Islamic Thought

Directions

Islamic Thought Travel, Clothes & Islamic Stories

প্রিয় নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়...
04/09/2026

প্রিয় নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো, তোমাদের কী হয়েছে। আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন ???

দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।"
পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?
মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর?

যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে।

পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না!

মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে?
তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।.....

যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই।

পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই।

পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল।

যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো:
هل هكذا كان الإتفاق بينن؟!
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!
হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে।

পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই।

পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি।

এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা।

©️ আরবি থেকে অনূদিত।

01/07/2026
.                    ❣️ সায়ী ❣️সাফা আর মারওয়ার মাঝখানে দাঁড়ালে আমার বারবার মনে হয়েছে, পৃথিবীর সব পথ আসলে পায়ের পথ নয়। কি...
27/06/2026

. ❣️ সায়ী ❣️
সাফা আর মারওয়ার মাঝখানে দাঁড়ালে আমার বারবার মনে হয়েছে, পৃথিবীর সব পথ আসলে পায়ের পথ নয়। কিছু পথ বুকের ভেতর দিয়ে যায়।

আজ এখানে সবকিছু আধুনিক। আলো আছে, এসি আছে, ঠান্ডা মেঝে আছে। এত ঠান্ডা যে জুতা বা মোজা ছাড়া হাঁটলে পায়ের পাতায় কেমন শিরশির করে ওঠে। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ হাঁটছে, কেউ দোয়া পড়ছে, কেউ চুপচাপ চোখ মুছছে। বৃদ্ধ মানুষ হুইলচেয়ারে বসে আছেন। কেউ তাকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ ক্লান্ত, কেউ অসুস্থ, কেউ হয়তো জীবনের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে এসেছে এই পবিত্র জায়গায়।

হুইলচেয়ারেরও এখানে ব্যবস্থা আছে। সাধারণ সময়ে যেটা হয়তো ৭০ রিয়ালে হয়ে যায়, হজের দিনগুলোতে সেটাই ৪০০ রিয়ালে উঠে যায়। হজের সময় মক্কায় সবকিছুরই যেন আলাদা হিসাব। মানুষের ভিড় বাড়ে, কষ্ট বাড়ে, খরচ বাড়ে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, এসবের মাঝেও মানুষের চোখে অভিযোগ কম; আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার ধৈর্য আর শান্তি বেশি।

আমি সাফা পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, আজ আমরা যে পথ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করিডোরে হাঁটছি, এই পথ একদিন ছিল মরুভূমির পথ। কোনো এসি ছিল না, কোনো ঠান্ডা মেঝে ছিল না, কোনো হুইলচেয়ার ছিল না। ছিল এক মা। ছিলেন হাজেরা (আ.)। আর ছিল তাঁর তৃষ্ণার্ত শিশু ইসমাইল (আ.)।

একজন মা যখন সন্তানের তৃষ্ণা দেখে, তখন পৃথিবীর কোনো মরুভূমিই তার কাছে মরুভূমি থাকে না। সে দৌড়ায়। সে খোঁজে। সে হারে না।

সাঈ শুরু করার আগে সাফা পাহাড়ে উঠতে হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে মুখ করলে বুকের ভেতর কেমন নরম হয়ে আসে। এত মানুষ, এত ভাষা, এত দেশ, এত গল্প, অথচ সবার চাওয়া প্রায় একই।

আল্লাহ, তুমি কবুল করো।

আল্লাহ, তুমি ক্ষমা করো।

আল্লাহ, তুমি সহজ করে দাও।

সাফায় উঠে সাঈ শুরু করার সময় যে কথাগুলো পড়া হয়, তার অর্থ খুব সুন্দর।

“আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়ে শুরু করছি। নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।”

এই কথাগুলো বলার সময় মনে হয়, আমি শুধু হাঁটা শুরু করছি না। আমি এক ইতিহাসের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি। এক মায়ের ব্যাকুলতার ভেতরে। এক শিশুর পিপাসার ভেতরে। এক নবীর আনুগত্যের ভেতরে।

