতে যাওয়া নেই বলে চার দেয়ালের মধ্যেই শিশুটি সুযোগ পাবে জানার, খেলার, জ্ঞানার্জনের। হ্যাঁ, আমাদের এগোতে হবে গঠনমূলক ও সৃষ্টিশীলতার পথে। চার দেয়ালের মধ্যেই খুঁজতে হবে সুযোগ। কিন্তু কীভাবে, আছে অনেক পথ। যেহেতু করোনার শেষ গন্তব্যকাল আমাদের জানা নেই। তাই শিশুকে নিয়ে থাকতে হবে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

ডিজিটালইজেশনের এই যুগে করোনার কারণে শতাব্দীর ভয়াবহতম সময় কাটাচ্ছি, একই সঙ্গে ডিজিটাল ডিভাইস বা অনলাইন টুলসগুলোকে পুঁজি করেই খুঁজতে হবে বাঁচার বা বাঁচার সুযোগ।

ছোটবেলায় পড়েছি বিজ্ঞানের অভিশাপ ও আশীর্বাদের কথা। অনিশ্চয়তার একালে ভুলে যান অভিশাপের কথা। ভাবুন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ আশীর্বাদের মধ্যেই আছেন। ভাবুন তো আজ থেকে এক শ বছর আগের কথা, ইউরোপের স্প্যানিশ ফ্লুর কথা, কলেরা মহামারির কথা বা তারও আগে প্লেগ মহামারির কথা। তখনো মানুষ বন্দী ছিল, সামাজিক দূরত্ব পালন করেছে। অনিশ্চয়তার অন্ধকারে মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগহীন হয়ে নিজের ঘরকে মৃত্যুর আগেই বানিয়েছিল মৃত্যুপুরী। কিন্তু আমরা কতটা ভাগ্যবান দেখুন, ঘরে বন্দী থাকলেও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে থেমে নেই আমাদের যোগাযোগ, বিশ্বকে জানার অফুরন্ত সুযোগ। অনলাইন টুলসগুলোতে নিজেকে তুলে ধরার, প্রকাশ করার, তথ্য জানার ও জানানোর নিরবচ্ছিন্ন মাধ্যম একেবারেই হাতের মুঠোয়। টিভি, মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ আছে অনেক কিছু। এত কিছু থাকা সত্ত্বেও যদি আমরা শিশুদের কোয়ালিটি মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক সুস্থতা দিতে ব্যর্থ হই, তবে সত্যিই এ অপারগতার দায় শুধুই আমাদের।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করুন সময় ও বয়স উপযোগী প্রাত্যহিক রুটিন। দিনটিকে ভাগ করুন তিনটি ভাগে। সকাল, দুপুর ও রাত। সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা, ৩টা থেকে ৭টা, রাত ৭টা থেকে ১১টা। এ তিনটি ফেজকে নানা ধরনের অ্যাকটিভিটিস দিয়ে শিশুর জন্য তৈরি করুন বয়স ও সময় উপযোগী কর্মপরিকল্পনা।

উদাহরণস্বরূপ নাশতা করা, পাঠ্যবই পড়া, টিভি দেখা, বাগান করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, গোসল করা। এ সময় শিশুদের নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুরাগ তৈরি করা যেতে পারে নামাজ বা প্রার্থনার অভ্যাস। বিকেল থেকে সন্ধ্যা চিত্রায়ণ, গানের বা কবিতার চর্চা, ব্যায়াম, নাশতা করা বা শিশুর পছন্দ অনুযায়ী অন্য কিছু। রাতে আবার পাঠ্যবই পড়া, নিউজ দেখা বা ইউটিউব থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস বা রহস্যকাহিনি শোনানো, টেলিভিশনে খবর দেখা, ডিনার করা, ব্রাশ করা, হাত ধোয়া, বিছানা তৈরি করা, মশারি টানানো, পানি খাওয়ার মতো কিছু সু–অভ্যাস।

শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে শিশুর খাদ্যাভ্যাস বা ইমিউনিটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে মা–বাবার থাকতে হবে একটি সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা। ঘরে আছি, বাজার–সদাই আছে পর্যাপ্ত। যা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশিই আছে। তাই বলে ঘুমঘুমাট রান্নাবান্না, ইউটিউব থেকে নতুন নতুন রেসিপি সংগ্রহ শিশুর ওপর তার অযাচিত প্রয়োগ একেবারেই ভুল চিন্তা। বাচ্চা বাইরে যেতে পারছে না, বাসাতেই চিকেন ফ্রাই, কেক, মিস্টি, বিবিয়ানি, পোলাও চলছে। এটি যদি হয় আপনার প্রাত্যহিক খাদ্য পরিকল্পনা, তবে সত্যিই আমরা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। প্রথমেই বলেছি, মহামারির এই কালেও আশীর্বাদে আছি, এ জন্যই যে কর্মব্যস্ততার এই যুগে বিলাসিতার ফাস্টফুড আর ইউরোপিয়ান খানাদানা একেবারেই পরিহার নয়, তবে দেশি পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু ধারার খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি বিশাল সুযোগ।

বাড়ির রাঁধুনি হিসেবে আপনাকে হতে হবে অত্যন্ত রুচিসম্পন্ন, সচেতন। খাবার পরিবেশনকে ঘিরে আপনার সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ রন্ধনশৈলী শিশুর বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সুস্থ ও উন্নত শরীর গঠনে এই মুহূর্তে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পরিবারকে ঘিরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পুষ্টিকর খাবার তৈরি করতে পারে উন্নত ইমিউনিটি সিস্টেমের সুস্থ জাতি, যা করোনা নামক এই অদৃশ্য কিন্ত ভয়ানক ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে জোগাবে অফুরন্ত শক্তি।

খাদ্যতালিকা
খাবার বিষয়ে মায়েরা শিশুকে পুষ্টিকর তেল, মসলা ছাড়া ফাস্টফুডের মুখরোচক খাবারের বিপরীতে ঘরে তৈরি খাবার দেবেন। হতে পারে সকালের নাশতায় ডিম, রুটি সবজি বা দু-তিন ধরনের ডাল মিলিয়ে খিচুড়ি। সকাল দুপুরের মাঝখানে লেবু, আমলকী বা ফলের জুস, বাদাম, গাজর, শসা। দুপুরে মাছ বা মাংস, ডাল, কালোজিরা ভর্তা, সাদা ভাত। বিকেলে মসলা ছাড়া হালকা নাশতা, থাকতে পারে আদা বা লেবু মিশ্রিত রং চা। রাতে স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে এক কাপ দুধ থাকলে ভালো। যেহেতু মায়েরা কাজের ফাঁকে অনলাইন টুলসগুলোর সঙ্গে থাকেন, সেহেতু ঘরের খাবারের মধ্যে কী কী ভিটামিন আছে, কোন কোন ভিটামিনের ঘাটতি আছে, যদি এই মুহূর্তে সেগুলো সংগ্রহ করতে না পারেন, তবে এর বিকল্প কী আছে, তা ইউটিউব থেকে জেনে নিতে পারেন।

ব্যায়াম
শিক্ষক হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, শিশুরা শারীরিক কসরতে অত্যন্ত আনন্দ পায়। আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, তেল, চর্বিযুক্ত খাবার শিশুদের মধ্যে যে অবিস বা ল্যাথারজিক ভাব তৈরি করে, তার বিপরীতে ব্যায়াম শিশুর ইমিউনিটি সিস্টেমকে বুস্টআপ করবে। দরকার হলে আপনার বাসায় ৪০ থেকে ৪৫ ইঞ্চির যে স্মার্ট টিভিটি আছে, তাতে ব্যায়ামের টিউটরিয়ালগুলো ডাউনলোড করে শিশুদের দেখাতে ও চর্চা করতে উদ্ধুদ্ধ করতে পারেন।

