Chandni Chowk

Chandni Chowk Fevicol Distributor

20/07/2026

১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সবস্তরে সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক’, বিধানসভায় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।।

19/07/2026

একবার আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ: জিজ্ঞেস করা হলো কার কাছে আমরা ইলম শিখবো। জবাবে তিনি বলেন। " যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম অর্জন করেছেন তার কাছে থেকে আমরা ইলম শিখবো" ।

09/05/2026

তৃণমূল কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবে?

বিধানসভা ভোটে ভারডুবির পর মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম প্রমুখ। সেই বৈঠকে এদিন দ্য ওয়ালের তরফ থেকে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, বাংলায় ভোট বিপর্যয়ের পর তৃণমূল (TMC) কি এবার কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে মিশে যাবে?

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর আমি ইন্ডিয়া টিম নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞ। সনিয়াজি আমাকে ফোন করেছিলেন, রাহুল গান্ধী আমাকে ফোন করেছিলেন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন সবাই আমাকে ফোন করেছিলেন। আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে'।

বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেক দিন ধরে একটা ধারণা রয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস একবার ক্ষমতাচ্যূত হলে দল ধরে রাখা মুশকিল। তাসের ঘরের মতো তা ভেঙে পড়তে পারে। দলের অনেক প্রবীণ নেতাই তা স্বীকার করেন।

সোমবার রাত থেকে দুটো প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে। এক, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী? এবং দুই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা কী?

পর্যবেক্ষকদেক অনেকের মতে, সেদিক থেকে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ইন্ডিয়া জোটের কথা তুলেছেন, যেভাবে সনিয়া-রাহুলের ফোনের কথা বলেছেন তা তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছরে এমনও অবস্থা ছিল যে ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্ব মানতেই অস্বীকার করছিল তৃণমূল। এমনকি কলকাতায় বসে কুণাল ঘোষের মতো নেতারা বলেছিলেন, কংগ্রেসের বিগ ব্রাদার অ্যাটিচিউড ছাড়তে হবে। সেই তৃণমূলের মুখে এদিন ইন্ডিয়া জোটের নাম অনেকের কানে বেজেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও সমষ্টিগত বিরোধী ভোট এখনও ৪৪ শতাংশ। ২৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট ও উদার হিন্দু ভোটের সমন্বয় বিজেপিকে চিন্তায় রাখতে পারে। আবার এও ঠিক, তৃণমূল যদি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায় তবে অস্তিত্বের সমূহ সংকট কাটিয়ে লড়াইয়ে ফিরতে পারে। কথায় বলে, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সময় সব কিছুর উত্তর দেবে।

তবে আমার ব্যক্তিগত মত বর্তমানে ভারতের মুসলমানদের উচিত আঞ্চলিক দল গুলোকে ভোট না দিয়ে সমর্থন না করে কোন আঞ্চলিক দল না করে সরাসরি জাতীয় দল হিসাবে কংগ্রেসকে সমর্থন করা এবং ভোট দেওয়া। তাতে সর্বভারতীয় স্তরে ১:১ লড়াই হবে। আর ১:১ লড়াই ছাড়া বিজেপিকে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলো থেকে হটানো যাবে না।

28/04/2026

বিতর্ক ও বিভ্রান্তি (৫৭১)

সাবধান! সাবধান!

এই মুহূর্তে বাংলার অধিকাংশ মানুষ বলছেন, এস আই আর এখন আর প্রশাসনিক পরিভাষা নয়। একটি ত্রাসের নাম। একটি আতঙ্কের নাম। একটি গভীর চক্রান্তের নাম। একটি নিপীড়নের নাম। একটি অন্যায়ের নাম। একটি বিভীষিকার নাম। লক্ষ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে একটি অঘোষিত যুদ্ধের নাম।

