03/08/2026
প্রশ্ন: পর্বতারোহী হওয়ার আগে আপনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গুর্খা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে ২০০৯ সালে স্পেশাল বোট সার্ভিসে (এসবিএস) যোগ দেন। সামরিক জীবনের কোন অভিজ্ঞতাগুলো পাহাড়ে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
নির্মল পুরজা: সামরিক জীবনে শেখা বেশির ভাগ দক্ষতাই অন্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। পৃথিবীর সফল মানুষদের দিকে তাকালেই দেখবেন, তাঁদের মানসিকতা অনেকটা একই রকম। তাঁরা ভোরে ওঠেন, অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভুল হন এবং সব সময় ইতিবাচক মনোভাব, দৃঢ়সংকল্প ও শক্ত চরিত্র বজায় রাখেন।
এই গুণগুলো এক পেশা থেকে আরেক পেশায় সহজেই প্রয়োগ করা যায়। তাই সেনাবাহিনীতে যা শিখেছি, তার অনেক কিছুই পর্বতারোহণে কাজে লেগেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ফোর্সের প্রশিক্ষণ আমাকে অত্যন্ত চাপপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে শিখিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পাহাড়েও ঠিক একই বিষয় প্রযোজ্য। নেতৃত্বের যে শিক্ষা আমি সামরিক জীবন থেকে পেয়েছি, সেটিই পাহাড়ে আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
—
প্রশ্ন: সামরিক অভিযান ও পর্বতারোহণ অভিযানের মধ্যে কী ধরনের মিল রয়েছে?
নির্মল পুরজা: সবচেয়ে বড় মিল হলো—সবকিছু খুব বিস্তারিতভাবে পরিকল্পনা করা এবং কী কী ভুল হতে পারে, তা আগেভাগেই কল্পনা করা।
তবে এটাও বলতে হবে, উচ্চতায় পর্বতারোহণ সামরিক জীবনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। পাহাড়ে ওঠেন বলে সবাই সেনাবাহিনীতে সফল হবেন না, আবার সেনাবাহিনীতে সফল হলেই যে বড় পর্বতারোহী হওয়া যাবে, তাও নয়। বিশাল পর্বত আরোহনের জন্য আলাদা দক্ষতা লাগে। এ কারণেই একজন পর্বত গাইডের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে সাধারণত ছয় বছর সময় লাগে।
—
প্রশ্ন: ২০১২ সালে আপনি ৬ হাজার ১১৯ মিটার উচ্চতার লোবুচে ইস্টে আরোহণ করেন, যা ছিল আপনার প্রথম বড় সাফল্য। তখনই কি বুঝেছিলেন, পর্বতারোহণ আপনার জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠবে?
নির্মল পুরজা: হ্যাঁ। তবে শুধু লোবুচে ইস্টে ওঠার কারণেই নয়।
যখন আমরা ট্রেকিং করে নামচে বাজার পেরিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন প্রথমবার বিশাল আকৃতির আমা দাবলাম শৃঙ্গটি দেখেছিলাম। আমার কাছে এটি হিমালয়ের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রতীকী পর্বত। এরপর একে একে এভারেস্ট ও লোৎসেও চোখে পড়ে।
সেই পুরো পরিবেশ আমাকে অন্যরকম আনন্দ দিয়েছিল। যেন আমি নিজের সুখের এক জগতে চলে গিয়েছিলাম। এভারেস্ট অঞ্চলে সেই প্রথম সফরই আমাকে আরও বেশি পাহাড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
—
প্রশ্ন: ২০১৪ সালে আপনি ধৌলাগিরিতে আরোহণ করেন। এটি ছিল আপনার প্রথম আট হাজার মিটারের পর্বত এবং আপনি খুব দ্রুত সময়ে সেটি সম্পন্ন করেছিলেন। সেই অভিযানের কী স্মৃতি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে?
নির্মল পুরজা: ওই অভিযানে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমি আসলে কতটা শক্তিশালী। শীর্ষচূড়ায় ওঠার পথে প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পথ আমিই প্রথম খুলে দিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই আজও আমার সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিগুলোর একটি।
—
প্রশ্ন: ধৌলাগিরির পর কি আপনার মনে হয়েছিল যে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই আপনি উচ্চতায় পর্বতারোহণের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত?