আরেকটি বিষয় নিয়মিত ঘুম। ঘরে আছি বলে অধিক রাতে ঘুমানো, সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা পরিহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুম, সময়মতো খাওয়া আপনার ও শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক স্বাস্থ্য
শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যর মতোই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য। মনে রাখবেন, শিশুরা ছোট হলেও মনস্তত্ত্বের দিক থেকে তারা আমাদের মতোই পূর্ণাঙ্গ। তাদেরও চিন্তা হয়, হয় টেনশন ও ডিপ্রেশন। আমাদের মতো প্রকাশ করতে পারে না। এই সংকটকালে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করছে পরিবারের সদস্যদের ইতিবাচক মানসিকতার ওপর। দিশাহীন, অবরুদ্ধ এই শিশুদের মনস্তত্ত্বের পুরো অংশজুড়ে আছে পরিবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক নির্দেশিকায় শিশুর জন্য ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ তৈরির কথা জানানো হয়েছে। শিশুকে নিজেদের সঙ্গে রেখে সদাচরণ করার প্রতি জোর দিয়েছে সংস্থাটি। শিশুদের অযাচিত চিন্তা থেকে দূরে রেখে, পারিবারিক রুটিন অনুসরণ করে অতিরিক্ত পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের বোঝা না চাপিয়ে খেলাধুলা বা অঙ্কনের মতো সৃষ্টিশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। আর এ রকম সংকটকালীন মুহূর্তে শিশুরা যেহেতু মা–বাবার অতিরিক্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবে, সে ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। যেসব শিশু কোভিড–১৯–এর বিষয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন, তাদের বয়স উপযোগী তথ্যগুলো সততার সঙ্গে জানিয়ে বাস্তবতা মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এনেছে, তা হলো শিশুর আচরণগত পরিবর্তন। যেহেতু শিশুরা এ সময় বড়দের আচরণ ও আবেগ, অনুভূতি দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং তাদের আবেগগুলো ম্যানেজ করার চেষ্টা করবে, তাই বড়দের মানসিক স্বাস্থ্যও এই সংকটকালে ইতিবাচক থাকা জরুরি।

খেলাধুলা
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একদল মনস্তত্ত্ববিদের মতে, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে খেলাধুলা তত্ত্ব অত্যন্ত কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে ইনডোর গেম (লুডু, দাবা, ক্যারম, ভারসাম্য দৌড়, বল নিক্ষেপ ইত্যাদি), জ্ঞানানুশীলনমূলক খেলা (শব্দজট, কোনো বিষয় নির্ধারণ করে বলা, কুইজ, রাইমিং শব্দ তৈরি, যোগ-বিয়োগের খেলা ইত্যাদি)। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে এসো নিজে করি এর আওতায় খেলার ছলে নানা শিক্ষণীয় বিষয় শেখানো। এ ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অনলাইনভিত্তিক টিউটরিয়াল থেকে পেতে পারেন বয়স উপযোগী ইনোভেটিভ আইডিয়া।

সংকটকালে আশার খবরগুলো শিশুদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে শেয়ার করা, করোনা থেকে বাঁচার উপায়, বিজ্ঞানীরা করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন, অতিদ্রুতই প্রতিষেধক তৈরি হয়ে যাবে, মহামারির কাল শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না, আবার স্বাভাবিক হবে সবকিছু। স্বপ্ন দেখান স্কুলে যাওয়ার, ঘুরতে যাওয়ার, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করার। দেখবেন দিন পার হচ্ছে আনন্দের সঙ্গে। শিশুর মনস্তত্ত্বকে প্রাধান্য দিয়ে শিশুকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে পালন করুন অগ্রদূতের ভূমিকা।

শিশুদের কথাটা শুনুন
শিশুদের আনন্দে রাখতে ওদের মনের কথাটা শুনুন ও সময় দিন। যোগাযোগ বিছিন্ন না রেখে তাদেরও সামাজিক যোগাযোগ করার সুযোগ করে দিন। তাই সম্ভব হলে অনলাইনে প্রিয় শিক্ষক, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বা ফ্যামিলি গ্রুপ তৈরি করে শিশুদের দাদা-দাদি, নানা-নানি, কাকা-মামা বা কাজিনদের কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিন। গ্রুপে তথ্যভিত্তিক লেখা বা পারিবারিক গল্প, মজার মজার শিক্ষামূলক ভিডিও, প্রতিদিন কে কী করছেন, কীভাবে আছেন, জানার সুযোগ তৈরি করে দিন।

আশা করি ভালো থাকব আমরা, ভালো থাকবে আমাদের শিশুরা। অনিশ্চিত এ যাত্রায় ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি, শিশুদের যত্নে রাখি।

লেখক: শিক্ষক, মর্নিং গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শিশু শিক্ষা মনস্তত্ত্ব ব্যবস্থপনা বিশ্লেষক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের সব স্কুল–কলেজ ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিশুরা বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছে। এই সময়ে শিশুরা মানসিক...
19/04/2021

