18/09/2026
টরন্টোর ক্রিকেট, স্কেটিং অ্যান্ড কার্লিং ক্লাব বহুবার ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথের সাক্ষী থেকেছিল ১৯৯৬ সাল থেকেই। কিন্তু ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭, এই ছোট্ট কানাডিয়ান মাঠে দেখা মিলেছিল এক অনন্য কীর্তির — সৌরভ গাঙ্গুলীর বোলিং শৈলীতে পর্যদুস্ত হয়েছিল পাকিস্তান। ব্যাট হাতে মন্ত্রমুগ্ধ কভার ড্রাইভের জন্য পরিচিত Sourav Ganguly সেদিন বল হাতে এমন জাদু দেখালেন যা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে। ৫০ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়াল ১৮২/৬, যা অন্তত ওই উইকেটে ৩০-৪০ রান কম মনে হচ্ছিল।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ছিল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। কিন্তু তখনই মঞ্চে এলেন সৌরভ। মেঘলা আবহাওয়ায় বলকে দুই দিকেই সুইং করাতে শুরু করলেন তিনি। বারবার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের ভুল করতে বাধ্য করলেন।এক এক করে সাজঘরে ফেরালেন ইনজামাম-উল-হক, ইজাজ আহমেদ, মইন খানদের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১০ ওভারের শেষে স্কোরকার্ড যেন বলছিল ইতিহাসের কথা: ১০-৩-১৬-৫। তিনটি মেডেন, পাঁচটি উইকেট, আর ওভারপ্রতি মাত্র ১.৬ রান — একেবারে অমূল্য স্পেল।
পাকিস্তান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ৪১.৫ ওভারে ১৪৮ অলআউট, আর ভারত জিতল ৩৪ রানে। শুধু ম্যাচই নয়, গাঙ্গুলীর এই মন্ত্রমুগ্ধ করা বোলিং পারফরম্যান্স এনে দিল সাহারা কাপে এগিয়ে দিলো ৩-০ ব্যবধানে। শেষমেষ ভারত এই সিরিজ টা জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে । ম্যান অফ দা সিরিজ হয়েছিলেন সৌরভ ।
যিনি বরাবর ব্যাটিং সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত, সেই গাঙ্গুলী সেদিন প্রমাণ করলেন তিনি বহুমুখী। টরন্টোর সেই শীতল বিকেলে তিনি হয়ে উঠলেন ম্যাচ-জয়ী সিমার।
এই ৫/১৬ গাঙ্গুলীর সেরা ওয়ানডে বোলিং ফিগার, আর ভারতের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্যতম সেরা স্পেল। সেদিন "প্রিন্স অব ক্যালকাটা" রাজত্ব করেছিলেন ব্যাট হাতে নয়, বরং বল হাতে।