সাফা বা মারওয়ায় উঠে কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হয়। কাবার দিকে হাত বাড়িয়ে ইশারা করা নয়। সাধারণ দোয়ার মতো দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে চাইতে হয়। প্রথমে তিনবার তাকবির বলা হয়:

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।

তারপর পড়া হয় সেই মহান জিকির:

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

অর্থাৎ "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।"

এরপর মানুষ নিজের ভাষায় কথা বলে। কেউ আরবিতে দোয়া করে। কেউ বাংলায়। কেউ কিছু বলতে পারে না, শুধু কাঁদে। আমার মনে হয়, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাতে কোন ভাষা লাগে না। আল্লাহ তা বুঝেন।

তারপর শুরু হয় সাঈ।

সাফা থেকে মারওয়া গেলে এক চক্কর। মারওয়া থেকে সাফায় ফিরলে আরেক চক্কর। এভাবে সাত চক্কর। মোটামুটি ৩ কিলোমিটারের বেশি পথ। কিন্তু এই হিসাবটা আসলে কিলোমিটারের না। এই হিসাব হলো বিশ্বাসের। এই হিসাব হলো মায়ের চোখের পানির। এই হিসাব হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়ার।

হাঁটার সময় বারবার মনে হচ্ছিল, হাজেরা (আ.) পানি খুঁজছিলেন। অথচ তিনি জানতেন না পানি কোথায়। তিনি জানতেন শুধু এটুকু, চেষ্টা থামানো যাবে না।

সাঈর পথে হাঁটতে হাঁটতে একটি দোয়া পড়া হয়:

“হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান।”

এই দোয়াটা খুব ছোট। কিন্তু এর ভেতরে মানুষের পুরো জীবন ঢুকে যায়। আমরা সবাই তো আসলে এই দুটো জিনিসই চাই। ক্ষমা আর দয়া।

এরপর আসে সবুজ বাতি দেওয়া জায়গা। এই অংশে পুরুষেরা একটু দ্রুত চলে। কেউ ধীরে দৌড়ায়। কেউ বয়সের কারণে পারে না, তবু চেষ্টাটা করে। সেই মুহূর্তে মনে হয়, হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও একজন মায়ের ব্যাকুলতা এখনও বাতাসে রয়ে গেছে। আমরা শুধু তার ছায়াটা ছুঁয়ে যাই।

সবুজ বাতির ওই অংশে পড়ার জন্য সুন্দর একটি দোয়া আছে:

“হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আমাকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।”

এই দোয়াটা পড়তে পড়তে মনে হলো, মানুষ আসলে শুধু গন্তব্যে পৌঁছাতে চায় না। মানুষ সঠিক পথে পৌঁছাতে চায়। কারণ ভুল পথে খুব দ্রুত হাঁটলেও লাভ নেই। আল্লাহ যদি পথ দেখান, ধীরে হাঁটলেও মানুষ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়।

সাফা-মারওয়ার এই চলাচল করতে করতে আমার মনে হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে শুধু বসে থাকতে বলেন না। শুধু কাঁদতে বলেন না। শুধু অপেক্ষা করতে বলেন না। তিনি মানুষকে চেষ্টা করতে বলেন। হাঁটতে বলেন। খুঁজতে বলেন। দরজায় দরজায় যেতে বলেন। তারপর একসময় এমন দরজা খুলে দেন, যেটা মানুষ কল্পনাও করেনি।

হাজেরা (আ.) পানি খুঁজছিলেন পাহাড়ের মাঝে। আর আল্লাহ পানি বের করলেন শিশুর পায়ের কাছে। মানুষ চেষ্টা করবে নিজের সামর্থ্য দিয়ে। ফলাফল আসবে আল্লাহর রহমত দিয়ে।