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের সব স্কুল–কলেজ ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিশুরা বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছে। এই সময়ে শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে, বিরক্তিবোধও হতে পারে। কেউ কেউ হতে পারে আতঙ্কগ্রস্ত। কাজেই শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাড়িতে রাখুন: শিশুদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতেই স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। কাজেই আপনার সন্তানকে বাইরে যেতে না দিয়ে বাড়িতেই রাখুন। মার্কেট, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল, আত্মীয়ের বাড়ি বা দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় এটা নয়। তাতে ঝুঁকি বাড়বে। কোচিং কিংবা নাচ–গান বা সাঁতারের ক্লাসও বন্ধ রাখতে হবে। ঘরে সীমিতভাবে শিশুদের খেলার বন্দোবস্ত করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

কথা বলুন: শিশুদের অন্ধকারে না রেখে চলমান ঘটনা, সমস্যা আর নির্দেশনা নিয়ে সহজ ভাষায় ও খোলামেলা কথা বলুন তাদের সঙ্গে। তাদের কাছে সমস্যার প্রকৃত অবস্থা ব্যাখ্যা করুন। বিজ্ঞানসম্মত আর সঠিক সূত্র থেকে তথ্য নিন এবং তাদের বুঝিয়ে বলুন কেন বাড়িতে থাকতে হচ্ছে, বাইরে গেলে কী সমস্যা হতে পারে আর কীভাবেই–বা আমরা সতর্ক থাকতে পারি।

শিক্ষা দিন: সন্তানকে শেখান, করোনা কীভাবে ছড়ায়, এর প্রতিরোধের উপায় কী। সাবান–পানি দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়ম দেখিয়ে দিন। হাত দিয়ে নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ না করা, হাঁচি–কাশি এলে টিস্যু দিয়ে নাক–মুখ ঢাকা এবং তারপর টিস্যু যথাস্থানে ফেলা, টিস্যু না থাকলে হাতের কনুইয়ের ভাঁজে হাঁচি–কাশি দেওয়ার কৌশল শেখান।

>
শিশুদের বিরক্তিবোধ কাটাতে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। ঘরে সীমিতভাবে শিশুদের খেলার বন্দোবস্ত করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

আশ্বস্ত করুন: এ সময় পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নানা সংবাদ শিশুরা ভীত–উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে। তাদের আশ্বস্ত করুন। বলুন, দেশে এই সংক্রমণ হচ্ছে বলে যে সবারই হবে, তা নয়। সংক্রমিত বেশির ভাগ রোগীই যে সেরে ওঠে, তা জানান।

হাইজিন রক্ষা করুন: বাড়িতে বসে থাকলেই যে শিশু নিরাপদ, তা নয়। কেননা বাড়িতে প্রায়ই বাইরের লোক, গৃহকর্মীর যাতায়াত আছে। মা–বাবা নিজেরাও বাইরে কাজে যান। কাজেই বাইরে থেকে যে–ই আসুক, প্রথমে ভালো করে হাত ধুয়ে, বাইরের জামা–কাপড় বদলে তারপর শিশুর কাছে যাবেন। বাইরে থেকে আনা যেকোনো জিনিস স্পর্শ করলে হাত ধুতে হবে। বাড়ির মেঝে, দরজার হাতল, টেবিল, সুইচ ইত্যাদি যেসব বস্তু অনেকে স্পর্শ করে, সেগুলো বারবার সাধারণ ডিটারজেন্ট ও পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।

ভালো কাজে ব্যস্ত রাখুন: শিশুদের বিরক্তিবোধ কাটাতে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। ঘরেই খেলায় মেতে উঠতে পারেন। সন্তানকে বই পড়তে ও গান শুনতে উৎসাহিত করুন। কিছু একটা লিখতে দিন বা কোনো সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন। সারা দিন টিভি দেখে বা গেম খেলে সময় কাটানো যাবে না।

সতর্ক থাকুন: বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে, জ্বর–কাশি–শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত তাকে আলাদা করুন। শিশুকে কাছে যেতে দেবেন না। বিদেশফেরত কাউকে দেখতে যাওয়ার দরকার নেই। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়া থেকেও বিরত থাকুন।

যোগব্যায়াম একটি দুর্দান্ত শৃঙ্খলা যা শিশুরা অজান্তে মনোমোটর বিকাশ এবং ভারসাম্য অনুশীলন করে এবং তাদের পেশী শক্তিশালী করে...
16/04/2021

যোগব্যায়াম একটি দুর্দান্ত শৃঙ্খলা যা শিশুরা অজান্তে মনোমোটর বিকাশ এবং ভারসাম্য অনুশীলন করে এবং তাদের পেশী শক্তিশালী করে এবং আরও বেশি নমনীয়তা বিকাশের মাধ্যমে সহজাতভাবে অনুশীলন করে।