আমাদের মধ্যে যাদের সামান্যতম কমনসেন্স আছে। এক আধটু জ্ঞান আছে। সামান্য ন্যায়বোধ আছে। যারা ঘৃণা ও বিদ্বেষ মুক্ত। যারা গ্রাউন্ড রিয়ালিটি বিষয়ে অবহিত তারা জানেন, তথাকথিত এস আই আর কত অর্থহীন একটি অনুশীলন! ফিউটাইল এক্সারসাইজ! পরিতাপের বিষয়, যারা গজদন্ত মিনারে বসে অলীক কল্পনায় বিভোর তাদেরকে বোঝাতে বারবার আদ্যোপান্ত ঘটনা উল্লেখ করতে হয়। ইনিয়ে বিনিয়ে বর্ণনা করতে হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কাছে এসব আলোচনার পুনরাবৃত্তি ও ইতিবৃত্ত বর্ণনা খুব বিরক্তিকর। এটা সুদূর অতীতের কোন ঘটনা নয়। আবার ভবিষ্যতে সংঘটিত হতে পারে এমন কোন আশঙ্কা নয়। বর্তমান ঘটে চলেছে। ব্যাপক তার চর্চা হচ্ছে। প্রতিবাদ হচ্ছে। এসব দেখে, আমাদের প্রজন্মের মানুষের চোখ খুলে গেছে। ব্রিটিশ বিরোধী মুক্তি আন্দোলন পড়ে উপভোগ করেছি। তার মর্ম হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারিনি। এখন বুঝতে পারছি, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার কীভাবে নিরীহ নাগরিকদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করে! জীবন মরণ লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করে!

আজকে গতানুগতিক আলোচনা থেকে সরে এসে বিপরীত মেরু থেকে ঘটনাটা আলোকপাত করব। আপনারা সকলেই জানেন, যেসব মানুষ বিনা কারণে ইতিমধ্যে এস আই আর নামক চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। তাদের বক্তব্য না শুনে এবং তাদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য না নিয়ে তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। অন্যায় ও নীতিহীন পদ্ধতিতে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে অবলুপ্ত করা হয়েছে। এসব হতভাগ্যদের কে বোঝাবে যে অজান্তেই তারা এক গভীর খাদে পতীত হয়েছে! তারা এখনো নির্বিকার! কেউ বলছে, এসব কিচ্ছু হবে না। ভোটের পর এমনি এমনি ঠিক হয়ে যাবে। কেউ বলছে, পার্টি নেতারা বলেছে, এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তারা ঠিক করে দিবে। এমনকি তারা সতর্ক করে দিচ্ছে, এসব নিয়ে সংগঠিত হওয়া অথবা আন্দোলন করা তারা সহ্য করবে না। ফলে, এস আই আর বিভীষিকার শিকার মানুষ এখনো নির্বিকার। আবার রাস্তায় নামা কত বিপজ্জনক হতে পারে, সেটা মালদহ কান্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

তাহলে এখন কী হবে? বস্তুত ফ্যাসিবাদী শক্তি এপর্যন্ত একশো শতাংশ সফল। তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয়, ফ্যাসিবাদী শক্তি বিরোধী লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দিতে সক্ষম হয়েছে। তৃতীয়, তারা এখন মেরুকরণের নতুন ও কার্যকর হাতিয়ার অর্জন করেছে। চতুর্থ, তারা সুদূরপ্রসারী একটি এজেন্ডা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। এই এজেন্ডা সামনে রেখে একাধিক নির্বাচনে তারা মাৎ করে দিবে। আমাদের প্রতিবেশী ও সহনাগরিক ভাইদের ভুল বোঝাতে সক্ষম হবে।

এখন আমাদের উদ্বেগ, এস আই আর নামক বিভীষিকার শিকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিয়ে। তারা কেউ আমাদের ভাই, কেউ আমাদের বোন, কেউ আমাদের পিতা অথবা মাতা, কেউ আমাদের চাচু, কেউ আমাদের চাচীমা, আবার কেউ আমাদের সন্তান। প্রায় প্রতিটি পরিবারে কেউ না কেউ এই ভয়ঙ্কর চক্রান্তের শিকার। একেবারে হিসেব করে। এই বিভীষিকার চুড়ান্ত পরিণতি কোথায় দাঁড়াবে, আমরা কেউ জানি না। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! এসব হতভাগ্য মানুষের কাছে এখন এই প্রশস্ত জগৎ সংকুচিত হয়ে আসছে। তারা এদেশের বৈধ নাগরিক না হলে, পৃথিবীর কোন দেশ তাদের গ্রহণ করবে? কেন গ্রহণ করবে? কী প্রমাণ আছে যে তারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে? মায়ানমার থেকে এসেছে?

খুব উদ্বেগের বিষয়, আমাদের সমাজের এক শ্রেণির নির্বোধ কিছু না জেনে এই বিভীষিকাকে অস্বীকার করে চলেছে। তারা বলে চলেছে, এসব কিচ্ছু হবে না! সব ঠিক হয়ে যাবে। এসব মন্তব্যের পিছনে শক্তিশালী যুক্তি ও প্রজ্ঞা থাকলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু না, এসব মন্তব্য তাদের হঠকারী চরিত্র উন্মোচন করে। এসব তাদের অশিক্ষিত গডফাদারদের শেখানো বুলি। কোন ভিত্তি নেই। আবার হতে পারে, হতাশা থেকে নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য অথবা সাময়িক সান্ত্বনা পেতে এসব আওড়াচ্ছে!

