27/09/2025
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস
শরীয়তপুর জেলার পর্যটন বিকাশে করণীয়
বাংলাদেশের গর্ব পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। সেতুর শরীয়তপুর প্রান্তে অবস্থিত সার্ভিস এরিয়া–২–এ আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৫ তারকা মানের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট, ফুড কোর্ট ও কফি শপ
ভিআইপি লাউঞ্জ ও কনফারেন্স সুবিধা
পর্যটকদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য বিশেষ অবকাঠামো
প্রশস্ত পার্কিং ও উন্নতমানের স্যানিটেশন ব্যবস্থা
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই অবকাঠামোগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে সরকারের বিপুল বিনিয়োগকৃত এই সম্পদ অকার্যকর অবস্থায় থেকে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য এক প্রকার ক্ষতির কারণ।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপ
যদি এই অবকাঠামো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করা হয়, তাহলে—
1. পর্যটন বিকাশ ঘটবে – সেনাবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সার্ভিস এরিয়া–২ দেশি–বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হবে।
2. সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে – পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
3. অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে – স্থানীয় জনগণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রসারিত হবে।
4. অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার হবে – বর্তমানে পরিত্যক্ত অবকাঠামো কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে, রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় বন্ধ হবে।
5. দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে – পদ্মা সেতুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে উঠলে বাংলাদেশকে পর্যটনবান্ধব দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রচার করা সম্ভব হবে।
উপসংহার
অতএব, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া–২–এর ৫ তারকা মানের অবকাঠামো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করা হলে এটি পর্যটন খাত, স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দক্ষ পরিচালনায় সার্ভিস এরিয়া–২ প্রকৃত অর্থেই একটি পর্যটন কেন্দ্র ও জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত হবে।