06/04/2026
কোন বই , গল্প, উপন্যাস যদি লম্বা সময় ধরে পড়তে থাকি আর সেটা যদি আমার প্রতিদিনের একটা অংশ হয়ে যায়-তাহলে শেষের দিকে আমার খুব মন খারাপ হতে থাকে । বার বার মনে হয় কটা পেজ রেখে দেই । আমার একটা অদ্ভুত স্বভাব ও আছে আমি এক সাথে অনেক গুলো বই পড়ি । টিভি channel change করার মত যখন যেটা ভাল লাগে পড়তে থাকি আবার বন্ধ করে দিয়ে অন্য কোন genre ধরি।
গত রমজান মাসের আগের ২ মাস থেকে আমি শুধু ধর্মীয় বই পড়েছি । অন্য কিছু কেন জানি আমাকে আর টানে নি । আমি সকল কাজ হতে অব্যহুতি নিজ ইচ্ছায় নিয়েছি শুধু মাত্র আরেকটু জানার জন্য আর আমার ধর্মকে সময় দেয়ার জন্য । রমজানে এসে আমি এটা ধরেছি । অর্থ সহ পড়ার চেষ্টা করেছি অনেক আগে থেকে তবে এভাবে নিয়ম করে আর মন থেকে পড়া হয় নি । সাথে ছিল আরও কিছু বই -শানে নুযুল, উদ্দেশ্য, উপলব্ধির জন্য । আর আমার diary - বিশেষ কথা গুলো মনে রাখার জন্য । অতএব সারাদিন জান প্রান দিয়ে পড়লেও খুব বেশি আগানো যায় না । শুরু তে অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম । ধীরে ধীরে উপলব্ধি করলাম এটি আমার সাথে কথা বলছে । আমি প্রতিনিয়ত যা কিছু করি বা চিন্তা করি এটি আমাকে সবসময় পথ দেখাচ্ছে অথবা সমাধান দিচ্ছে ।
এর আগে আমি যত বার কুরআন পড়েছি তত বার শুধু শাস্তির কথা পড়েছি । কেনই বা ভয় পাব না । ১ম দুটো সূরা বেশ আতংকিত করে দেয় । তবে শাস্তি কাদের জন্য ???একটু ভাল মত পড়লে দেখা যায় এসব শাস্তি- মুনাফিক দের জন্য , যারা কুফরি করে , যারা আল্লাহ কে অন্যের সাথে শরিক করে তাদের জন্য । যারা নিজেদের উপর জুলুম করে অহংকার, লালসা , অন্যের হক নস্ট করে ,দুর্বলের উপর অন্যায় করে তাদের জন্য ও শাস্তি আছে তবে ক্ষমার কথাও বলা আছে অসংখ্য বার । নিজের আত্ব উপলব্ধি আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ, তার নিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য প্রকাশ, মানুষ ও জীবের প্রতি ভালোবাসা, আমাদের পূর্বপুরুষ নবী রাসুলদের সংগ্রামী জীবনের গল্প, সেসব গল্প থেকে আমাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতাকে কি করে অবলম্বন করে দুনিয়া আর আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনতে পারব সেসব শিক্ষা এই কিতাব ছাড়া কোথাও নেই । এক দিনে এ কিতাবের বর্ননা দেয়া সম্ভব নয়। একে নিয়ে লিখতে গেলে আমার পুরো জীবন পার হয়ে যেতে পারে ।
ছোটবেলায় দেখেছি আমার বাবা আর দাদীকে কুরআন বুঝে পড়তে । তারা চেসটা করতেন তাদের অন্তরে কুরআন ধারন করতে । তাদের কাছ থেকে শুনে আসা নবীদের গল্প আর কুরআনে যা লেখা আছে সব এ বয়সে এসে মিলিয়ে নিচ্ছি - অনেক নতুন কিছু জেনেছি। একই গল্প অনেক dimension এ বার বার পেয়েছি। একই কথা বার বার বলা হয় কুরআনে — অনেকে তিলাওয়াতের সময় হয় তো খেয়াল করেছেন । তারাবির সময় দিনের বেলায় অর্থ সহ তেলাওয়াত পড়া শব্দ গুলো ইমামের কাছ থেকে শুনে - চোখ ও ভিজে উঠেছে কতবার । এতবছর পর এসে জীবনের ১৬ আনাই মিছে লাগলো।
অনেকের কুরআন এর প্রতি একটি ভীতি কাজ করে , ইসলাম ধর্মের প্রতি ও একটা অনীহা প্রকাশ করে নানান ধরণের মানুষের বানানো নিয়ম কানুনে । তাদের কে আমি বলব - কুরআন পড়তে। কারন কুরআন আমাদের সাথে কথা বলে । সকল সমস্যার সমাধানও দেয় । এবং আমার উপলব্ধি হল - আপনি যেমন আপনি কুরআন পড়ে যেটা ভাববেন , একই কথা আমি পড়লে একটু অন্য ভাবে ভাববো । তাই অন্তত্ব কুরআন টা একদম নিজের মত করে পড়া উত্তম। কারন একেক জনের interpretation একেক রকম হয় । আর একটা কথা না বললেই নয় — ইসলাম এতটা কঠিন না যত টা না মানুষ একে কঠিন বানিয়েছে।
ধর্ম চর্চা, দান খয়রাত প্রকাশ্যে লোক দেখানোর কারনে করাতে আমার বেশ আপত্তি আছে। কবে এটা একটা অনুভূতি যা আমি অন্যদের সাথেও share করতে চাই । কারন আমিও হয় তে কারও না কারও কাছ থেকে শুনেই এটা শুরু করেছি। যেখানে আমার husband Arabic course করে আরবি শিখে কুরআন বুঝার প্রকৃতিতে গিয়েছে। সেখানে আমি অত্যন্ত সহজ পদধতি অবলম্বন করেছি । অথচ কারও প্রক্রিয়াতে কোন ভুল নেই । অদ্ভুত ব্যাপার যখন কোন কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করি দেখি আমার আশেপাশের লোকজন ও আমার মত ভাবে । আল্লাহ আমার জীবনে কি করে জানি একই রকমের মানুষ এক সাথে পাঠিয়েছেন । যাদের সাথে কিতাব নিয়ে আলোচনা করা যায় । এসব মহান আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন নয় তো কি !! অন্য ধর্মের প্রতি পড়াশোনা আর জ্ঞান থাকার কারনেই আমার জন্য নিজের ধর্ম টাকে বুঝতে আরও সহজ হয়েছে।
আমার লেখার হাত কেমন আছে এখন আমি জানি না তবে আমার যে এত file file করে লেখা জমে আছে সব বৃথা লাগছে কারন আমি আমার এত সহজ ধর্মটাকে নিয়ে কিছু তেমন লিখি নি । সব সময় মনে হয়েছে আমাদের ধর্মের বেশির ভাগ লোকই সংকীর্ণ মনের অধিকারী। কি লিখব এদের জন্য । অতঃপর আমার জীবনে কুরআন এলো । আমি শুধু দেখলাম জীবনে আলো আর আলো । এরপর আমি দোয়া করলাম আল্লাহর কাছে - জীবনের একটা ভাল কাজ যেন আমি করে যেতে পারি । যেন আমি কুরআন নিয়ে একটা বই লিখে যেতে পারি । (আমিন)
মনটা একটু একটু খারাপ । শেষ হতে চললো সে । এতদিন যে আমার সাথী ছিল । তবে আনন্দের ব্যপার এই যে — এখন থেকে এটি আমার সংগী হয়ে থাকবে।in sha Allah.. ❤️
©️Faria Afroz