01/08/2026
🌴কেরালা 🌴
কেরালা, God's Own County যাকে প্রাচ্যের ভেনিসও বলা হয়। কেরালা দক্ষিণ ভারতের ছোট্ট এবং সুন্দর একটি রাজ্যে। পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল এবং সুন্দর সুন্দর চা বাগান দিয়ে ঘেরা এই বৈচিত্র্যময় রাজ্যটি ভ্রমণের পক্ষে একদমই উপযুক্ত, কিন্তু কেরালা ঘুরতে আসতে অনেকেই ভয় পান, তাদের ধারণা ভাষাগত ও খাওয়ারের সমস্যা, অত্যধিক খরচ এবং দূরত্বগত সমস্যা। বিশ্বাস করুন ভাষা নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো সমস্যা হবে না। জায়গাটা কস্টলি, বিশেষ করে খাওয়ার দাওয়ার সেটা ঠিক, কিন্তু ওখানকার মানুষ অনেক হেল্পফুল যাতে আপনাদের বিশেষ কোনো অসুবিধা হবে না, আর আমরা "MEMORIES WITH MILES TOUR AND TRAVEL "তো রইলাম আপনাদের ন্যায্য এবং স্বল্প মূল্যে ঘুরিয়ে আনার জন্য।
যাত্রা শুরু :— ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৭
ঘরে ফেরা :— ২৫ শে জানুয়ারি , ২০২৭
আমরা ঘুরবো:-
কোচিন (১ রাত্রি), মুন্নার (২ রাত্রি), থেক্কারি (১ রাত্রি), আলেপ্পি (১ রাত্রি), ত্রিভানড্রাম (১ রাত্রি) এবং কন্যাকুমারী (২ রাত্রি)
ট্যুর প্ল্যান:-
প্রথম দিন:- শালিমার স্টেশনে রাতে মিলিত হয়ে, রাত ২৩.৪৫ মিনিটের ১২৬৬০ শালিমার গুরুদেব এক্সপ্রেস ধরে খড়্গপুর, বালেশ্বর, ভুবনেশ্বর পার হয়ে চিল্কা লেকের গা ঘেঁষে বিশাখাপত্তনম হয়ে রওনা হবো এর্ণাকুলাম এর উদ্দেশ্যে।
দ্বিতীয় দিন:- কাটবে ট্রেনে। একে অপরের সাথে গল্পে, হাসি আড্ডায় জমে উঠবে ট্রেনের যাত্রা, সাথে পেয়ে যাবো নতুন নতুন বন্ধু।
তৃতীয় দিন:- বিকেল ২:৪০ এ এর্ণাকুলাম টাউন পৌঁছে আমরা রওনা হব কচিনের হোটেলের উদ্দেশ্যে। পরে ফ্রেশ হয়ে নিজেদের মতন করে সন্ধ্যায় ঘুরে নেবো কচিন শহর।
চতুর্থ দিন:- ট্যুরের তৃতীয় দিন এবং কেরালা য় প্রথম দিন আপনার কোচি ভ্রমণের দিন, কোচিতে হোটেলে সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট করে আমরা বেরিয়ে পড়বো ফোর্ট কোচির উদ্দেশ্যে । সুন্দর পরিচ্ছন্ন, দারুণ দারুণ সব রাস্তা এই নিয়েই ফোর্ট কোচি একসময় ডাচ এবং পরবর্তিতে ব্রিটিশদের উপনিবেশ। এখানে দেখার মত আপনারা পাবেন এশিয়ার প্রাচীনতম(ভারতের প্রথম) ক্যাথলিক চার্চ, ভাস্কর-দা-গামার সমাধি ও বাড়ি , , ফোর্ট কোচি বীচ, এবং সর্বপোরী আমরা দেখবো চাইনিজ ফিশিং নেট, পুরোনো চাইনিজ টেকনোলজি ব্যবহার করে জাল দিয়ে মাছ ধরার পদ্ধতি, কোচি ই একমাত্র জায়গা পৃথিবীতে যেখানে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এখনো ফিসিং করা হয়। এটা কোচিতে ট্যুরিস্টদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা গুলোর মধ্যে একটি। চাইনিজ নেটে দেখে, এবার আমাদের যেতে হবে পাহাড়ি নিঝুম শহর মুন্নার। অপরূপ সুন্দরী মুন্নারেই আমাদের রাত্রিবাস ৷
(এই দিন রাস্তাতেই সেরে নিতে হবে লাঞ্চ )
