30/03/2026
কৃপণ আবু কাসিম ও তার পুরনো জুতো
বাগদাদ শহরে আবু কাসিম নামে এক বিত্তবান কিন্তু প্রচণ্ড কৃপণ মুচি (বা ব্যবসায়ী) বাস করতেন। তার একজোড়া পুরনো জুতো ছিল যা তিনি বছরের পর বছর ধরে তালি দিয়ে ব্যবহার করতেন। জুতো জোড়া এতটাই ভারি আর কদাকার হয়ে গিয়েছিল যে সারা শহরের মানুষ তা চিনত।
বন্ধুবান্ধবের উপহাসে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন তিনি জুতো জোড়া ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় আসল অবাক করা কাণ্ড:
নর্দমায় ফেলে দেওয়া: তিনি জুতো জোড়া নর্দমায় ফেলে দেন। কিন্তু সেই জুতোর কারণে নর্দমা আটকে গিয়ে রাস্তা প্লাবিত হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জুতো চিনে ফেলে এবং কাসিমকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
এরপর তিনি জুতো জোড়া দজলা নদীতে ফেলে দেন। জেলের জালে সেই জুতো আটকে জাল ছিঁড়ে যায়। ক্ষুব্ধ জেলে তার জুতো ফেরত দিয়ে যায় এবং তাকে আবারও জরিমানা দিতে হয়।
মাটি চাপা দেওয়া: তিনি বাগানে গর্ত করে জুতো পুঁতে রাখতে যান। প্রতিবেশীরা মনে করে তিনি গুপ্তধন লুকাচ্ছেন, তাই তারা নালিশ করে এবং পুলিশ এসে তাকে চোর সন্দেহে আটকে রাখে।
আবু কাসিম যেভাবেই জুতো থেকে মুক্তি পেতে চাইতেন, জুতোটি কোনো না কোনোভাবে ফিরে আসত এবং তাকে বিপদে ফেলত। একবার তিনি জুতো জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দিলে তা এক গর্ভবতী মহিলার মাথায় পড়ে তার বড় ক্ষতি করে ফেলে, যার ফলে কাসিমকে তার সর্বস্ব দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
গল্পের শিক্ষা
শেষ পর্যন্ত আবু কাসিম কাজীর কাছে গিয়ে মিনতি করেন যেন তাকে এই জুতোর দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই জুতোর সাথে তার আর কোনো সম্পর্ক নেই।
গল্পটি আমাদের শেখায় যে, অতিরিক্ত কৃপণতা এবং কোনো কিছুর প্রতি অন্ধ মোহ মানুষের জীবনে বিড়ম্বনা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।