নির্মল পুরজা: হ্যাঁ। তখনই বুঝেছিলাম, আমি খুব দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারি। উচ্চতায় সফলভাবে পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্পেশাল ফোর্সে থাকার কারণে আমি আগেই খুব ভালো শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করেছিলাম। পাশাপাশি আমার কিছু বিশেষ শারীরবৃত্তীয় সুবিধাও আছে, যা আমাকে উচ্চতায় কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে।
—
প্রশ্ন: ২০১৯ সালের এপ্রিলে আপনি প্রজেক্ট পসিবল শুরু করেন—এক বছরের মধ্যে বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটারের সব শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। শুরু করার সময় কি বিশ্বাস ছিল যে আপনি সফল হবেন?
নির্মল পুরজা: ২০১৯ সালের মার্চে আমি সেনাবাহিনীর চাকরি, পেনশন—সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। এটা ছিল বিশাল এক ঝুঁকি।
কিন্তু আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, কাউকে না কাউকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে যে উচ্চতায় পর্বতারোহণে 'অসম্ভব' বলে কিছু নেই।
সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল অর্থায়ন। পুরো প্রকল্পের জন্য আমার হাতে ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ অর্থ। প্রায় কেউই বিশ্বাস করত না যে এটা সম্ভব। অথচ অর্থই ছিল প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তারপরও আমি নেপালে চলে যাই। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল, আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে যখন একের পর এক পর্বত আরোহণ শুরু করব, তখন মানুষও বিশ্বাস করতে শুরু করবে।
এটা অবশ্যই বড় ঝুঁকি ছিল—আমার জন্যও, আমার দলের জন্যও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি।
—
প্রশ্ন: ২০১৯ সালের অক্টোবরে আপনি তিব্বতের শিশাপাংমায় আরোহণ করে প্রজেক্ট পসিবল সম্পন্ন করেন। চ্যালেঞ্জটি শেষ করার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
নির্মল পুরজা: অবশ্যই আমি খুব খুশি ছিলাম যে চ্যালেঞ্জটি শেষ করতে পেরেছি। তবে সেটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার দ্বিতীয় মিশনে নেমে পড়ি।
আমার লক্ষ্য ছিল কাঠমান্ডুতে বাবা–মায়ের জন্য একটি বাড়ি কেনা, যাতে তাঁরা একই ছাদের নিচে থাকতে পারেন। তখন আমার মা কাঠমান্ডুতে ভাড়া করা একটি ছোট ঘরে থাকতেন, আর বাবা থাকতেন চিতওয়ানে। তাই তাঁদের একসঙ্গে রাখাই ছিল আমার পরবর্তী লক্ষ্য।
কিছুটা সময় লেগেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তাঁদের জন্য কাঠমান্ডুতে একটি বাড়ি কিনতে সক্ষম হই। এখন তাঁরা একসঙ্গে থাকতে পারেন।
—
প্রশ্ন: ২০১৯ সালে এই অভিযানের সময় আপনি একাধিক পর্বতারোহণের রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রজেক্ট পসিবল–এর সবচেয়ে কঠিন অংশ কোনটি ছিল?
নির্মল পুরজা: সবচেয়ে কঠিন ছিল অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
তবে যদি আরোহণের দিক থেকে বলি, তাহলে সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘায়। সেখানে ৮ হাজার ৪৫০ মিটার উচ্চতায় আমরা দুজন পর্বতারোহীকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের অক্সিজেন ছেড়ে দিয়েছিলাম।
যারা উচ্চতায় পর্বতারোহণের শারীরবৃত্তীয় বাস্তবতা বোঝেন, শুধু তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারবেন—এত ওপরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
—
প্রশ্ন: আপনি প্রায়ই হিমালয়ে অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া আরোহণ করেন। কিন্তু শিশাপাংমায় অক্সিজেন ব্যবহার করেছিলেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোতে কখন অক্সিজেন ব্যবহার করবেন, সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেন?
