26/08/2026
কয়েক দিন আগে শাইখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস حفظه الله বিদআত—অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন—থেকে সতর্ক করেছিলেন। এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রচলিত উদ্যাপনের বিষয়টিও ছিল।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ।
গতকাল মসজিদুল হারামের জুমার খুতবায় শাইখ সুদাইস حفظه الله এমন কিছু কথা বললেন—মনে হলো, যেন সেসব সমালোচনারই জবাব দিচ্ছেন।
তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ বাণীর মাধ্যমে।
তিনি বললেন—
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনচরিতই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, শক্তি ও উন্নতির মৌলিক পথনির্দেশনা। সন্তানদের অন্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি এমন ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে, যে ভালোবাসা তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদেরও আহ্বান জানান—বিশুদ্ধ সুন্নাহ, তার সঠিক উপলব্ধি ও শিক্ষামূলক মূল্যবোধ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
শাইখ সুদাইস আরও স্পষ্ট করে বলেন—
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে উম্মতের ভালোবাসার সম্পর্ক কোনো বিশেষ সময়, উপলক্ষ, বাহ্যিক আয়োজন কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ সম্পর্ক জীবনের প্রতিটি অবস্থায়—এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত—তাঁকে অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে অটুট রাখতে হবে এবং বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
সালাতের প্রথম রাকাতে তিনি তিলাওয়াত করলেন—
“বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’”
—সুরা আলে ইমরান, ৩:৩১
রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসার প্রমাণ শুধু আবেগ, দাবি কিংবা কোনো মৌসুমি আয়োজনে নয়; বরং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার মধ্যে।
দ্বিতীয় রাকাতে তিনি তিলাওয়াত করলেন—সুরা আল-কাওসার।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল-কাওসার হলো জান্নাতের একটি নদী, যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। এর সঙ্গে রয়েছে তাঁর সেই হাউয, যেখানে কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মত উপস্থিত হবে। কিন্তু দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন ও নতুন কিছু প্রবর্তনের কারণে কিছু মানুষকে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“কেউ যেন আমার কাছে এমন অবস্থায় না আসে যে তাকে আমার কাছ থেকে দলছুট উটের মতো তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি বলব, ‘কেন এমন হচ্ছে?’ তখন বলা হবে, ‘আপনার পরে তারা কী নতুন কিছু প্রবর্তন করেছে, তা আপনি জানেন না।’ তখন আমি বলব, ‘দূর হও!’”
—সহিহ মুসলিম, ২২৯৫
কী গভীর এক সতর্কবার্তা!
ভালোবাসা শুধু আবেগ দিয়ে প্রমাণিত হয় না।
ভালোবাসা প্রমাণিত হয় আনুগত্যের মাধ্যমে।
আর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাউযে পৌঁছানোর পথ হলো—তাঁর সুন্নাহর পথ।
সূত্র: হারামাইন আর্কাইভস; মসজিদুল হারামের জুমার খুতবা, ২১ আগস্ট ২০২৬।
Bismillah Hajj & Umrah Services