খুব সিরিয়াসলি বলছি, যারা এদেশের বৈধ নাগরিক এবং বৈধ ভোটার। তা সত্ত্বেও, তাদের নাম ডিলিট করা হয়েছে। তাদেরকে অনুরোধ করছি, খুব শীঘ্রই সংগঠিত হোন। বিষয়টি প্রতিদিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ইতিমধ্যে, প্রশাসনিক প্রতিকারের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, দেশের উচ্চতর আদালত বিষয়টির সহজ সমাধান না করে আরও জটিল করে তুলেছে! যে এস আই আর একটি স্বাভাবিক ও সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম তাকে কোর্টের আওতায় ফেলে সব ঘেঁটে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিচারের নামে এসব কী হচ্ছে! বিচারের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে! সত্য বলতে কি, আগামী দিনে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া ও ট্রাইব্যুনাল উত্তর বিচার প্রক্রিয়া কত জটিল হবে, সেসব বলে আপনার ঘুম হারাম করতে চাই না। উনিশটি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ নিয়মিত কাজ করলেও এক প্রজন্মে এই কাজ সম্পন্ন হবে না। মহামান্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দিন রাত এক করে এই বিভীষিকার সমাধান করতে আগ্রহী হবেন না। তাদের শরীর ও মন সাপোর্ট দিবে না। এখন এসব আর আশঙ্কা নয়, বাস্তব। উট পাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে দিলে বিপদ এড়ানো যাবে না।

এই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে। গভীর অনুসন্ধানের পর, আমাদের মনে হয়েছে, দুটি পথ এখনো উন্মুক্ত আছে। এক. আইনি পথে সমস্যার সুরাহা খুঁজতে হবে। যদিও এপথে কবে সমাধান হতে পারে কেউ জানেন না। কিন্তু এপথে এখন হাঁটতেই হবে। দুই. গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এপথ খুব মসৃন নয়। তবে এদেশে এখনো গণতন্ত্র মুমুর্ষ অবস্থায় বেঁচে আছে। এজন্য আন্দোলন ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা সনাতনী পথ ও পন্থা। পৃথিবীর সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করে সফলকাম হয়েছে।

খুব গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, আমাদের মধ্যে যাদের নাম অ্যাডজুডিকেশনের পর ডিলিট হয়েছে তাদেরকে পাড়ায় পাড়ায় ও গ্রামে গ্রামে একটি একটি করে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। দশজন থেকে একশো জন বা তারও বেশি সদস্য নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলুন। সংগঠনের অভিন্ন নাম হবে। সেই নামের সঙ্গে শুধু স্থানের নাম যোগ করে দিন। যেমন, কনুটিয়া ডিলিটেড ভোটার সংগ্রাম কমিটি। রামপুরহাট ডিলিটেড ভোটার সংগ্রাম কমিটি। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো নিয়ে ব্লক, মহকুমা ও জেলা স্তরে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিটি জেলা কমিটির দায়িত্বশীলদের নিয়ে রাজ্য কমিটি কাজ করবে। সকল ডিলিটেড ভোটার স্থানীয় কমিটির সদস্য হবে। প্রতিটি কমিটি একটি করে মাস পিটিশন লিখে স্থানীয় বিডিও, এসডিও, ডিএম এবং কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দিবেন। সেই সঙ্গে এসব তৎপরতা সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল করতে হবে।

সাবধান! এসব পরিকল্পনাকে ভাবনা ও কল্পনা স্তরে রেখে মাসের পর মাস অপেক্ষা করলে সব কিছু হাতের বাইরে চলে যাবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শুধু উপদেশ দিয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। সকলকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। নিজের যোগ্যতা ও পজিশন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নিতে হবে।

লেখক নুরুল ইসলাম।

27/04/2026

আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া জিতলেই আরামবাগকে জেলা ঘোষণা করা হবে বার্তা অভিষেক ব্যানার্জির !
এই বার্তাকে আরামবাগ বাসীর কাজে লাগানো উচিত।
মমতা আরামবাগকে রেল দিয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিয়েছে। হাইওয়ে দিয়েছে। হেলিপ্যাড দিয়েছে। তার পরও আরামবাগবাসী কি ভাবে বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। অন্তত মমতা যতদিন রাজনীতিতে আছে আরামবাগবাসীর মমতার সাথে গাদ্দারি করা উচিত হচ্ছে না।

