29/07/2026
কিভাবে সুইডেন এম্বাসিতে আপনি টুরিস্ট ভিসা আবেদন করবেন তার টোটাল গাইড লাইন এই পোস্টে পেয়ে যাবেন।
বাংলাদেশে সুইডেন এম্বাসি এখন সুইডেন ছাড়াও ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, আইসল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার সর্ট টার্ম মানে সেংগেন ভিসা প্রসেস করে।
এর পরবর্তীতে আপনার প্রফেশন অনুযায়ী ডকুমেন্টস নিয়ে নির্ধারিত তারিখে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন অবশ্যই নিজে গিয়ে জমা দিতে হবে কারন বায়োমেট্রিক এবং ফটো নেওয়া হবে। সেংগেন ভিসার ক্ষেত্রে ভিএফএস এ তোলা ছবিটি আপনার প্রথম সেংগেন ভিসায় ব্যাবহার করা হয়। এই জন্য টিপটপ ড্রেসয়াপ করে যাওয়াই ভাল। আমি আমার প্রথম ভিসা আবেদনের সাথে শুটেড বুটেড ফটো দিয়েছিলাম কিন্তু যখন ভিসা পাই তখ দেখা যায় য্র বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় ২০০ টাকা দামের টিশার্ট পড়ে তোলা ছবিই আমার ভিসাতে চলে আসছে। যাই হউক ডকুমেন্টস লিস্ট দেখে নেওয়া যাক-
১. এপ্লিকেশন ফর্ম ( যেইটা আপনারা ভিএফএস গ্লোবাল এর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন)
২. এক কপি ল্যাব প্রিন্ট ছবি ( 35X45 MM)
৩. ট্রাভেল ইন্সুইরেন্স ( ৩০০০০ ইউরো কভার করে এমন একটা ইন্সুইরেন্স করতে হবে)। বাংলাদেশের কোন কোন কোম্পানির ইন্সুইরেন্স জমা দিতে পারবেন তার লিস্টও ভিএফএস এর ওয়েবসাইটে পাবেন। আমি আমার সব ফাইলের সাথে swisscare এর ইন্সুইরেন্স জমা দেই যেইটা ভিসা না হইলে রিফান্ড পাবেন।
৪. একটা কভার লেটার ( যেখানে আপনার সকল ধরনের তথ্য থাকবে). কভার লেটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। স্কভ তথ্য দিয়ে ২-৪ পেইজের মধ্য একটা কভার লেটার দিবেন।
৫. টুর প্লান। ডে বাই ডে একটা টুর প্লান করে দিবেন। এইখানে যে জিনিসটা খেয়াল রাখবেন সেইটা হচ্ছে আপনি যদি মাল্টিপল কান্ট্রি নিয়ে টুর প্লান করেন সেক্ষেত্রে যে দেশে প্রথম এন্ট্রি নিবেন ওই দেশে মেক্সিমাম স্টে দেখাইতে হবে এবং এইটা সুইডেন এম্বাসি প্রসেস করে এমন যেকোন দেশ হইতে হবে, সেহেতু সুইডেন এম্বাসির মাধ্যমে এপ্লাই করতেছেন।
৬. ভ্যালিড হোটেল বুকিং - এইটা আবেদনের সব থেকে সেন্সিটিভ পার্ট। অনেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে পিডিএফ ডাউনলোড করে জম দিয়ে দেন। কিন্তু দেখা যায় ২/১ দিন পরেই এই হোটেল বুকিং ক্যান্সেল হয়ে যায়। এই রকম হোটেল বুকিং এর জন্য ভিসা আবেদন রিজেক্ট হয়ে যায় কারন সুইডেন এম্বাসির ভিসা অফিসার প্রতিটা হোটেল বুকিং চেক করে। কোন হোটেল বুকিং ক্যান্সেল হইলে ভিসা রিফিউস করে দেয়।
৭. এয়ার টিকেট বুকিং। এইটা ডামি হইলেও সমস্যা নাই। আপনি যদি মাল্টিপল কান্ট্রি নিয়ে প্লান করেন তাহলে সব দেশের বুকিং কপি দেওয়া বেটার। আর যদি বাসে ভ্রমন করতে চান তাহলে কভার লেটারে লিখে দিবেন যে আপনি বাসে ভ্রমন করবেন, তাই ভিসা হওয়ার পরে আপনি টিকেট কনফার্ম করবেন।
৮. ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সলভেন্সি- ৬ মাসের একটা রিসেন্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিবেন সাথে একাউন্ট সার্টিফিকেট দিবেন। ৭ দিনের পুরাতন স্টেটমেন্ট না দেওয়াই বেটার। আপনার প্রফেসন যদি বিজনেস হয় তাহলে কারেন্ট একাউন্টের ৬ মাসে স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি দিবেন। আর যদি জব হয় তাহলে স্যালারি একাউন্ট স্টেটমেন্ট অথবা অফিশিয়াল পে-স্লিপ দিবেন।
৯. প্রফেশনাল ডকুমেন্টস - পেশা ব্যাবসা হইলে আপডেটেড ট্রেড লাইসেন্স কপি (:ট্রান্সলেটেড এন্ড নোটারাইসড) ও ভিসিটিং কার্ড দিতে হবে। চাকরি হইলে অফিস আইডি, জব সার্টিফিকেট, নক অবজেকশন লেটার দিতে হবে।
১০. ফ্যামিলি ডকুমেন্টস - আবেদনের সাথে আপনার স্পাউসের ন্যাশনাল আইডি, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বাচ্চা থাকলে বার্থ সাটিফিকেট দিতে হবে। যেসব ডকুমেন্টস বাংলায় ওইটাকে ট্রান্সলেশন করে নোটারি করে দিতে হবে। অনেকেই বলেন যে আমি একা আবেদন করব সো এইগুলা কেন দিতে হবে? দিতে হবে কারন এইগুলাই আপনার ফ্যামিলি টাইস প্রুভ করবে।
১১. টিন সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স রেকর্ড - বিগত দুই অথবা তিন বছরের ট্যাক্স রেকর্ড জমা দিতে হবে।
১২. এসেট ইভ্যালুয়েশন - যদি থাকে দিয়ে দিবেন।
কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। উত্তর দেওয়ার চেস্টা করব।