আমাদের যে অগ্রাধিকার বিশ্বাস করা শক্ত হয় তা সত্ত্বেও, বাচ্চারা তাদের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই, যোগব্যায়াম অনুশীলন করতে জানে বলে মনে হয়। এবং যদি তা না হয় তবে তারা যখন শুয়ে থাকে ততক্ষণ তারা কীভাবে একদিকে এবং অন্য দিকে ঘুরবে notice

তারা কীভাবে পা তুলতে সক্ষম হন এবং কীভাবে শিশুটি পরিবর্তনের টেবিলের শীর্ষে থাকতে খুশি হয় বা যখন তিনি বিখ্যাত সূর্য অভিবাদন (স্থির, দৃ firm়ভাবে, মাথার উপরে হাত প্রসারিত করে) করেন সেদিকেও মনোযোগ দিন যখন সে তার বন্ধুদের সাথে খেলবে, যেমন দেহের ভাষার সাথে প্রকাশ করে: "দেখুন আমি কত মহান!"!

শুধু তাই নয় যদি ছোটদের জন্য পছন্দসই অবস্থান থাকে তবে তা হ'ল কোবরা, যা তাদের বাহু এবং ঘাড়ের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং তাদের নিকটতম পরিবেশটি স্ক্যান করতে দেয়। এবং এগুলি তাদের কাউকে শেখানো ছাড়াই এই traditionalতিহ্যগত যোগ ভঙ্গ করে। অবিশ্বাস্য, তাই না? আচ্ছা এটা সত্য।

আপনার শিশুকে যোগ শিখতে অনুকরণ করুন
একবার আপনি যোগ অনুশীলনের জন্য এর স্বাচ্ছন্দ্যটি পর্যবেক্ষণ করেছেন, আপনি যদি চান তবে আপনি এই ছোট্ট একটির সাথে এই শৃঙ্খলা শুরু করতে পারেন এবং কেন, এমনকি কোনও যোগ্য শিক্ষকের সাথে কোর্সেও না।

অবশ্যই, ইতিমধ্যে আপনি বাড়িতে সামান্য যোগী অনুপ্রেরণার উত্স হিসাবে পরিবেশন করতে পারেন । কিভাবে? মনে রাখবেন যে বাচ্চারা ভালবাসে যে আমরা তাদের অনুকরণ করার চেষ্টা করি এবং যদি তারা যথেষ্ট বয়স্ক হয় তবে তাদের এই খেলাটির সাথে একটি দুর্দান্ত সময় থাকে - আমরা এগুলিকে আয়না বলতে পারি - যার মধ্যে স্পষ্টতই, সবচেয়ে আনাড়ি আমাদের, প্রাপ্তবয়স্করা ।

অধিকন্তু, চার বছর বয়স থেকে, যিনি 'কুকুরছানা নীচে তাকান' করতে সক্ষম হন তিনি তার হাত বাড়িয়ে তোলেন না।

বয়স বাড়ার সাথে যোগের সুবিধা :
যোগব্যাকে খেলাধুলা এবং মজাদার অনুশীলন করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আমরা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে শিশুরা যখন বড় হতে শুরু করে, নীচে তালিকাভুক্ত সমস্ত কারণে এই শৃঙ্খলাও একটি আদর্শ বিকল্প:

- এটি অনুশীলন স্ট্রেস পরিস্থিতি এড়িয়ে যায়, যারা এটি অনুশীলন করে তাদের শিথিলকরণ এবং খেলার জায়গাতে, শরীরের স্বাস্থ্য গড়ে তোলার সরঞ্জাম , শিথিলকরণ, ঘনত্ব এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সচেতনতা সরবরাহ করে ।

- এটি আবেগের স্বাস্থ্যকে উত্সাহ দেয়, জীবনের চ্যালেঞ্জগুলির পক্ষে স্বাস্থ্যকর উপায়ে সাড়া দিতে সহায়তা করে।

- একটি সংবেদনশীল স্তরে, যোগব্যায়াম, শরীরের কাজ, শ্বাসের কৌশল এবং ঘনত্বের চাষের মাধ্যমে, শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসকে উদ্দীপিত করে, যখন গভীর এবং বিশ্রামে ঘুমকে অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করে।