27/04/2026

আপনার মূল্যবান ভোটটা অবশ্যই সরকার গড়ার জন্য দেবেন। একটা খুচরো প্রার্থী দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না। এটা দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ হওয়ার ভোট নয়। আপনার ভোটটা হোক জয়সূচক।

27/04/2026

বিতর্ক ও বিভ্রান্তি (৫৬৭)

বঙ্গ বিজয়ে বিজেপির রণকৌশল

এই মুহূর্তে ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নাম বিজেপি। অনেকেই বলেন, আর এস এস-বিজেপি। বিজেপি শুধু ভারতের বৃহত্তম দল নয়, পৃথিবীর বৃহত্তম দল। তা সত্ত্বেও, বিজেপিকে ভারতের গোবলয়ের রাজনৈতিক দল বলা হয়। হিন্দী ভাষাভাষী অঞ্চলের রাজনৈতিক দল। দক্ষিণ ভারত ও উত্তর পূর্ব ভারতে তাদের তেমন শক্তিশালী সংগঠন নেই। আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে বিজেপি এসব অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলেছে। এভাবে তারা তাদের নিজস্ব বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সর্বভারতীয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। এই প্রচেষ্টার অবিচ্ছিন্ন অংশ বাংলা দখল করে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠা করা। পশ্চিমবঙ্গ দখল তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে যেকোন মূল্যে তারা বাংলা তথা পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে চায়। এজন্য তারা নির্লজ্জভাবে গণতান্ত্রিক প্রটোকল লঙ্ঘন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়েছে। বিশাল সংখ্যক দেশের বৈধ নাগরিকের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। মানুষের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করতে লক্ষ লক্ষ আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। হিন্দী বলয়ের উগ্রবাদী আর এস এস নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মেরুকরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করে চলেছে।
ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি, আর এস এস-বিজেপি ভারতের অধিকাংশ বড় ও প্রভাবশালী প্রদেশ দখল করে ফেলেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ দখল তাদের প্রধান এজেন্ডা। এজন্য বিহার বিজয়ের পর তারা সর্বোচ্চ প্রভাব ও শক্তি প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে মাঠে নেমেছে। এই মুহূর্তে দৃশ্যত তাদের রণকৌশল:

১. হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণ: হিন্দু মুসলিম মেরুকরণ আর এস এস-বিজেপির তুরুপের তাস। তাদের পেটেন্ট এজেন্ডা। এই এজেন্ডা বাদ দিয়ে এই রাজনৈতিক দল একটি নির্বাচন বৈতরণী পার হতে পারবে না। এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য তাদের সাধারণ নেতাকর্মী থেকে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হিন্দু মুসলিম মেরুকরণে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করছেন। সম্প্রীতি ও সংহতি শব্দদ্বয় তাদের অভিধানে নেই। তারা প্রত্যেকেই যেন হিন্দু যোদ্ধা। ধর্মযুদ্ধ তাদের পেশা। তাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য নাকি রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা!
2. আর এস এস-বিজেপির দ্বিতীয় শত্রু ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো। এজন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তারা সরকারি এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তটস্থ ও সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি এজেন্সি ব্যবহার করে আতঙ্ক তৈরি করে চলেছে। আবার তথাকথিত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের ভয় দেখিয়ে নিজের দলে টেনে নিয়ে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তিহীন করে ফেলেছে।
3. মিথ্যা স্বপ্ন ফেরি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে তাদের জুড়ি নেই। মিথ্যাচার ও প্রতারণা রাজনীতিতে নাকি বৈধ! কমবেশি সব রাজনৈতিক দল এই কুকর্মের অংশীদার। কিন্তু আর এস এস-বিজেপির নেতাকর্মীরা এটাকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তারা এতদিন ক্ষমতায় থাকার পরও বলে চলেছে তাদের নির্বাচিত করলে 'আচ্ছে দিন' নিয়ে আসবে। বাড়ি বাড়ি চাকরি ও প্রতিটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অঢেল সম্পদ ভরে দিবে! সব জুমলা! কিন্তু মানুষ বারবার প্রতারিত হচ্ছে। আবার প্রতারিত হতে যাচ্ছে।
4. আর এস এস-বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দলীয় ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। গত সংসদ নির্বাচনে ফলাফলে আর এস এস-বিজেপি দারুনভাবে আহত হয়েছে। আশাহত হয়েছে। এজন্য নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য তারা মানুষের প্রতি খুব বেশি ভরসা রাখতে পারছে না। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে তারা বিরোধী ভোটকে অকার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা দারুন ফলপ্রসূ হয়েছে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও বিহারে। এখন আরও নির্লজ্জভাবে এবং আক্রমণাত্মক হয়ে পশ্চিমবঙ্গে এই নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে। এখন শুধু নির্বাচন কমিশন নয় এই জাল বিস্তৃত হয়েছে আমলা ও বিচার ব্যবস্থার একটি অংশ জুড়ে। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এখন তাদের প্রভাব বলয়ে চলে এসেছে। এখন যেকোন রাজ্যে ক্ষমতা দখল ও পুনর্দখল তাদের কাছে খুব সহজ ব্যাপার। বস্তুত সাজানো নির্বাচন ও বিকৃত গণতন্ত্র এখন তাদের তুরুপের তাস।
5. এসব সত্বেও, বিরোধী ভোটারদের ভোটাধিকার সংকুচিত করে বিজেপি তাদের চ্যালেঞ্জকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পূর্বে উল্লেখ করেছি, এই মুহূর্তে বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে সামনাসামনি লড়াই করে পশ্চিমবঙ্গ জয় করা সম্ভব হবে না ধরে নিয়ে বিরোধী ভোটারদের ভোটাধিকার সংকুচিত করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের নাম এস আই আর। ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন। হিসেব করে করে প্রতিটি নির্বাচন কেন্দ্রে বিরোধী ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করেছে। এই ভোটারদের সিংহভাগ মুসলিম। মুসলিমদের টার্গেট করে এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। এক মুসলিম সম্প্রদায়কে অবদমিত করা। দুই, বিজেপি বিরোধী দলের ভোটব্যাঙ্ক ধ্বংস করা।
6. বিরোধী ভোটারদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া তাদের রণকৌশলের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যাপক ভোটাধিকার হরণ করার পরেও বিজয় নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছে না। এজন্য বিরোধী ভোটাররা যাতে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায় এজন্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটে প্রার্থী দিতে উৎসাহিত ও সাহায্য করে চলেছে। অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের হুমায়ূনের মতো অদূরদর্শী নেতাদের টোপ দিয়েছে। তার অখ্যাত রাজনৈতিক দলকে শত শত আসনে প্রার্থী দিতে উৎসাহিত করেছে। তাদের রণকৌশলের শিকার তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো। তারা কখনোই এক সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না।
7. আর এস এস-বিজেপিতে অনেক শিক্ষিত মানুষও আছেন। কিন্তু এই দল সংগঠনের কট্টরপন্থী ও কম শিক্ষিত নেতাকর্মীদের সামনের সারিতে নিয়ে আসছে । আর এস এস-বিজেপি পৃথিবীর বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাদের নেতাকর্মীর অভাব নেই। যেহেতু এখন তারা ক্ষমতাসীন সেই জন্য তাদের সঙ্গে বহু বিখ্যাত রাজনীতিবিদ থেকে অর্থনীতিবিদ ও বিখ্যাত ব্যক্তিরা আছেন। তা সত্ত্বেও, বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসার মাপকাঠি অর্ধশিক্ষিত কট্টর হিন্দুত্ববাদী হওয়া। যারা সব সময় অযৌক্তিক কথা বলে। ক্ষমতার আস্ফালন করে। বিরোধীদের হুমকি দেয়। ধর্মীয় সুড়সুড়ি দেয়।
8. বিজেপি সব সময় দেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে। দেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা আর এস এস বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। যেখানে বর্ণ হিন্দুদের প্রশ্নহীন আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। নমশুদ্র, শুদ্র ও অতিশুদ্র মুসলিমদের ক্ষমতায় কোন অংশীদারিত্ব থাকবে না। এটাকেই তারা রামরাজ্য বলে। এই রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আর খুব বেশি বাধা নেই। কারণ বিরোধী কোন রাজনৈতিক দল অথবা সম্প্রদায় আর এস-বিজেপির এই রণকৌশল মোকাবেলা করার মতো কৌশল নেই এবং সদিচ্ছাও নেই।

