07/12/2025
কোচবিহার বিমানবন্দর: এক রাজকীয় উৎথান ও পতনের কাহিনী
১৯৩০-এর দশকে কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য "নীল কুঠি" নামে এই বিমানবন্দরটি তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর যখন অসমের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন এই বিমানবন্দরই উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় ।
দীর্ঘ যাত্রাপথ:
শুরুর দিনগুলিতে (১৯৪৮): এভিয়েশন, কলিঙ্গা এয়ারওয়েজের মতো সংস্থাগুলি এখানে পরিষেবা দিত।
বন্ধ ও চালুর খেলা: ১৯৭৪ সালে প্রথম পরিষেবা বন্ধ হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য 'বায়ুদূত' পরিষেবা চালু হলেও, ১৯৯৫ সালের পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি মূলত সামরিক বা ভিআইপি ফ্লাইট ছাড়া অচল ছিল।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনিতে এই বিমানবন্দরের উল্লেখ আছে। উনি একবার এখানথেকে মালবাহী বিমানে কলকাতা ফিরে আসেন।
স্বপ্নপূরণ ও 'উড়ান' প্রকল্প: দীর্ঘ টালবাহানার পর, ২০২৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের 'উড়ান' (UDAN) প্রকল্পের অধীনে ৯ আসনের একটি ছোট বিমান কলকাতা-কোচবিহার রুটে পরিষেবা শুরু করে। একইঞ্জিন বিশিষ্ট এই বিমানটিতে কোনো টয়লেট ছিল না। এবং যাত্রী ও পাইলট পাশাপাশি যাত্রা করতেন। মাটির খুব কাছদিয়ে যাত্রাকালে এই বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যাবহার করতো। এই বিমানে কোনো বিমানসেবিকা ছিল না। এটি ছিল কোচবিহারবাসীর কাছে এক বিরাট স্বস্তি।
বর্তমান পরিস্থিতি:
তবে, এই পরিষেবাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরিকাঠামোগত সমস্যা, সরকারের ডোনেশন বন্ধ করে দেওয়া , বিশেষ করে বড় বিমান ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত রানওয়ের অভাব এবং বাণিজ্যিক কারণে, ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার (IndiaOne Air) সংস্থা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে। যদিও শেষ গতকাল পর্যন্ত এই বিমানটি ৯ জন যাত্রী নিয়েই যাত্রা করেছিল। যাত্রাকালে টিকেট মূল্য ছিল ৩৮০০ টাকা।
কোচবিহার বিমানবন্দরের এই উত্থান-পতনের ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন কতটা জরুরি। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, রানওয়ে সম্প্রসারণ করে যাতে বড় বিমান পরিষেবা চালু রাখা যায়। দেখা যাক, এই ঐতিহ্যের ডানা আবার কবে পুরোপুরি মেলে!