- শারীরিক এবং শরীরের স্তরের এটি পেশী শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং একই সাথে বৃহত্তর নমনীয়তা বিকাশ করে যা শিশু বিকাশের পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় something

- যোগব্যায়াম অনুশীলন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতেও সহায়তা করে, কারণ এটি সমন্বয়, প্রতিক্রিয়া সময় এবং মেমরির ক্ষমতা সমর্থন করে । এর সাথে যুক্ত হয়েছে সমস্যাগুলি সমাধান করার এবং তথ্য অর্জনের পাশাপাশি তাদের কল্পনা এবং সৃজনশীলতাকে উত্সাহিত করার দক্ষতার উন্নতি।

আপনি ইতিমধ্যে জানেন। যদি আপনার শিশু পছন্দ করে এবং যোগব্যায়াম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় তবে সমস্ত সুবিধা।

শৈশবের হই-হুল্লোড়, ছোটাছুটি আর খেলার সাথিদের সঙ্গে ধুলোবালিতে গড়াগড়ির দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই হয়তো বুকের ভেতর মে...
14/04/2021

শৈশবের হই-হুল্লোড়, ছোটাছুটি আর খেলার সাথিদের সঙ্গে ধুলোবালিতে গড়াগড়ির দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই হয়তো বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। দিনমান দৌড়াদৌড়ির এত শক্তি আমরা কোথায় পেতাম? আর এমন কীই-বা করতাম আমরা যা এত শক্তি জোগাত? শৈশবের নানা খেলাধুলা আর শারীরিক কসরতের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সেই সব ব্যায়াম যা আমাদের শরীরকে বেড়ে উঠতে আর সুগঠিত হতে সহায়তা করত। শিশুদের এসব ব্যায়ামে সহায়তা করুন আর আপনি নিজেও ওদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফিরে যান শৈশবে।

দড়ি লাফ
অল্প সময়ে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো এবং সহনশক্তি বাড়ানোর কাজে দড়ি লাফের জুড়ি নেই। এটা এমন একটা ব্যায়াম যা ঘরে-বাইরে সবখানেই চর্চা করা যায়। বিপণিবিতান তো বটেই পাড়া-মহল্লার দোকানেই সস্তায় সুন্দর সব স্কিপিং রোপ পাওয়া যায়। কয়েকটা কিনে বাড়িতে রাখুন। শিশুদের খেলতে দিন, সঙ্গে নিজেও খেলুন। এই ব্যায়ামে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি শরীরের গতি, ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের চর্চা হবে। আধা ঘণ্টা দড়ি লাফে প্রায় ৫০০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব।

বানর ঝুলনি
শরীরে শক্তি বাড়াতে হলে একটু আদিম আর বুনো হতে হবে! অনেক স্কুলের মাঠেই মাঙ্কি বার বা বানর ঝুলনি থাকে। শিশুরা এমনিতেই এটা পছন্দ করে। ঝুলে ঝুলে একটু একটু করে সামনের দিকে এগোনো কিংবা দলবেঁধে একসঙ্গে ঝুলে থাকা। দুই হাত, কাঁধ, পিঠসহ শরীরের ওপরের অংশকে সুগঠিত করতে এটা দারুণ কার্যকর। বাড়ির উঠোনে এমনকি ঘরের বারান্দাতেও ছোট্ট পরিসরে এই বানর ঝুলনি বানিয়ে নিতে পারেন।

সাইকেল চালানো
সাইকেল চালানো এমন এক ব্যায়াম যা সাঁতারের মতোই প্রায় পুরো শরীরে কাজ করে। সাইকেল চালিয়ে ঘেমে-নেয়ে ওঠা যায়। সাইকেল চালানো যেমন শ্বাসযন্ত্রসহ হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো, তেমনি তা মাংসপেশি সুগঠিত করা থেকে শুরু করে শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সহায়ক। শিশুদের সাইকেল চালানোর সুযোগ দিন। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্যও এটা দারুণ কার্যকর।

দৌড়ানো
শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন সব সময়ের জন্যই দৌড় এক দারুণ ব্যায়াম। শিশুরা মনের আনন্দে দৌড়াতে পারলেও বড়দের জন্য দৌড়ানোটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। খোলা মাঠে দৌড়ানোর সুযোগ পেলে খুবই ভালো। শিশুদের মাঠে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আর তা না হলে উদ্যানে বা ভোরের রাস্তায় দৌড়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।

