05/09/2026
হজ থেকে বিমুখতা: শরিয়তের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ —
আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতে হজকে ফরজ ঘোষণা করে বলেছেন — সামর্থ্যবান মানুষের উপর বায়তুল্লাহর হজ করা আল্লাহর হক, আর যে অস্বীকার করে (কুফরি করে), আল্লাহ সমগ্র জগতের মুখাপেক্ষী নন।
লক্ষ্য করার বিষয় — অন্য কোনো ফরজ ইবাদতের আয়াতে “কুফর” শব্দটি এভাবে ব্যবহৃত হয়নি। মুফাসসিরগণ (ইবনে কাসির, কুরতুবি) বলেন, এখানে কঠোর ভাষা ব্যবহারের কারণ হলো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ ত্যাগ করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ আসারে এসেছে — সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে হজ না করে মারা যায়, সে ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মরুক না কেন, তাতে আল্লাহর কিছু যায়-আসে না।
অনীহার মূল হলো — ফিকহি সুযোগের অপব্যবহার;
হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবে হজ ফাওরি — সামর্থ্য হওয়ার সাথে সাথেই আদায় করা ওয়াজিব। শাফিয়ি মাযহাবে তারাখি — বিলম্ব করার অবকাশ আছে। অনেকে না জেনেই বা সুবিধামতো “পরে করব” নীতি আঁকড়ে ধরেন, অথচ শাফিয়ি ফুকাহারাও শর্ত দিয়েছেন যে মৃত্যুর আগে আদায়ের দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে।
তাসউইফ (দীর্ঘসূত্রতা) — শয়তানের প্রধান ফাঁদ;
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, হজের নিয়ত থাকলে দ্রুত করে ফেলো, কারণ কী প্রতিবন্ধকতা আসবে কেউ জানে না (আহমদ, আবু দাউদ)। “বয়স হোক, ছেলেমেয়ের বিয়ে দিই, ব্যবসাটা দাঁড়াক” — এই চিন্তাই বহু মানুষকে কবর পর্যন্ত নিয়ে যায়।
দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি —
সূরা কিয়ামাহতে (৭৫:২০-২১) বলা হয়েছে — তোমরা তাৎক্ষণিক দুনিয়াকে ভালোবাসো আর আখিরাতকে উপেক্ষা করো। সূরা আ’লায় (৮৭:১৬-১৭) — বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত উত্তম ও স্থায়ী। হজের খরচকে “ব্যয়” মনে করা এবং জমি-ফ্ল্যাট-ব্যবসাকে “বিনিয়োগ” মনে করা — এটি ঈমানি দৃষ্টিভঙ্গির দুর্বলতা।
ইস্তিতাআত (সামর্থ্য) নিয়ে বিভ্রান্তি —
শরিয়তে সামর্থ্যের অর্থ — যাতায়াত খরচ, সফরকালীন পরিবারের ভরণপোষণ, শারীরিক সক্ষমতা ও পথের নিরাপত্তা। কিন্তু অনেকে নিজের জন্য এমন উঁচু মানদণ্ড তৈরি করেন যে সারাজীবনেও “সামর্থ্যবান” হন না। বাস্তবে তারা শরিয়তের চোখে বহু আগেই মুস্তাতি হয়ে গেছেন।
গুনাহের কারণে অন্তরে মরিচা —
সূরা মুতাফফিফিনে (৮৩:১৪) বলা হয়েছে — তাদের কৃতকর্মের ফলে অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে। ধারাবাহিক গুনাহ, বিশেষত হারাম উপার্জন, ইবাদতের প্রতি আগ্রহ নিঃশেষ করে দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে হারাম সম্পদের অনুশোচনাও একধরনের অবচেতন বাধা হয়ে দাঁড়ায় — তারা অনুভব করেন এই টাকায় হজ কবুল হবে না, তাই এড়িয়ে চলেন। সমাধান তওবা ও হালাল সম্পদ, হজ ত্যাগ নয়।
জ্ঞানের ঘাটতি —
হজের ফজিলত সম্পর্কে না জানা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ করল এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে (বুখারি, মুসলিম)। এই মর্যাদা জানা থাকলে মানুষ সহজে দেরি করে না।
তাই প্রতিকার হিসাবে —
• সামর্থ্য হওয়ামাত্র নিবন্ধন করে ফেলা — সিদ্ধান্তকে “তারিখবদ্ধ” করা
• আয় থেকে নির্দিষ্ট অংশ হজ ফান্ডে আলাদা রাখা
• হালাল উপার্জন নিশ্চিত করা ও আন্তরিক তওবা
• হজের ফজিলত ও মৃত্যুর আকস্মিকতা নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন
• দোয়া — কারণ হজের তাওফিক আল্লাহর বিশেষ দান
Hammad Travels & Hajj Kafela
01919-877997
hammadtravels97@gmail
Muradpur, Chattogram.