নির্মল পুরজা: হ্যাঁ, প্রজেক্ট পসিবল–এর সময় আমি উচ্চ ক্যাম্পগুলো থেকে অক্সিজেন ব্যবহার করেছি। এর কারণ খুবই বাস্তব।
আমরাই প্রথম পথ তৈরি করছিলাম, দড়ি স্থাপন করছিলাম। যারা উচ্চতায় পর্বতারোহণ সম্পর্কে তেমন জানেন না, তাঁদের জন্য বলি—কোমরসমান তুষার ভেঙে পথ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে দড়ি স্থাপন করা, এমনকি অক্সিজেন ব্যবহার করেও, অনেক বেশি কঠিন। অন্যদিকে আগে থেকে তৈরি করা পথ ধরে এবং স্থাপিত দড়ি ব্যবহার করে অক্সিজেন ছাড়া ওঠা তুলনামূলক সহজ।
আমি দুই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গেছি। তাই পার্থক্যটা আমি নিজে জানি।
—
প্রশ্ন: ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আপনি আরও নয়জন নেপালি পর্বতারোহীকে সঙ্গে নিয়ে ইতিহাস গড়েন। প্রথমবারের মতো শীতকালে কে–টু জয় করেন। বছরের সবচেয়ে ঠান্ডা সময়ে কে–টুর চূড়ায় দাঁড়ানোর অনুভূতি কেমন ছিল?
নির্মল পুরজা: অনুভূতিটা ছিল অবিশ্বাস্য।
আমাদের নেপালি দলের ১০ জন একসঙ্গে কে–টুর চূড়ায় পৌঁছেছিল। এটা ছিল সম্পূর্ণ একটি দলগত অর্জন। মানবসভ্যতা ও পর্বতারোহণের ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।
আমরা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিলাম—ইতিবাচক মানসিকতা, দৃঢ়সংকল্প এবং দলগত কাজ থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
—
প্রশ্ন: শীতকালে কে–টু আরোহণ অন্য আট হাজারি পর্বতের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন, কারণ সেখানে প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র বাতাস থাকে। আপনার অভিযানের সময় একটি ক্যাম্পও ঝড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই অভিযানের সবচেয়ে কঠিন দিক কী ছিল?
নির্মল পুরজা: এ বছরের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।
আমরা যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাচ্ছিলাম, বাস্তবে তার সঙ্গে কোনো মিল ছিল না। আপনি যেমন বললেন, আমাদের একটি ক্যাম্প ঝড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। সেই সঙ্গে আমি আমার স্পিডফ্লাইং–এর সরঞ্জামও হারিয়েছিলাম। পরিকল্পনা ছিল কে–টুর চূড়া থেকে স্পিডফ্লাই করব, কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অভিযানের নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব। সবাই জানত, শীতকালীন কে–টু ছিল আট হাজারি পর্বতগুলোর মধ্যে শেষ, সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে চরম চ্যালেঞ্জ। তাই সেখানে থাকা প্রতিটি পর্বতারোহী নিজের এবং নিজের দেশের জন্য ইতিহাস গড়তে চাইছিলেন।
আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল পুরো অভিযান পরিকল্পনা করা, সেই প্রচণ্ড চাপ ও প্রত্যাশা সামাল দেওয়া এবং আমার দলকে এমনভাবে নেতৃত্ব দেওয়া, যাতে ১০ জন নেপালি একসঙ্গে ইতিহাস গড়ে কে–টুর চূড়ায় দাঁড়াতে পারেন।
—
প্রশ্ন: শীতকালে কে–টুতে আপনি অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই আরোহণ করেছিলেন। আপনার দলের মধ্যে একমাত্র আপনিই এটি করেছিলেন। অক্সিজেন ছাড়া আট হাজার মিটারের কোনো পর্বতে আরোহণ কতটা কঠিন?
নির্মল পুরজা: পৃথিবীতে সব সময়ই এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা আপনি যা-ই করুন না কেন সমালোচনা করবে।
আমি প্রজেক্ট পসিবল শুরু করার আগে কেউ বিশ্বাসই করেনি যে ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গ মাত্র ছয় মাসের একটু বেশি সময়ে আরোহণ করা সম্ভব। কিন্তু সেটা করার পর মানুষ অক্সিজেন ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু করল।
আসলে যারা নিজেরা এসব পর্বতে ওঠেন, যারা সত্যিকার অর্থে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, কেবল তাঁরাই বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারবেন।
—
প্রশ্ন: আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোতে নিরাপদভাবে আরোহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?