হুলা হুপ
হুলা হুপ বা কোমরে চাকতি ঘোরানো দারুণ মজার এক খেলা। একসময়, বিশেষ করে কিশোরীদের মধ্যে এই কোমরে চাকতি ঘোরানো খেলা দারুণ জনপ্রিয় ছিল। একবার এই ঘূর্ণি আয়ত্ত করে ফেলতে পারলে শিশুরা এতেই মত্ত হয়ে থাকতে চাইবে। প্রতি ১০ মিনিটেই ১০০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব এই চাকতি ঘোরানোয়।

সাঁতার কাটা
সাঁতার শিশুদের জন্য এত ভালো আর প্রয়োজনীয় একটা ব্যায়াম যে, সম্ভব হলে সব স্কুলেই সাঁতারের ব্যবস্থা রাখতে পারলে ভালো হতো। এটা শিশুদের শরীর গঠনে দারুণ উপকারী। পুরো শরীরেই ব্যায়াম হয় সাঁতারে। মাংসপেশির গঠন, ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড শক্তিশালী করা এবং শরীরে সহনশক্তি বাড়ানোয় সাঁতার দারুণ উপকারী।

জোসেফকে দেখে অধ্যাপক স্টেনলি দীর্ঘস্থায়ী একটি গবেষণা শুরু করলেন যেটা পরে ৪৫ বছর ধরে চলেছে। এই সময়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি ...
13/04/2021

জোসেফকে দেখে অধ্যাপক স্টেনলি দীর্ঘস্থায়ী একটি গবেষণা শুরু করলেন যেটা পরে ৪৫ বছর ধরে চলেছে। এই সময়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি অসামান্য প্রতিভাধর শিশুদের জীবন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেসবুকের স্রষ্টা মার্ক জাকারবার্গ এবং পপ তারকা লেডি গাগার মত অত্যন্ত সফল সব ব্যক্তিত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৮ সালে মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুলিয়ান স্টেনলি ১২ বছরের এক বালকের সন্ধান পান। জোসেফ বেটস নামে ছেলেটি ঐ বয়সেই জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ছিল। অসামান্য প্রতিভাধর ছিল ঐ কিশোর।

গুগলের সের্গেই ব্রিন, লেডি গাগা বা মার্ক জাকারবার্গের মত প্রতিভাধর মানুষদের শিশুকাল গবেষণার অংশ ছিল

জোসেফ বেটসের জীবনে কী হয়েছিল? সে খুবই ভালো করেছিল পরবর্তী জীবনে।

ইউনিভার্সিটিতে গ্রাজুয়েশন শেষে ডক্টরেট ডিগ্রি পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। তাকে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ বলে ধরা হয়।

অধ্যাপক স্টেনলি জন হপকিন্স বিশ্ববদ্যালয়ে তার গবেষণা কর্মসূচি শুরু করেন।

চমকে যাওয়ার মতো কিছু ফলাফল দেখতে পান তিনি।

জোসেফ বেটস। ১২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েছেন। তারই সূত্রে শুরু হয় প্রতিভা নিয়ে দীর্ষ গবেষণা

'প্র্যাকটিস মেকস পারফেক্ট' অর্থাৎ চর্চার মাধ্যমে, পরিশ্রমের মাধ্যমেই শুধু চূড়ান্ত সাফল্য দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব বলে প্রচলিত যে বিশ্বাস রয়েছে, গবেষণায় দেখা যায় তা সর্বাংশে সত্য নয়।

পরিবর্তে, প্রফেসর স্টেনলির গবেষণা বলছে, অল্প বয়সে কোনো বিষয় পরিষ্কার করে বোঝার, আত্মস্থ করার এবং সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা যে শিশুর যত বেশি থাকে, পরবর্তী জীবনে তার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। প্রাকটিস অর্থাৎ নিয়মিত চর্চা বা কঠোর পরিশ্রম একমাত্র চাবিকাঠি নয়। এমনকি শিশুর আর্থ-সামাজিক অবস্থার গুরুত্বও ততটা নয়।

সুতরাং অল্প বয়সে আপনার শিশুর বুদ্ধিমত্তা শাণিত করার দিকে নজর দিতে হবে।

শিক্ষাবিদরা বহুবার সাবধান করেছেন, "শিশুদের জবরদস্তি করে প্রতিভাবান করে গড়ে তোলার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হয়। তাদের নানারকম সামাজিক এবং মানসিক সমস্যা তৈরি হয়।"