পঞ্চম দিন:- পরের দিন ব্রেকফাস্ট করে সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়তে হবে মুন্নার ঘোরার উদ্দেশ্যে । প্রথমেই আমাদের গন্তব্য ইরাভিকুলাম ন্যাশানাল পার্ক ৷ মুন্নার সাইটসিং এর সবচেয়ে জনপ্রিয় যায়গা এভারিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক, এই পার্ক বিখ্যাত নীলাকুরঞ্জী ফুলের জন্য যেটা ১২ বছর পরপর ফোটে যার থেকেই নাম হয়েছে নীলগিরি, আর নীলগিরি থার( হরিন) এর জন্য পৃথিবীর প্রায় ৬০% এই হরিণ এখানেই পাওয়া যায়। এখানে প্রবেশপত্র অনলাইনেও কাটা যায়, এখানে থেকে দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ পর্বত আনাইমুদি ভালো ভাবে দেখতে পাবেন। মোটামোটি দু ঘন্টা লাগবে ওদের গাড়িতে পুরোটা দেখতে ৷ দুপুরে হোটেলে ফিরে লাঞ্চের পর আমরা পর পর দেখে নেবো রোজ গার্ডেন, ইকো পয়েন্ট, টি ফ্যাক্টরি এবং টি মিউজিয়াম, Mattupetty dam এ কাটিয়ে আবার বাসে করে ফিরে যাবেন সোজা হোটেল আপনারা মুন্নার ট্যুর এখানেই শেষ।
ষষ্ঠ দিন:- সকাল ব্রেকফাস্ট করে হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়ুন আপনাদের নেক্সট ডেসটিনেসন থেক্কারি র উদ্দেশ্যে মুন্নার থেকে যার দূরত্ব ৮৫ কিমি, সময় লাগবে ৩ ঘন্টা। মুন্নারের বিখ্যাত চা বাগান গুলো পরবে এই রাস্তাতেই ৷ এখানকার চা বাগান গুলো কিন্তু আমাদের নর্থ বেঙ্গলের চা বাগান থেকে অনেকই আলাদা খুব ভালো ভাবে রক্ষনাবেক্ষন করা। সুন্দর সাজানো গোছানো, সৌন্দর্য নিয়ে কোনো কথাই হবে না এখানেই চেন্নাই এক্সপ্রেস সিনেমার কাশ্মীর সে কন্যাকুমারী গানটা শুটিং হয়েছিল। রাস্তার দু পাস দিয়ে চা বাগান সত্যি অসাধারণ লাগবে।থেক্কারি বিখ্যাত তার ওয়াইল্ড লাইফ আর স্পাইসের জন্য। থেক্কারি কে কেরালার স্পাইস-ব্যাগ ও বলা হয়। থেক্কারি তে হোটেলে পৌঁছে কিছুটা রেস্ট নিয়ে ফ্রেশ হয়ে চলুন আপনার থেক্কারি র সাইটসিং গুলো করার উদ্দেশ্যে, প্রথমেই আপনারা যাবেন থেক্কারি যার জন্য বিখ্যাত সেই পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক এখানেও আপনাকে ভিতরে পার্কিং অবধি বাসে করে যেতে হবে ভাড়া ২০০ টাকা। এছাড়া এখানে জিপ সাফারি, হাতি সাফারি এবং পেরিয়ার লেকে বোটিং করা যায় ৷ অসাধারণ ফিলিং আসবে। বোটিং করে হোটেল পৌঁছে রেস্ট নিন কারণ পরের দিন আবার আপনাকে যেতে হবে নেক্সট গন্তব্যস্থল আলেপ্পির উদ্দেশ্যে।
পেরিয়ারে বোটিং এর সময়সূচী অনলাইনে দেখে বুক করে নিতে পারবেন ৷
সপ্তম দিন:- থেক্কারি হোটেল থেকে আপনাকে খুব সকাল সকাল বেরোতে হবে কারণ আপনাকে যেতে হবে আলেপ্পি, কারণ আপনি যতো তাড়াতাড়ি পৌঁছেবেন তত ভাল করে এই জায়গা এবং তার ব্যাকওয়াটারস্ উপভোগ করতে পারবেন, যাই হোক থেক্কারি থেকে আলেপ্পি পৌঁছতে আপনার প্রায় ৪ ঘন্টা লেগে যাবে হোটেলে এসে ফ্রেস হয়ে আপনাদের তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে হবে ব্যাকওয়াটারস্ দেখতে এখানে দেখার মত এটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সারা জীবন মনে থাকবে এর অভিজ্ঞতা ৷
অষ্টম দিন:-আজ সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা আমরা পৌঁছে যাবো ত্রিভান্দ্রম, শহরে প্রবেশের আগেই ঘুরে নেব কোভালাম বিচ ৷ লাঞ্চের পর যাবো পদ্মনাভস্বামী মন্দির (এখানে জামা খুলে প্রবেশ করতে হয়), নেপিয়ার মিউজিয়াম এবং শ্রী চিত্রা আর্ট গ্যালারি। রাত্রিবাস ত্রিভানড্রাম এ।
