08/07/2024
এয়ারপোর্টের কুরিয়ার সংক্রান্ত :-
ডব্লিউটিও ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর ৭.৮ অনুচ্ছেদে ‘এক্সপেডাইটেড শিপমেন্ট’ বিষয়ে পরিষ্কার বলা হয়েছে, সদস্য দেশ হিসেবে আমাদের দ্রুত মাল খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে, ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে, সবকিছুতে ট্রান্সপারেন্সি আনতে হবে এবং কমপ্লায়েন্স হতে হবে। পুরোটা পড়তে আগ্রহীদের জন্য লিংক: https://tfadatabase.org/en/tfa-text/measure/22।
গত ২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় লজিস্টিক নীতি, ২০২৪’ পাস হয়েছে। সরকারি সেই গেজেটের ‘পরিশিষ্ট ০৩, লজিস্টিক খাতের বিস্তারিত নীতি সংস্কার প্রস্তাবনা’র ৩.১ দফায় বলা হয়েছে, ‘লজিস্টিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিতকরণে কার্যকর কৌশল এবং সমাধান তৈরির লক্ষ্যে লজিস্টিক খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ওই খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রক্রিয়া সহজীকরণ-বিষয়ক সুপারিশমালা/প্রস্তাবনা চিহ্নিতকরণ’ হয়েছে।
প্রথমত, অংশীজন চিহ্নিত মুখ্য সমস্যাবলি কী? আন্তর্জাতিক এয়ার এক্সপ্রেস প্রদানকারীদের সেলফ ক্লিয়ারেন্স সুবিধার অভাব, যার জন্য অবাঞ্ছিত জটিলতার সৃষ্টি এবং সময় ব্যয় হয়।
দ্বিতীয়ত, অংশীজন প্রস্তাবিত সংস্কার প্রক্রিয়া কী? সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সের জন্য ৪৯ শতাংশের অধিক শেয়ারধারী বিদেশি কোম্পানির জন্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলে তারা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে পণ্য চালান খালাস করতে পারবে। এতে জটিলতা ও ব্যয় হ্রাস পাবে।
তৃতীয়ত, প্রস্তাবিত প্রযোজ্য সংস্কার কী? কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালার সংশোধন।
বস্তুত দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনার পরই বিমানবন্দরে পণ্য ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশন করতে নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই অটোমেশন ছাড়া আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই।
গত ৬ জুন পাস হওয়া আইনটির আওতায় বিদেশ থেকে আমদানি ছোটখাটো পণ্যের চালান কুরিয়ার শাখা থেকে দ্রুত খালাস করা যাবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ক. ডকুমেন্ট, খ. নমুনা ও উপহারসামগ্রী, গ. ই-কমার্স পণ্য, ঘ. ৩০ কেজির কম ওজনের অন্যান্য পণ্য। গ্রাহক চাইলে (বাধ্যবাধকতা নয়) এসব পণ্য নতুন আইনের বলে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছাড়াতে পারবে। দ্রুততম সময়ে গ্রাহক পণ্যগুলো হাতে পেয়ে যাবেন বলে এটাকে বলা হচ্ছে ‘এক্সপেডাইটেড শিপমেন্ট’। তবে এই চার পণ্যের বাইরে বাকি সবকিছু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরাই করবেন। উল্লেখ্য, গ্রাহক যদি সব পণ্যই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে ছাড়াতে চান, সেটাও করা যাবে।
‘লজিস্টিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিতকরণে কার্যকর কৌশল এবং সমাধান তৈরির লক্ষ্যে লজিস্টিক খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ওই খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রক্রিয়া সহজীকরণ-বিষয়ক সুপারিশমালা/প্রস্তাবনা চিহ্নিতকরণ’ হয়েছে।
অথচ লজিস্টিক খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স এজেন্টস অন্যতম। তাদেরকে পাশ কাটিয়ে এমন আইন করা সিএন্ডএফদের জন্য দুঃখজনক। যেহেতু বাংলাদেশ সরকার ডব্লিউটিও ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তাই সরকারের উচিত ক্লিয়ারেন্স এজেন্টদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠ ও ন্যায়গত সমাধান করা।
Trade Facilitation Agreement Database