নির্মল পুরজা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের প্রতি সম্পূর্ণ সৎ থাকা।
যদি অহংকারের বশে নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দেন, অন্যরা পেরেছে বলে আপনিও জোর করে আরোহণের চেষ্টা করেন, অথচ নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে সৎ না থাকেন—তাহলে আপনি বড় বিপদে পড়বেন।
নিজের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সৎ থাকুন।
—
প্রশ্ন: ১৯৮৭ সাল থেকে শীতকালে কে–টু জয়ের একাধিক চেষ্টা হলেও সবই ব্যর্থ হয়েছিল। পুরোপুরি নেপালি একটি দলের সঙ্গে সেই চূড়ায় দাঁড়াতে পারা কি বিশেষ এক মুহূর্ত ছিল?
নির্মল পুরজা: অবশ্যই।
নেপালি পর্বতারোহীরাই সব সময় আট হাজারি পর্বতগুলোর প্রকৃত অগ্রদূত। সেই দলের নেতৃত্ব দিতে পারা এবং ১০ জন নেপালি সদস্যকে একই সময়ে কে–টুর চূড়ায় পৌঁছে দিতে পারা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আমি কখনোই একজন মানুষের ব্যক্তিগত গৌরবে বিশ্বাস করি না। আমি চেয়েছিলাম, এই অর্জনের অংশীদার সবাই হোক। কারণ প্রত্যেকেই সমান পরিশ্রম করেছে।
আরেকটি বিষয়ও ছিল। আমরা যখন কে–টুতে ছিলাম, তখন সারা বিশ্বে করোনা মহামারির কারণে কঠিন সময় চলছিল। আমি বিশ্বকে ঐক্যের শক্তির বার্তা দিতে চেয়েছিলাম। বড় সংকট মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে—এটাই ছিল আমার মূল বার্তা।
—
প্রশ্ন: বর্তমানে হিমালয়ে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নেপালি শেরপাদের সহায়তায় গাইডিং সেবা পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে কি এই পরিস্থিতি বদলাবে বলে মনে করেন? শেরপাদের পরিচালনায় আরও বেশি পর্বতারোহণ কোম্পানি কি গড়ে উঠবে?
নির্মল পুরজা: হ্যাঁ। এখন থেকেই আমরা ধীরে ধীরে সেই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।
আমি মনে করি, ভবিষ্যতে শেরপাদের পরিচালিত কোম্পানি এবং আমাদের বিদেশি বন্ধুদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হবে।
এই মুহূর্তে সেই ভারসাম্য নেই—এটা আমি স্পষ্টভাবেই বলব। তবে সময়ের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব ও নেপালের মধ্যে আরও ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই আমরা সেই দিকেই এগোচ্ছি।
—
প্রশ্ন: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোতে আরোহণের সবচেয়ে ভালো দিক কী?
নির্মল পুরজা: আমার কাছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোতে আরোহণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—সেখানে আমি নিজেকে সত্যিকার অর্থে জীবন্ত অনুভব করি।
সমুদ্রপৃষ্ঠে নেমে এলে পৃথিবীটাকে অনেক সময় বিশৃঙ্খল ও স্বার্থপর মনে হয়। কিন্তু পাহাড়ে আমি শান্তি খুঁজে পাই। পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানগুলোতে থাকলে আমি সবচেয়ে বেশি জীবন্ত বোধ করি, কারণ তখন আমি শুধু সেই মুহূর্তটিতেই বেঁচে থাকি।
—
প্রশ্ন: বর্তমানে নেপালের মানুষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
নির্মল পুরজা: এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মহামারি। অবশ্য এটি শুধু নেপালের নয়, পুরো বিশ্বেরই সমস্যা।
আশা করি, খুব শিগগির নেপালে আবার পর্যটন ফিরে আসবে এবং আমরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
________________________________________
ঈষৎ সংক্ষেপিত
#নির্মলপুরজা