লেখক প্রফেসার নুরুল ইসলাম।

26/04/2026

ইসরাইলের বেন গুরিয়ান এয়ারপোর্টে দেখলাম ভারতের মণিপুর মিজরাম থেকে কিছু অধিবাসিকে পাকাপাকি ভাবে ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ইসরাইল তাদের দেশে জায়গা করে দিচ্ছে।
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুসরণ করলে দেখতে পাই পৃথিবীতে এমন একটা সময় আসবে যে সময় সারা বিশ্বের ইহুদিরা একত্রিত হবে ইজরাইলে। সেই হাদিসেরই কথা সত্যি হতে যাচ্ছে।

মণিপুর থেকে ইজরাইল এ এক দীর্ঘ যাত্রা। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যগুলি থেকে ‘বানু মানাশে গোষ্ঠীর ৫ হাজার ইহুদিকে এয়ার লিফট করে ইজরাইলে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার। বৃহস্পতিবার 22 এপ্রিল প্রথম দফায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে 240 জনকে। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে বিশেষ বিমানে তাঁদের নিরাপদে তেল আভিভে নিয়ে গিয়েছে ইজরাইলি সেনা।

‘বনু মানাশে’ গোষ্ঠীর সদস্যরা থাকেন মণিপুর এবং মিজোরামের পাহাড়ি এলাকায়। ‘বনে মেনাশে’-ই ইহুদিদের ১০টি ‘লস্ট ট্রাইব’-এর একটি। ইজরাইলের একটি ঘোষিত নীতি রয়েছে: ইহুদিরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, তাঁরা যে কোনও সময়ে সেই দেশে ফিরতে পারেন। ‘বনু মানাশে’কে সে ভাবেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইজরাইলে। এর পিছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে।

'অপারেশন উইংস অফ ডন’
বিশেষ এই সেনা অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’। ইজরাইলের অভিবাসন মন্ত্রী ওফির সোফার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘প্রতি বছর বনে মেনাশে গোষ্ঠীর ১২০০ ইহুদিকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’ এর জন্য গত বছর 2025 সালে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।

ফিরে দেখা ইতিহাস:
বাইবেলে বলা হয়েছে, ১২টি গোত্রের মানুষকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল প্রাচীন ইজরাইল। এর মধ্যে যোসেফের পুত্রদ্বয় এফ্রাইম আর মনশে-র থেকে জন্ম নিয়েছিল দু’টি গোত্র। ‘বেনাই মানাশে’-রা নিজেদের সেই মনশের বংশধর বলে দাবি করেন। 722 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে অ্যাসিরিয়রা হামলা চালায় ইজরাইলে। ছন্নছাড়া হয়ে যায় ইজরাইলের ১০টি গোষ্ঠী। তাদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেনাশে-কে প্রাণ হাতে করে পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত ও চিন পেরিয়ে চলে আসতে হয় ভারতে। তার পরে ধীরে ধীরে মণিপুর ও মিজোরামে বসতি গড়ে তোলেন তাঁরা।

মণিপুরে অধিকাংশ কুকি-ই এখন খ্রিস্টান ধর্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু মানাশে-রা এখনও ধরে রেখেছেন নিজেদের ধর্ম পরিচয়। নিজেদের ইহুদি সত্ত্বা। মানাশেদের দেখতে ঠিক ইহুদিদের মতো নয়। মুখের গঠনে একটা মঙ্গোলিয়ান ছাপ আছে। এক লহমায় অরুণাচল বা মণিপুরের মানুষদের থেকে তফাত করা যায় না।

ইজরাইল কেন ফেরাচ্ছে?
মেনাশে-রা মূলত কৃষক। মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় তাঁদের জমিজমাও রয়েছে। কৃষিকাজ করেন। কিন্তু আয় খুব কম। তাই ইজরাইলে ফিরে যেতে চান তাঁরাও। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে ইজরাইলেও শ্রমিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে তারাও আগ্রহী। গত কয়েক দশকে প্রায় ৫ হাজার মেনাশে ইজরাইলে ফিরে গিয়েছেন। সেখানে অধিকাংশই ট্রাক চালান। কিংবা শ্রমিকের কাজ করেন। বছরে প্রায় ৫৫ হাজার ডলার আয় হয়। সেখানে ভারতে তাঁদের আয় হতো ১,২০০ ডলার মতো। ইজরাইলে ফিরে যাওয়ার আগে এক মেনাশে বলেন, ‘ভারত জন্মভূমি কিন্তু ইজরাইলের সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান, ফিরতে হবেই।’ কারণ যাই হোক, বাবা-দাদার জমিতে ফিরে যাওয়ার যাত্রাই এ বার শুরু হলো।

Address

2-Grant Street
Kolkata
700013

Telephone

9836163668

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chandni Chowk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category