কিন্তু আপনি যদি আপনার বুদ্ধিমান বাচ্চাকে কোনো চাপের ভেতর না ফেলে তার বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করতে চান, নীচে বর্ণিত কিছু পন্থা চেষ্টা করতে পারেন:

বিচিত্র অভিজ্ঞতায় শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হয়

১.শিশুকে নানা ধরণের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করুন

বুদ্ধিমান শিশুদের উদ্বুদ্ধ রাখতে, আগ্রহী রাখতে তাদেরকে অভিনব সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে হয়। জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সাহস বাড়ায়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, দিনের পর দিন একইরকম গতানুগতিক জীবন আলস্য, স্থবিরতা ডেকে আনে।

নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ প্রতিকুলতার সাথে শিশুর খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বাড়ায়

২. তাদের প্রতিভা এবং আগ্রহকে উৎসাহিত করা
খেলাধুলো হোক বা সঙ্গীত হোক বা নাটকের ক্লাস, এসব নিয়ে আপনার শিশুর আগ্রহ থাকলে অল্প বয়স থেকে সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই প্রতিভা বিকাশের সম্ভাবনা বাড়বে।

তবে 'কিছু হওয়ার জন্য' তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হিতে বিপরীত হবে। সে যা নয়, তা বানানোর চেষ্টা করলে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবেনা।

শিশুকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুণ

৩. বাচ্চার বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আবেগের চাহিদাকে সাহায্য করতে হবে
সমস্ত শিক্ষার মূলে রয়েছে জানার আগ্রহ, জিজ্ঞাসা। স্কুল শুরুর আগেই শিশুরা অনেক প্রশ্ন করে। ধৈর্য না হারিয়ে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরী। তাদের বুদ্ধি বিকাশের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যত "কেন" এবং "কীভাবে" প্রশ্ন তুলবে, স্কুলে তার সাফল্যের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

গবেষণায় বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কিছু প্রশ্নের নতুন উত্তর মিলেছে

৪. জানা বা শেখার চেষ্টার প্রশংসা করুন, তার ক্ষমতাকে নয়
শিশুর শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বেশী প্রশংসা করুন, ফলাফলকে ততটা করবেন ।

নতুন কোনো ভাষা শেখার জন্য তার চেষ্টা, এমনকি সাইকেল চালানোর জন্য তার চেষ্টা - এসবকে উৎসাহিত করুণ। জানার চেষ্টা, শেখার চেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেখার উৎসাহই পরবর্তী জীবনে তাকে সাফল্যের দরজায় নিয়ে যাবে।

শিশুরা যেন ভুল করাকে ভয় না পায়

৫. ব্যর্থতা ভীতিকর কিছু নয়
শিশুর ভুলগুলোকে তার শিক্ষার অংশ হিসাবে দেখতে হবে। ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণকে একটি সুযোগ হিসাবে দেখতে হবে।

ভুল করলে বাচ্চাদের ভবিষ্যতে সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়ে।

অস্বাভাবিক মনে রাখার ক্ষমতা দেখলে বুঝবেন অপনার বাচ্চা হয়তো প্রতিভাধর

৬. কোনো লেবেল বা তকমা নয়
কোনো লেবেল বা তকমা সেটে দিলে আপনার বাচ্চা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যর্থতার ভয়ে সারাজীবন সে কুঁকড়ে থাততে পারে।

শিশুর সাথে লেবেল লাগাবেন না

৭. শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ
প্রতিভাবান শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ চায়।তাদের নিজের গতিতে শিখতে চায়। চলতি শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে তাদের সেই বিশেষ চাহিদা পূরণে বাবা-মাকে শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করতে হবে।

প্রতিভাধর শিশুদের স্বাধীনতা দিতে হবে

৮. শিশুর সক্ষমতা যাচাই
বাড়তি চাপ দেওয়ার জন্য স্কুলের সাথে দেন-দরবার করার আগে আপনার শিশুর শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা নিতে হবে। আপনার শিশুর অনেক অজানা সমস্যা থাকতে পারে। যেমন ডিজলেক্সিয়া, তার মনোযোগের ঘাটতি থাকতে পারে, তার হাইপার-অ্যাকটিভিটি বা অতিমাত্রায় চঞ্চলতার সমস্যা থাকতে পারে।

Address

House No 30, Road No: 08, Sector 15E Uttara
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when UttaraCare posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category