23/03/2017
যেই যেই ভাবে প্রতারিত হতে পারেনঃ
১. আপনার যাত্রি বিদেশ যাচ্ছে। ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় পার হবার পরপরই এয়ারপোর্ট থেকে ফোন পেলেন, আপনার যাত্রি টিকেট হারিয়ে ফেলছে। এখনই নতুন টিকেট না করলে যেতে পারবে না। ইমার্জেন্সি বিকাশ করতে হবে। আপনি যাত্রির সাথে কথা বলতে চাইলে, হাংকি বাংকি বলবে। যাত্রি টিকেট হারিয়ে অজ্ঞান, বেদিশা কিংবা অজ্ঞান পার্টি অজ্ঞান করে টিকেট নিয়ে গেছে, এখও হুশ আসে নাই। আপনারে বুঝতে হবে এখন ই-টিকেটের যুগ। টিকেট হারালেও কোন সমস্যা নেই। মূলতঃ টিকেটের কেনার সময় প্রদত্ত ইমার্জেন্সী নাম্বার (আপনারটি) এ চক্রটি কোন না কোনভাবে সংগ্রহ করে থাকে এবং যাত্রি ফ্লাইটে ওঠে মোবাইল বন্ধ করার পর এ নাটক শুরু করে।
২. যাত্রি চলে গেছে। আপনি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের নামে ফোন পেলেন, যাত্রিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদম বলে আটকে দিয়েছে। এক লাখ টাকা জরিমানা করছে। বিকাশ না করলে এক্ষুণি জেলে যাবে, আর জরিমানা দিলে সশরীরে বাড়ি ফেরত যাবে। পাঠিয়ে দিলেন। চার-পাঁচ ঘন্টা পর যাত্রী আপনারে ফোন করে বললেন, ভাইয়া আমি ঠিকঠাক মত সৌদি পৌঁছছি। আপনি বেহুশ... :(
৩. বিভিন্ন বিক্রয় ওয়েবসাইটে নামমাত্র মূল্যে ব্রান্ড নিউ ইলেকট্রনিক্স বিক্রির এ্যাড দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না। প্রদত্ত নাম্বারে ফোন দিলেন। টুক করে কেটে দিয়ে আপনাকে একটা মেসেজ দেবে... আমি কাস্টমস হাউজ থেকে এটি সংগ্রহ করেছি, আপনি টাকা বিকাশ করলে আমার পিয়ন আপনাকে অমুক জায়গায় জিনিষ পৌঁছে দেবে। রাজী থাকলে বিকাশে টাকা পাঠান। আপনি টাকা বিকাশ করে অমুক জায়গায় গিয়ে বসে বসে মশার কামড় খাচ্ছেন। পিয়ন আসে না :(
৪. অনলাইনে স্মার্ট বিদেশী সেজে আপনার সাথে খাতির জমালো (আপনি ছেলে হলে সে মেয়ে, আর আপনি মেয়ে হলে সে ছেলে)। একদিন মেসেজ দিলো, আপনার জন্য বিরাট সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। পরদিন কাস্টমসের নামে ফোন পেলেন, 'অমুক' আপনার জন্য গিফট-কার্টন পাঠিয়েছেন। ভেতরে রেবন, রাডো, আইফোন, অর্নামেন্টস, ব্লা ব্লা। ৬০ হাজার টাকা ট্যাক্স বিকাশ করলে মাল ক্লিয়ার হবে, কোরিয়া সার্ভিস আপনার বাসায় পৌঁছে দেবে। আপনার তর সহে না, টাকা পাঠিয়ে দিলেন। এরপর বাসায় ফকির কলিং বেল টিপলেও লাফাইয়া দরজা খোলেন, কার্টন আসে না :(
৫. বিদেশী মেয়ে সেজে আপনার সাথে ফেইসবুকে খাতির জমালেন এবং আপনার দেশে ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করলেন। একদিন ইমিগ্রেশনের নাম করে আপনার কাছে ফোন আসলো, আপনার সেই বিদেশী বান্ধবী 'অমুক' ইমিগ্রেশনে আটকা পড়ছে। ওনার ক্রেডিট কার্ড কাজ করছে না। ভিসাসহ যাবতীয় খরচ একান্ন হাজার পাঁচ'শ পঞ্চাশ টাকা, ইমার্জেন্সি বিকাশ করতে হবে। এ দিকে আপনি আরেক নম্বর থেকে মেসেজ পেলেন, সুইট হার্ট আয়াম ইন ট্রাবল এট এয়ারপোর্ট.. ব্লা ব্লা। আপনি টাকা পাঠিয়ে দিলেন। সুইট হার্ট আর আসে না, লজ্জায় কাউরে কইতেও পারছেননা :(
কি করবেন?
১. মাথা খাটান
২. লোভ সামলান
৩. নিকটস্থ থানায় জিডি করুন
৪. প্রয়োজনে আমাদেরকে নক করুন
(জেনে রাখা ভালো, এসব প্রতারকরা এয়ারপোর্টের আশেপাশেই আসে না। ঢাকায় দূরবর্তী এলাকায় কিংবা আশেপাশের জেলায় বসে বসে প্রতারণার জাল বুনে)