20/04/2021
হদল-নারায়ণপুরের মন্ডল বাড়ি
কলকাতা থেকে মাত্র দেড়শো কিলোমিটার দূরে ঐতিহ্য, লোককথা এবং বাংলার লৌকিক শিল্পে পরিপূর্ণ এক অনন্য গ্রাম হদল নারায়ণপুর। প্রকৃত পক্ষে হদল এবং নারায়ণপুর পাশাপাশি দুটি গ্রাম। গ্রামের একবারে গা ঘেঁষে বইছে বোদাই নদী, যা কিছু দূর গিয়েই মিশেছে দামোদরে। তবে নামেই নদী, বর্তমানে তার অস্তিত্ব বোঝা কিন্তু ভারী দুস্কর।
সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে বর্ধমানের নীলপুরের বাসিন্দা মুচিরাম ঘোষ আসেন হদল গ্রামে এবং তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তৎকালীন প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ এবং সেখানকার তরফদার শুভঙ্কর দাসের , আর তার জেরেই ভাগ্য বদলে যায় মুচিরাম ঘোষের। মল্লরাজ এই পরিবারকে 'মণ্ডলপতি' উপাধি দেন এবং সেই থেকে তাদের পদবি ঘোষ থেকে হয়ে যায় মন্ডল। তবে বর্তমানে এই মন্ডল পরিবার তিন ভাগে বিভক্ত বড় তরফ, মেজ তরফ, ছোট তরফ।
গ্রামে ঢুকতেই প্রথমে পড়বে ব্রাহ্মণী দেবীর মন্দির, তারপর ডানদিকে পড়বে ছোট তরফ এবং বাম দিকে মেজো তরফ ,শেষে পড়বে বড় তরফের ভদ্রাসন । এখানকার মূল আকর্ষণ 1806 খ্রিস্টাব্দে নির্মিত পঞ্চরত্ন শৈলীর রাধা দামোদর মন্দির। মন্দিরের গায়ে টেরাকোটা প্যানেলে রাধা কৃষ্ণের প্রেমলীলা, গণেশ, বিষ্ণুর দশাবতার প্রভৃতি নানা বিধ বিষয় চিত্রাকারে ফুটিয়ে তোলা রয়েছে । পাশেই রয়েছে দুটি ছোট শিব মন্দির, আটটি খিলান সমন্বিত অষ্টকোণাকৃতি এক বিশাল রাসমঞ্চ, যার প্রতিটি খিলানে চিত্রিত রয়েছে পূরণের বিভিন্ন চিত্র। কোথাও মহিষাসুরমর্দিনী তো কোথাও বিষ্ণুর অনন্তশয্যা, আবার কোথাও রয়েছে শিব পার্বতীর বিয়ে। রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এক বিরাট দুর্গাদালান যা দেখলে সত্যিই ফিরে যেতে ইচ্ছা করবে সেই সময়ে।
মেজো তরফেও রয়েছে রাধা-দামোদর মন্দির। তবে এখানে মন্দিরের আদল বড় তরফের থেকে বেশ আলাদা। এখানে মন্দিরের সম্মুখ ভাগ তিন খিলানযুক্ত , যাতে চিত্রিত রয়েছে রাম রাবনের যুদ্ধ, শ্রী চৈতন্য দেবের এক দিব্য রূপ ছাড়াও বিভিন্ন দেবদেবী সহ বিভিন্ন সামাজিক চিত্র।
তবে এই দুই তরফের তুলনায় ছোট তরফের প্রবেশ দ্বারটি বেশ আকর্ষণীয়, ত্রিকোনাকার ফটকের মাথায় দুটি সিংহ মূর্তি। রাধা- দামদরের মন্দির এখানেও বর্তমান, তবে এখানে মন্দিরটির সম্মুখভাগ অনেকটা চার্চের আদলে নির্মিত। বাকি দুই মন্দিরের মতই এটির গায়েও চিত্রিত রয়েছে পূরণের বিভিন্ন চিত্র। যা তুলে ধরে বাংলার ঐতিহ্য, তার শিল্প সত্ত্বাকে। হদল-নারায়ণপুর যেন লোক চক্ষুর আড়ালে থাকা এক রূপকথা নগরী।
কীভাবে যাবেন:
সরাসরি গাড়িতে যেতে পারেন,সেক্ষেত্রে কলকাতা থেকে হদল নারায়ণ পুরের দূরত্ব পড়বে 149 কিলোমিটার, সময় লাগবে সাড়ে 3 থেকে 4 ঘন্টা।এছাড়াও যেতে পারেন ট্রেন পথে। সেক্ষেত্রে প্রথমে যেতে হবে বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুর। বিষ্ণুপুর থেকে গাড়িতে হদল নারায়ণপুর 48 কিলোমিটার ,পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক। এবং বাঁকুড়া থেকে 65 কিলোমিটার সময় লাগবে দু ঘন্টা মতো।
কোথায় থাকবেন:
এখানে থাকার ব্যবস্থা তেমন নেই। থাকতে হলে বিষ্ণুপুর বা বাঁকুড়া তে থাকতে পারেন।
:- www.wikitravels.in
:- Google