নবম দিন:-দিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা বেরিয়ে পড়বো কন্যাকুমারীর উদেশ্যে। কন্যাকুমারী পৌঁছে হোটেলে ফ্রেশ হয়ে আমরা বাকি দিনটা কাটাবো বিচের ধারে আনন্দ করে। আমরা ঘুরে নেবো কন্যাকুমারীর সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল। এছাড়া আছে কন্যাকুমারী বিচ, কন্যাকুমারী পিয়ার, ত্রিবেনী সঙ্গম মানে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের মিলনস্থল, সুনামী মিউজিয়াম, রাম মন্দির, মা ভগবতী আম্মা মন্দির এখানে জামা খুলে প্রবেশ করতে হয়। এই কয়টি জায়গা একদম আসে পাশে। বিবেকানন্দ রক আপনাকে বোটে করে যেতে হবে। বোটের টিকিটও অনলাইনে কেটে নেওয়া যায় ৷
দশম দিন :— এ দিনটা থাকছে কন্যাকুমারীকে উপভোগ প্রান ভরে উপভোগ করার জন্য ৷ তার সাথে সেরে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও ৷
একাদশ দিন:- আজ ভোরে ৫:৫০ মিনিটে কন্যাকুমারী হাওড়া সুপারফাষ্ট ধরে আমরা রওনা দেবো কলকাতার উদ্দেশ্যে ৷
দ্বাদশ দিন:- এই দিন রাত প্রায় বারোটায় আমরা পৌছবো হাওড়ায় , সেখানে একে অপরকে বিদায় জানিয়ে আমরা রওনা দেবো নিজেদের বাড়ীর উদ্দেশ্যে ৷
ত্রয়দশ দিন :— কেরল কন্যাকুমারী ভ্রমনের অনবদ্য স্মৃতি নিয়ে আমরা ফিরবো যে যার বাড়িতে
ট্যুরের খরচ :-
-------------------
ট্রিপল শেয়ারিং — ২৩০০০ /- প্রতি জন
ডবল শেয়ারিং - ২৪০০০ /- প্রতিজন
সিঙ্গল শেয়ারিং — ৩০০০০/-
৫ বছর অবধি বাচ্ছাদের ফ্রী
৫ থেকে ৯ বছর অবধি ৬০%
# বুকিং র সময় অগ্রিম ৭০০০ টাকা জন প্রতি দিতে হবে। ট্যুর শুরুর একমাস আগে আরো ৭০০০ টাকা জন প্রতি দিতে হবে, বাকি টাকা প্রথম দিন হোটেলে পৌঁছে।
কি কি পাবেন :—
————————
১) স্লিপার ট্রেনের টিকিট ৷ এসির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিফারেন্স অফ ফেয়ার দিতে হবে ৷
২) সমস্ত ডিলাক্স ক্যাটাগরির হোটেল এবং পরিবার অনুযায়ী নন এ সি ঘর ৷
৩) কোচিন পৌছনোর পর থেকে ইভিনিং স্নাক্স থেকে বাঙালি খাবার ৷ সকালে চা ও জলখাবার, বিকালে চা ও টিফিন (হোটেলে থাকলে) ৷ দুপুর রাত মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, তরকারী সহ ভাত ৷ রাতে চাইলে রুটি ৷
৪) সমস্ত উল্লেখ করা দ্রষ্টব্য স্থানে প্রাইভেট কোচ
৫) সবচাইতে মূল্যবান জিনিস যেটা পাবেন সেটা হল, আমাদের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস আর ভরসা ৷
কি কি পাবেন না:—
——————————
১) মিনারেল ওয়াটার
২) কুলির খরচ, ট্রেনের খাবার,দর্শনীয় স্থানের এণ্ট্রি ফী ও ক্যামেরা চার্জ ,হাতি বা জীপ সাফারির খরচ
৬) উল্লেখ নেই এরকম কোনো খাবার বা বেক্তিগত খরচ।
৭) আর যেটা একদমই পাবেন না সেটা হল চিটিংবাজি ৷
বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করুন -------
রাজা চক্রবর্তী
9748174893
প্রশান্ত সমাদ্দার
9903813315
চন্দন পাখিরা
9382771538