07/06/2017
পাহাড়ী কন্যা রাঙ্গামাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি। রূপবৈচিত্র-হ্রদের জল-পাহাড় আর অরণ্যের অপার সৌন্দর্যের কোল ঘেঁষে রয়েছে প্রকৃতির রূপসী কন্যা রাঙামাটি। চট্টগ্রাম বিভাগের পার্তব্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার মধ্যে অন্যতম এই রাঙামাটি জেলা। আঁকা-বাঁকা পথ আর উঁচু-নিচু পাহাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাঙামাটি। এখানকার লেক, ঝরনা, বিস্তির্ন নীল আকাশ, পাহাড় সর্বপরি আদিবাসি মানুষের সাধারন সহজ-সরল জীবন আপনাকে বিমহিত করবে। এখানে যেদিকে তাকাবেন নজরে পড়বে কেবল পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের পানি। বিশাল কাপ্তাই লেকের পুরোটাই যেন অপার মমতায় দুহাত দিয়ে ধরে রেখেছে পাহাড়গুলি। আকাশের মেঘ আর তার নীলাভ আভা খেলা করে লেকের জলে, দূরে পাহাড়ের আড়ালে হারিয়ে যায়, আবার যেন উঁকি দিয়ে দেখে নেয়, কেমন আছে লেক
কিভাবে যাবেন:
ঢাকা টু রাঙ্গামাটি অনেক গুলো পরিবহন বাস আছে যেমন: সোহাগ, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল ইত্যাদি। আপনি কল্যাণপুর, কলাবাগান বা সায়দাবাদ থেকে রওনা হতে পারেন। ভাড়া ননএসি ৬০০-৬৫০ টাকা, এসি ৮০০-১০০০ টাকা। তবে মনে রাখবেন সময় ও ভ্রমনের দিন গুলিকে সঠিক ব্যবহার করা উচিৎ আর তা রাতে রওনা হওয়াই শ্রেয়। রাতে রওনা হলে (১০-১১ টা) আপনি খুব ভোরে (৬-৭ টা) পৌছে যাবেন রাঙ্গামাটি। এতে আপনার মূল্যবান একটি দিন বেঁচে যাবে। চট্টগ্রামের বিআরটিসি, অক্সিজেন মোড় ও বিভিন্ন বাসস্টেশন থেকেও রাঙামাটির গাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও ঘুরে
আসতে পারেন রাঙামাটি। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে অভিজ্ঞ চালক।
কোথায় থাকবেনঃ
রাঙামাটিতে রাত যাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে; রয়েছে বোডিংও। বোডিংয়ের খরচ কম হলেও খুব একটা ভালো ব্যবস্থা নেই।
পুরাতন বাস স্ট্যন্ড ও রিজার্ভ বাজার এলাকায় বেশকিছু ভালো হোটেল আছে
কয়েকটি হোটেলের বর্ণনা:
(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স: ১২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল ও ডাবল রুম রয়েছে এই হোটেলে।
(২) হোটেল সুফিয়া: এতে রয়েছে ২৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া ছোট-বড় সব মিলিয়ে সাধারণ কক্ষ রয়েছে আরও ৩৫টি।
(৩) হোটেল নিডস হিল ভিউ: ১৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আর ১০টি সাধারণ রুম রয়েছে এতে।
(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল: এই হোটেলে রয়েছে ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া কিছু সাধারণ সিঙ্গেল ও ডাবল রুমওও রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি, হোটেল সাফিয়া, হোটেল ড্রিমল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি মধ্যম মানের হোটেল।
এর সবকটি হোটেল-ই রাঙামাটি জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই এখানে অবস্থান করেই খুব সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারেন জেলার সবকটি দর্শনীয় স্থানে।
কি দেখবেনঃ
রাঙামাটিতে রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য।
কাপ্তাই - হ্রদ শহরঃ
গুরুত্বের বিবেচনা করলে কাপ্তাই আলাদা ভাবে বলার দাবি রাখে।
এটি রাঙামাটি শহরের কাছেই বলা চলে। সড়ক পথে দেড় ঘন্টা আর জল পথে আড়াই ঘন্টার পথ।কাপ্তাই ছোট্ট একটা উপজেলা শহর। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলানিকেতন কাপ্তাই হ্রদ। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ্ এই কৃত্রিম হ্রদ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। উঁচু-নিচু পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ি ঝরনাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, অথৈ পানি আর সবুজের সমারোহ, গাঢ়-সবুজ বন, গাছ-গাছালি ফুল-ফল আর উপজাতিদের জীবনধারা কাপ্তাই লেকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
লেকের পানিতে অজস্র মাছ আর জীববৈচিত্র্যের সমাহার। পাহাড়ের গায়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ আর সুবজের সম্ভার। সব মিলিয়ে কাপ্তাই লেক পর্যটন, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার।
রাঙামাটিসহ বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত মিঠাপানির এই হ্রদটির আয়তন প্রায় ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর। বর্গমাইল হিসাবে এর আয়তন ২৫৬ বর্গমাইল, যা দেশের পুকুরগুলোর মোট আয়তনের ৩২ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের প্রায় ১৯ শতাংশ। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তৈরি হলেও মত্স্য উৎপাদন, দেশি-বিদেশি মুদ্রা উপার্জন, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে দেশের সামগ্রিক মৎস্যক্ষেত্রে কাপ্তাই লেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।