28/01/2026
২০২৬ সালে পাসপোর্ট তৈরির নিয়মাবলীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ভারত সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং দ্রুত হয়েছে।
২০২৬ সালের নতুন নিয়মগুলো নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
১. ডিজি লকার (DigiLocker) ব্যবহার
এখন থেকে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য DigiLocker ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আপনার আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা অন্যান্য নথি ডিজি লকারে থাকলে আপনাকে আর হার্ড কপি বা জেরক্স সাথে নিয়ে ঘুরতে হবে না।
এর ফলে আবেদন কেন্দ্রে (PSK) সময় অনেক কম লাগে এবং কাগজের ব্যবহার কমেছে।
২. ই-পাসপোর্ট (e-Passport) এবং চিপ প্রযুক্তি
২০২৬ সালে ইস্যু করা বেশিরভাগ পাসপোর্টই হলো ই-পাসপোর্ট।
এই পাসপোর্টে একটি সুরক্ষিত সিলিকন চিপ এবং বায়োমেট্রিক ডেটা থাকবে।
এর সুবিধা হলো বিদেশের ইমিগ্রেশনে আপনাকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, অটোমেটেড গেট দিয়ে দ্রুত বেরোতে পারবেন।
৩. জন্ম তারিখের প্রমাণ (DOB Proof)
আগে জন্ম তারিখের প্রমাণের জন্য অনেক ধরনের নথির প্রয়োজন হতো। এখন:
যাঁদের জন্ম ১ অক্টোবর ২০২৩-এর পরে, তাঁদের ক্ষেত্রে বারার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate) বাধ্যতামূলক।
অন্যদের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বা প্যান কার্ড জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
৪. আবেদন ফিতে ছাড়
নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ফিতে ১০% ছাড় দেওয়া হচ্ছে:
৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্ট আবেদনে ১০% ফি ছাড় পাওয়া যাবে।
৫. পুলিশ ভেরিফিকেশন এখন আরও স্মার্ট
এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন অনেক বেশি ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ।
পুলিশ ভেরিফিকেশন অ্যাপের মাধ্যমে হওয়ার ফলে আবেদন সরাসরি থানায় পৌঁছায় এবং তদন্ত শেষ হওয়ামাত্রই তা পাসপোর্টের দপ্তরে আপডেট হয়ে যায়।
এখন আপনি আপনার মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমেই জানতে পারবেন আপনার ফাইলটি এই মুহূর্তে পুলিশের কোন দপ্তরে আছে।
৬. পারিবারিক তথ্যে নমনীয়তা
পাসপোর্টের শেষ পাতায় এখন অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য কম ছাপানো হচ্ছে নিরাপত্তার খাতিরে।
একক অভিভাবকদের (Single Parent) ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের মধ্যে যে কোনো একজনের নাম দিলেই চলবে।
বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ম্যারেজ সার্টিফিকেট বা অ্যানেক্সচার-কে (Annexure K) দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।
আপনার জন্য টিপস:
আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার আধার কার্ডের তথ্যের সাথে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের তথ্যে কোনো অমিল নেই। ছোটখাটো ভুলের জন্য এখন আবেদন বাতিল হতে পারে।