17/08/2026
🏍️ বাইক মডিফাই করার আগে আইন জানুন—নিজের নিরাপত্তা ও অন্যের অধিকার রক্ষা করুন! ⚖️
প্রিয় National Bikers Family, ❤️
বাইককে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাজানো বা মডিফাই করা অনেকেরই শখ। কিন্তু মনে রাখতে হবে—এমন কোনো পরিবর্তন করা যাবে না, যার ফলে বাইকটি আইন, অনুমোদিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।
বিশেষ করে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী সাইলেন্সার, অননুমোদিত হর্ন, অতিরিক্ত শব্দের যন্ত্রাংশ, অনুমোদন ছাড়া কারিগরি/বাহ্যিক পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়া রং পরিবর্তন আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
⚖️ প্রযোজ্য আইন: সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮
🔹 ধারা ৪০(৪): কারিগরি, অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক পরিবর্তন
রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরযানের কারিগরি, অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন করতে হলে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন গ্রহণের বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ, বাইকে এমন পরিবর্তন করা উচিত নয়, যার কারণে রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হয়। পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
🔹 ধারা ৪০(৫): রং পরিবর্তন
সরকার বা কর্তৃপক্ষ যদি কোনো বিশেষ ধরনের মোটরযানের জন্য নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করে, তাহলে অনুমোদন ছাড়া সেই নির্ধারিত রং পরিবর্তন করা যাবে না।
👉 তাই বাইকের রং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের বিধান ও রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুসরণ করা জরুরি।
🔹 ধারা ৪৫: অতিরিক্ত শব্দ ও অননুমোদিত হর্ন
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী—
❌ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।
❌ অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ন মোটরযানে স্থাপন, পুনঃস্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে না।
❌ নীরব এলাকায় হর্ন বাজানোর ক্ষেত্রেও আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
👉 তাই হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন বা অন্যান্য অননুমোদিত/অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। BRTA-এর বিধানিক তথ্যভাণ্ডারেও অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারের বিষয়ে পরিপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
🔹 সাইলেন্সার পরিবর্তন ও অতিরিক্ত শব্দ
সাইলেন্সার পরিবর্তন করে যদি বাইক থেকে আইন নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি হয়, তাহলে তা ধারা ৪৫-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই শুধু শব্দ বেশি হওয়ার জন্য সাইলেন্সার পরিবর্তন না করে অনুমোদিত ও আইনসম্মত সাইলেন্সার ব্যবহার করুন।
🚨 আইন ভঙ্গ করলে কী শাস্তি হতে পারে?
ধারা ৪০-এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য ধারা ৮৪ অনুযায়ী—
🔸 ন্যূনতম ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা
🔸 সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা
🔸 কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড—উভয় দণ্ড হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধারা ৮৪ সরাসরি ধারা ৪০ লঙ্ঘনের দণ্ড নির্ধারণ করে। তাই বাইকের কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন সত্যিই ধারা ৪০-এর আওতায় পড়ে কি না, সেটি পরিবর্তনের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট বিধি/অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
🏍️ National Bikers Family-এর জন্য আমাদের পরামর্শ
✅ বাইকের মডিফিকেশন করার আগে আইন ও BRTA-এর অনুমোদিত বিধান যাচাই করুন।
✅ অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন সাইলেন্সার ব্যবহার করবেন না।
✅ অননুমোদিত হর্ন, হুটার বা হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করবেন না।
✅ বাইকের কারিগরি, অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিন।
✅ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রং পরিবর্তনের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করুন।
✅ ফগলাইট বা অতিরিক্ত লাইট লাগানোর ক্ষেত্রেও এমন কোনো সেটআপ করবেন না, যা অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন, নিরাপত্তা বা অন্য সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
⚠️ মনে রাখবেন
বাইক আপনার—কিন্তু রাস্তা সবার।
আপনার শখ যেন অন্যের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জনস্বাভাবিক চলাচলের জন্য সমস্যা না হয়।
আইন মেনে বাইক মডিফাই করুন, নিরাপদে রাইড করুন এবং অন্য রাইডারদেরও সচেতন করুন।
❤️ ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী—National Bikers Family
🏍️ Ride Safe Or Stay Home 🏍️
আইনি নোট: পোস্টে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বলা উচিত যে ফগলাইট লাগানোকে সরাসরি সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর একটি নির্দিষ্ট ধারায় সর্বজনীনভাবে নিষিদ্ধ বলা যায় না—তবে আলোটি যদি অনুমোদিত বিন্যাস/নিরাপত্তা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় বা অন্য সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, তখন সংশ্লিষ্ট বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। একইভাবে রং পরিবর্তনের নিষেধাজ্ঞা ধারা ৪০(৫)-এ “বিশেষ ধরনের মোটরযানের জন্য নির্ধারিত রং”-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তাই সব মোটরসাইকেলের রং পরিবর্তনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ বলা ঠিক হবে না। �