12/05/2026
"বিশ্ব জাকের মঞ্জিল রাজনীতির ঊর্ধ্বে”— খাজা বাবার এই বাণী মূলত ৭০ দশকের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল।
প্রবীণ জাকেরগণ খুব ভালোভাবেই এ বিষয়টি জানেন।
তখনকার সময় ছিল সত্য তরিকা প্রচার ও প্রসারের জন্য জনবল তৈরি করা, ধীরে ধীরে সংগঠিত হওয়ার সময়। অনেকটা নবীজি (সা:) এর মক্কী জীবনের অনুরূপ একটি ধাপ ।
পরবর্তীতে ৯০ দশকে এসে, কেবলাজান হুজুর নিজেই বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও জাকের সংগঠন থেকে “জাকের পার্টি” ঘোষণা করেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে রাজনীতির বাস্তব ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
এই অধ্যায় ছিল নবীজি (সা:) এর মাদানী জীবনের অনুরূপ আরেকটি ধাপ।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ৯১ সালের নির্বাচনে আমরা অনেক মুরিদ কেবলাজানের হুকুমের বাইরে গিয়ে পালাক্রমে মোনাফেকি করেছি। আমাদের এই দুর্বলতা ও অবাধ্যতায় খাজা বাবা অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন। এরপরই তিনি নসিয়তনামা লেখা শুরু করেন এবং সেখানে স্পষ্টভাবে জাকের পার্টি করা ও এর শক্তিবৃদ্ধির জন্য সর্বদা চেষ্টা করার হুকুম দিয়ে যান। এই হুকুম কোনো সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্থায়ী নসিয়ত বা দলিল।
আজ আবার কেউ কেউ খাজা বাবার সেই নসিয়তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে “অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম” ঘোষণা করার অপচেষ্টা করছে। নতুন করে মোনাফেকির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে!
তাহলে প্রশ্ন হলো—
তোমাদের কথামতো, খাজা বাবা কি জাকের পার্টি গঠন করে ভুল করেছিলেন ?
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল থেকে জাকের পার্টির ঘোষণা দিয়ে, নির্বাচন করে, রাজনৈতিক সংগ্রাম শুরু করে— তিনি কি ভুল করেছিলেন ?
খাজা বাবার সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে, তাঁর নসিয়তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও জাকের পার্টি এক ও অভিন্ন।
আর সেই সাথে, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল অবশ্যই একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ।
এই প্ল্যাটফর্মের একমাত্র রাজনৈতিক দল হলো — “জাকের পার্টি”। 🌹
রাজনীতিকে বাদ দিয়ে, কিংবা অস্বীকার করে কেউ কেবলাজানের শান-মান বৃদ্ধি করছেন না; বরং কেবলাজান হুজুর যে নবী পাক (সা:) এর সত্যের দাওয়াতের ধারাকে অব্যাহত রেখে একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছেন, সেটাকেই ছোট করে দেখা হচ্ছে ।
ইসলাম কেবল মসজিদ, খানকা বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে সত্য প্রতিষ্ঠার নামই হলো পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ।
আর সেই পূর্ণাঙ্গ সত্যের ধারাকেই কেবলাজান হুজুর সংগঠিত রূপ দিয়েছিলেন বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও জাকের পার্টির মাধ্যমে ।
অতএব, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে অরাজনৈতিক বলার অর্থ হলো
কেবলাজানের বাস্তব কর্মধারা, নির্দেশনা ও নসিয়তকে অস্বীকার করা।
এখন নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন—বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে ‘অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’ বলা কি কেবলাজানের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে, নাকি তাঁকে সীমিত পরিসরে আবদ্ধ করে দিচ্ছে ?”