সাফা-মারওয়া তাই শুধু দুটি পাহাড়ের নাম নয়। এটি এক মায়ের গল্প। এক শিশুর পিপাসার গল্প। এক নবীর আনুগত্যের গল্প। আর আল্লাহর রহমতের এমন এক গল্প, যার ধারা জমজম হয়ে আজও বয়ে যাচ্ছে।

হাজার বছর ধরে মানুষ সেই পানি পান করছে। তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। বোতলে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। ঘরে রাখছে। অসুস্থের মুখে দিচ্ছে। প্রিয়জনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

তবু জমজম ফুরায় না। কারণ কিছু দান কূপ থেকে আসে না। আসে করুণা থেকে।

সাঈ শেষ করে মনে হলো, এই হাঁটা আসলে হাঁটা নয়। এটি বিশ্বাসের পথে চলা। এটি চেষ্টা করার শিক্ষা। এটি মায়ের ভালোবাসার সামনে মাথা নত করা।

আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি মনে করিয়ে দেয়, মানুষ যখন আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চেষ্টা করে, তখন মরুভূমির বুকেও পানি উঠে আসে।





.  ❣️ কাবার কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফ ❣️আপনি কি জানেন..... বর্তমানে কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূ...
17/06/2026

. ❣️ কাবার কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফ ❣️
আপনি কি জানেন.....
বর্তমানে কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত?

যে কিসওয়ার দিকে তাকিয়ে লাখো মুসলিম মুগ্ধ হন, যেখানে সোনালি সুতোয় ফুটে ওঠে কুরআনের আয়াত সেই ক্যালিগ্রাফির পেছনে রয়েছে মুখতার আলম শাকদার–এর হাত।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। বছরের পর বছর অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে, একসময় নিজেই ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হয়ে ওঠেন।

১৪২২ হিজরিতে জেদ্দার ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মুখতার আলমের কাজ দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে, তাঁর ফাইল কাবা বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেন মুখতার আলম এবং সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।

অবশেষে ১৪২৩ হিজরির জমাদাল আউয়াল মাসে (জুলাই ২০০২) তিনি কাবার কিসওয়া কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন।

শুধু যোগ দেওয়াতেই থেমে থাকেননি কাজের ধরনেও আনেন উন্নয়ন। কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফির সূক্ষ্মতা ও নিখুঁত মান নিশ্চিত করতে কম্পিউটারে বিশেষ ইলেকট্রনিক ক্যালিগ্রাফি প্রোগ্রাম চালু করেন, যাতে প্রযুক্তির সাহায্যে আরও নির্ভুলভাবে কাজ করা যায়।

তবে তিনি কিসওয়ার মূল নকশা বদলে দেননি। আগের ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি থুলুথ লিপির ঐতিহ্য বজায় রেখেই কাজ করেছেন। তবে অক্ষরের আকার কিছুটা বড় ক@রা, লেখার প্রস্থ বাড়ানো, নকশার অনুপাত আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং কাবার দরজার পর্দার অলংকরণে সূক্ষ্ম উন্নয়ন এসব তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

সত্যিই গর্ব হয়,
কাবার কিসওয়ার দিকে তাকালে যে সৌন্দর্য চোখে পড়ে, তার পেছনে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীরও রয়েছে বিশেষ ছোঁয়া।

সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ যাকে চান তাকেই সম্মানিত করেন।

❣️মসজিদ আল-কিসাস বা শেখ ইব্রাহিম আল-জুফালি মসজিদ❣️মসজিদ আল-কিসাস (জেদ্দা, সৌদি আরব) — লোকমুখে "গলা কাটা মসজিদ"মক্কা প্রদ...
04/06/2026

❣️মসজিদ আল-কিসাস বা শেখ ইব্রাহিম আল-জুফালি মসজিদ❣️

মসজিদ আল-কিসাস (জেদ্দা, সৌদি আরব) — লোকমুখে "গলা কাটা মসজিদ"মক্কা প্রদেশ বা মক্কার কাছাকাছি অঞ্চলে "গলা কাটা মসজিদ" বলতে জেদ্দার এই মসজিদটিকেই বোঝানো হয়ে থাকে।প্রকৃত নামঃ— মসজিদ আল-কিসাস (বা শেখ ইব্রাহিম আল-জুফালি মসজিদ)।

