18/07/2026
প্রতারণার প্রথম ধাপ!!!!
ধরুন আপনি আগে থেকে কোনো হোটেল,গাড়ি, প্যাকেজ বুকিং না করে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ পর্যটকই ভ্রমণ করেন ট্রেনে। সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের প্রবেশেদ্বার বলা যেতে পারে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে। প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয় এই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনটিতে। আর তার পূর্ণ ফায়দা লোটার চেষ্টা করে সাধারণ মানুষের বেশে একশ্রেণীর দালাল।
ট্রেন থেকে যখন আপনি নামবেন, দেখবেন বেশ কিছু লোক আচমকাই আপনাকে ঘিরে ধরবে। বারবার আপনাকে আপনার গন্তব্যস্থল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে থাকবেন। যারা চালাক - চতুর নন। বা চালাক না হয়েও নিজেকে বেশ চালু মনে করেন, সংখ্যায় তারাই বেশী পরিমাণে এদের টার্গেট হয়ে থাকেন। আর যারা সচেতন তারাও এদের প্রতারণার ফাঁদ থেকে কোনো কোনো সময় রেহাই পাননা।
স্টেশন থেকেই এরা পর্যটকদের পিছু নিতে শুরু করেন, এবং কানের সামনে ক্রমাগত মন্ত্রের মতো বিড়বিড় করতে থাকেন। আমরা কমে হোটেল, গাড়ি, আপনাকে ঘোরার পুরো প্যাকেজ করে দেবো।
প্রতারণার দ্বিতীয় ধাপ ------
স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে শুরু হবে আসল খেলা। আর ঠিক এসময়েই বহু সচেতন পর্যটকও এদের প্রতারণার ফাঁদে জড়াতে বাধ্য হন।ধরুন আপনি প্লাটফর্ম থেকে বাইরে বেরিয়ে গাড়ির খোঁজ শুরু করলেন। সে যেখানে যাওয়ার জন্যই হোক। ধরুন আপনি গ্যাংটক যাবেন, সেই অনুযায়ী সিন্ডিকেটে গিয়ে খবর নিয়ে জানলেন, সেই সময় গ্যাংটক যাওয়ার সিন্ডিকেটের ভাড়া যাচ্ছে ৪৫০০/- টাকা মতো। ( একটি রিজার্ভ গাড়ি )। আপনার পিছন পিছন ঘুরতে থাকা ব্যক্তিটি আপনাকে হতবাক করে বলবে, " আমি আপনাকে ৩০০০/- টাকায় গাড়ি করে দেবো?
কি? মাথাটা বোঁ করে ঘুরে গেলো তো?
৪৫০০/- এর গাড়ি ৩০০০/- টাকায়।
মাথা ঘুরে যাওয়ারই কথা।
প্রতারণার তৃতীয় ধাপ ------
এরপর আর কি মন্ত্রমুগ্ধর মতো সেই ব্যক্তির উপর নিজের সমগ্র ভ্রমণপর্বের দায়দায়িত্ব সোঁপে দেওয়া।
এরপর সে আপনাকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন অসংখ্য ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোনো এক অফিসে যেতে বলবে। তারপর শুরু হবে জবাই করার পালা।
প্রতারণার অন্তিমপর্ব ------
অফিসে নিয়ে গিয়ে ভালোমতো জবাই করার আগে আপনাকে জামাই আদরে চা বিস্কুট খাওয়ানো হবে। তারপর ঘাড়ে - গর্দানে এক, মোটা সোনার চেন পরিহিত এই যাতীয় জনৈক এক ব্যক্তি আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্রমণসূচীর খুঁটিনাটি বোঝাতে শুরু করবেন। পাতে দেওয়ার অযোগ্য হোটেলকে থ্রিস্টার হোটেলের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া থেকে, খাবারে চিকেন, মটন, মাছ, চাইনিজ বিরিয়ানি সমস্ত কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, পরিশেষে সমগ্র ট্যুর প্যাকেজ এর ৭০% টাকা কেটে নিয়ে আপনাকে রাজকীয় বিদায় জানাবে। আপনিও বিজয়ীরা হাসি হেসে গন্তব্যের দিকে রওনা দেবেন এই ভেবে যে নিজের বুদ্ধিমত্তার জোরে তাদের থেকে প্যাকেজ টি করে কত টাকাই না সাশ্রয় করলেন!!!
অথচ গাড়িভাড়ার মাত্র ১৫০০/- বাঁচাতে গিয়ে ট্যুরের বাকি হোটেল, বাকি সাইট সিইং এর গাড়ীবাবদ যে অতিরিক্ত টাকা সে বিপুল কমিশন বাবদ আপনার থেকে লুটে নিলো, তা ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারলেননা।
৪৫০০/- টাকার যে গাড়িটি ৩০০০/- এ করার লালসায় আপনি এই প্রতারণার শিকার হলেন। সেই গাড়িটি কিন্তু ৪৫০০/- টাকাতেই গেলো ( কারণ গাড়িভাড়া কমানোর ক্ষমতা ওই দালালদের নেই ) উল্টে বাড়তি বেশকিছু অর্থ এদের ঝোলায় ভরে দিয়ে এলেন।
এরপর আর কি? গন্তব্যে পৌঁছে দেখলেন জঘন্য হোটেল, অপরিষ্কার টয়লেট, খাবার মুখে দেওয়া যাচ্ছেনা, থেকে থেকে গাড়ি খারাপ, ড্রাইভারের দুর্ব্যবহার।
আপনি ক্রমাগত ফোন করে যাচ্ছেন।
অপরপ্রান্তে রিং হয়ে যাচ্ছে, হয়েই যাচ্ছে।
তারপর একসময় সুইচড অফ।
(সংগৃহীত)