🌴অবস্থানঃ-
এটি সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের বালাদ (Balad) এলাকায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। এটি মক্কা নগরী থেকে গাড়িযোগে প্রায়ই ০১ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।

🌴 নামকরণের কারণঃ-
ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, এই মসজিদের সামনের চত্বরে (আল-কাসাস স্কয়ার) পূর্বে জুমার নামাজের পর প্রকাশ্য হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বা শিরচ্ছেদ (কিসাস) কার্যকর করা হতো। এই কারণে এটি দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী ও দর্শনার্থীদের কাছে লোকমুখে "গলা কাটা মসজিদ" বা "কল্লা কাটা মসজিদ" হিসেবে পরিচিতি পায়।বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে সেখানে এই ধরনের শাস্তি কার্যকর করার ঘটনা তেমন একটা দেখা যায় না।
এটি এখন একটি সুন্দর ও শান্ত স্থাপত্যের ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে মানুষ নামাজ পড়ার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসেন।

26/05/2026

. ❣️ ২০২৬ ইং এ মিনা থেকে আরাফা ❣️
বিদায় হজ্জে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন।

এই সময় অনেকেই প্রথমবারের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন, তাঁর কথা শুনেন।

তিনি আরাফার ময়দানে, মসজিদে নামিরাহ'তে বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন।

সেই যুগে তো কোনো মাইক ছিলো না।

মাইক ছাড়া ১ লক্ষ+ সাহাবী কীভাবে তাঁর ভাষণ শুনেন?


প্রথমত, এটা ছিলো একটা মুজিযা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষণ অনেক সাহাবী দূর থেকেও শুনতে পান।

দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ময়দানে কয়েকজন সাহাবীকে এই দায়িত্ব দেন। তারমধ্যে একজন ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া ইবনে খালাফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

ওয়েইট এ মিনিট!

উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে?

সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যে কি-না বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মক্কায় অত্যাচার করতো? পিঠে গরম পাথর রেখে অত্যাচার করে বলতো ইসলাম ত্যাগ করতে?

হ্যাঁ, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদদু'আ করেন, বদর যুদ্ধে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যাকে হত্যা করেন, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু।


যার বাবা চেয়েছিলো ইসলামের আলো নিভিয়ে দিতে, ইসলাম গ্রহণের কারণে যে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অত্যাচার করেছিলো, তার ছেলে পালন করেন বিদায় হজ্জের 'মাইক' -এর ভূমিকা!

আহাদুন আহাদ...বলার কারণে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে অত্যাচার করে, তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দেন!

আল্লাহু আকবার!
তথ্যসূত্র:
সহীহ মুসলিম: ২৮৪০

26/05/2026

. ❣️ ২০২৬ ইং এর আরাফাতে দোয়া ❣️
আরাফাতের ময়দান (Plain of Arafat) ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্থান। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা এখানেই সম্পন্ন হয়। মক্কা থেকে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বিশাল সমতল ভূমিটি তিন দিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা।
​আরাফাত ময়দান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলোঃ—
🌴 ​১. অবস্থান ও আয়তনঃ–
​অবস্থান: এটি মক্কা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথে অবস্থিত এবং হরমের (পবিত্র সীমানার) বাইরে অবস্থিত একমাত্র হজের স্থান।
​আয়তন: এই সমভূমিটি লম্বায় প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং প্রস্থে প্রায় ৬.৫ কিলোমিটার। এর উত্তর-পূর্ব কোণে ঐতিহাসিক জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়) অবস্থিত।

🌴 ​২. হজের মূল কেন্দ্রবিন্দু
​ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজের প্রধান স্তম্ভ। মহানবী (সা.) বলেছেন, "আল-হাজ্জু আরাফাহ" অর্থাৎ আরাফাতে অবস্থান করাই হলো হজ।
​তারিখ: জিলহজ মাসের ৯ তারিখ (হজের দিন) সূর্যোদয়ের পর হাজীরা মিনা থেকে এখানে উপস্থিত হন।

​আমল: সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানে অবস্থান করা ফরজ। হাজীরা এখানে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেন এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

​খুতবা: এই দিন ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরা থেকে হজের বিশেষ খুতবা প্রদান করা হয়।

🌴 ​৩. ঐতিহাসিক গুরুত্ব
​আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর মিলন: প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার পর হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই আরাফাতের ময়দানেই পুনরায় মিলিত হয়েছিলেন এবং একে অপরকে চিনতে পেরেছিলেন ('আরাফা' মানে চেনা বা জানা)।

​বিদায় হজের ভাষণ: ১০ হিজরিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ হজ বা বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ এই ময়দানেই প্রদান করেছিলেন।

​দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হওয়ার ঘোষণা: আরাফাতের দিনই পবিত্র কুরআনের সেই বিখ্যাত আয়াত নাজিল হয়েছিল— "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম..." (সূরা মায়িদা: ৩)।

🌴 ​৪. ময়দানের বর্তমান দৃশ্য
​সারা বছর এই ময়দানে জনসংখ্যা কম থাকলেও হজের দিন এটি বিশ্বের বৃহত্তম মানবসমুদ্রে পরিণত হয়।

​এখানে হাজীদের ছায়া দেওয়ার জন্য প্রচুর নিম গাছ লাগানো হয়েছে, যা 'জাবাল-এ-রহমত' এর চারপাশকে সবুজ করে তুলেছে। (কথিত আছে, এই নিম গাছগুলো বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল)।

​বর্তমানে হাজীদের সুবিধার্থে এখানে আধুনিক পানির ফোয়ারা, শৌচাগার এবং যাতায়াতের জন্য মেট্রো রেলের ব্যবস্থা রয়েছে।

.           ❣️ মদিনার ইতিহাসে — ০১ ❣️উম্মতের জন্য নবীজির ﷺ সেই অশ্রুভেজা সেজদা… 💔তিন দিন হয়ে গেছে…মদিনাজুড়ে শুধু একটাই প...
22/05/2026

. ❣️ মদিনার ইতিহাসে — ০১ ❣️
উম্মতের জন্য নবীজির ﷺ সেই অশ্রুভেজা সেজদা… 💔

তিন দিন হয়ে গেছে…
মদিনাজুড়ে শুধু একটাই প্রশ্ন—
“আমাদের প্রিয় নবীজি ﷺ কোথায়?”

সাহাবিদের হৃদয়ে তখন অস্থিরতা আর কান্না।
হযরত উমর ফারুক (রা.) তরবারি হাতে বলে উঠলেন—
“আমার নবীজির যদি সামান্য ক্ষতিও হয়ে থাকে, তবে উমর কাউকে ছাড়বে না!”

পরিস্থিতি শান্ত করলেন হযরত আবু বকর (রা.)।
তিনি বললেন,
“চলুন, আমরা নিজেরাই প্রিয় নবীজিকে খুঁজে বের করি…” 🤍

মদিনা ছেড়ে তাঁরা মরুভূমি পেরিয়ে এক পাহাড়ের কাছে পৌঁছালেন। সেখানে এক মেষপালক কাঁদতে কাঁদতে বলল—

“আমি তাঁকে চিনি না…
কিন্তু পাহাড়ের ওপরে একজন মানুষ সেজদায় পড়ে শুধু বলছেন—
‘ইয়া উম্মাতি… ইয়া উম্মাতি…!’
তাঁর কান্নায় আমার পশুরাও খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে…” 🥺

আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.) পাহাড়ে উঠে দেখলেন—
রহমতের নবী ﷺ সেজদায় লুটিয়ে আছেন…
চোখের পানি মাটিকে ভিজিয়ে দিচ্ছে…
আর ঠোঁটে শুধু একটাই কথা—
“হে আমার উম্মত…” 💔

আবু বকর (রা.) কেঁদে বললেন—😭😭
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সব নেকি আপনার উম্মতকে দিয়ে দিলাম… আপনি মাথা উঠান…”

উমর (রা.) বললেন—
“আমার জীবন, আমার আমল—সব উম্মতের জন্য কুরবান…”

তবুও নবীজি ﷺ মাথা উঠালেন না…

শেষে ডাকা হলো কলিজার টুকরা ফাতিমা (রা.)-কে।
তিনি ছুটে এসে বাবার সেই অবস্থা দেখে ভেঙে পড়লেন… 😭

“আব্বাজান…!
আপনি কি আপনার ফাতিমাকে ভুলে গেছেন?”

তিনি নিজের সব নেকি উম্মতের জন্য দিয়ে দিলেন…
তবুও সেজদা দীর্ঘই রইল…

পাশে ছোট্ট হাসান ও হুসাইন (রা.) কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন—
“নানাজান… উঠুন…” 🤲

অবশেষে ফাতিমা (রা.) কাঁদতে কাঁদতে বললেন—😭😭

“আব্বাজান…!
আপনার গুনাহগার উম্মতের মুক্তির জন্য
আমি আমার হাসান-হুসাইনকেও কুরবানি করে দিলাম…”

তখনই নবীজি ﷺ সেজদা থেকে মাথা উঠালেন… ✨

তিনি বললেন—
“মা ফাতিমা…!
তোমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন…” 🤍

🛐 শিক্ষা:
নবীজি ﷺ আমাদের এতটাই ভালোবাসতেন যে, উম্মতের মুক্তির জন্য তিনি কাঁদতেন।
আর সাহাবি ও আহলে বাইতের জীবন ছিল দ্বীনের জন্য সীমাহীন আত্মত্যাগের উদাহরণ।

💚 নবীজিকে ভালোবাসলে একটা শেয়ার করে দিবেন প্লিজ।
👉 সুবহানাল্লাহ লিখতে ভুলবেন না।
🤲 ইসলামিক পোস্ট পেতে পেইজটি সবাই ফলো করবেন।



18/05/2026

❣️ ২০২৬ ইং এর হজ্জ সফরে মদিনার হোটেল ❣️

মদীনার আগের নাম ছিল “ইয়াসরিব” (Yathrib)।

কিন্তু এই নামের সাথে জড়িয়ে ছিল বিভেদ, যুদ্ধ আর অশান্তির স্মৃতি। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন হিজরত করে সেখানে আগমন করেন, তখন শুধু একটি শহরের নামই বদলায়নি, বদলে গিয়েছিল পুরো ইতিহাস।

ইয়াসরিব হয়ে যায় “মাদীনাতুন নবী” বা নবীর শহর।
সংক্ষেপে, আজ আমরা যাকে বলি “মদীনা”।
এই শহরেই গড়ে ওঠে ইসলামের প্রথম রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠিত হয় মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব, আর এখান থেকেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ইসলামের আলো।

রাসূল ﷺ “ইয়াসরিব” নামটি অপছন্দ করতেন। কারণ আরবি “ثَرَب” শব্দ থেকে এর অর্থ দাঁড়ায় দোষারোপ, তিরস্কার বা অশুভ কিছু। তাই তিনি এ শহরের নাম রাখেন “তাইয়্যিবাহ” (পবিত্র) এবং “তাবাহ”।

পরবর্তীতে নানা বর্ণনায় ‘মদীনা’ নামটি বেশি ব্যবহৃত হয় এবং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এই নামই পছন্দ করতেন। কালক্রমে এই পবিত্র শহরের নাম হয়ে যায় 'মদীনা'!

Address

218, Tropical Center (11th Floor), Elephant Road (Bata Signal More)
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Thought posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share